বিয়ে ঠিক হয়েছে পারুলের। তার বিয়ের খবরে দারুণ খুশি রায়ান। কিন্তু কেন? পারুলের সঙ্গে কি তবে কোনওদিনই মিল হবে না রায়ানের! এদিকে বাড়িতেও চলছে বিয়ের তোড়জোড়। কী হবে শেষমেশ? জানতে আজকাল টেলিভিশন পৌঁছে গিয়েছিল ইন্দ্রপুরী স্টুডিওয়, জি বাংলার ধারাবাহিক ‘পরিণীতা’র শুটিং ফ্লোরে।
কেমন জমেছে ‘কলেজ রোম্যান্স’?
চলছে গায়ে হলুদের পর্ব। একদিকে বসেছে নহবত, অন্যদিকে ভাজা হচ্ছে গরম জিলিপি। গোটা সেটজুড়ে যেন বিয়ের মরশুম। দিনের আলো থাকতে থাকতেই করতে হবে প্রোমো শুটিং। তাই তাড়াহুড়ো করে চলছে কাজ। গোধূলির আলো এসে পড়েছে মণ্ডপে। তাই চারদিকে লাইটের ব্যবস্থা করছেন টেকনিশিয়ানরা। বাকিদের ছুটি হলেও এখনও পরবর্তী দৃশ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে রায়ান ও পারুলকে। মিনিট পনেরো পর হাতে এক কাপ চা নিয়ে হাসিমুখে হাজির পর্দার ‘পারুল’ ওরফে নবাগতা ঈশানি চট্টোপাধ্যায়। তার পিছু পিছু হেঁটে এলেন ‘রায়ান’ ওরফে অভিনেতা উদয় প্রতাপ সিং।
কলেজের ‘রোমিও’ রায়ান। বাস্তবে উদয়ও কি কলেজের রোমিও ছিলেন? হাসতে হাসতে অভিনেতার জবাব, “একেবারেই নয়। আমার ফিল্মি দুনিয়া ছিল না কলেজ লাইফটা। খুব সাদামাটা ছিলাম। বন্ধুদের সংখ্যাও খুব বেশি ছিল না। তবে স্বপ্ন ছিল একদিন কলেজের সবাই চিনবে একডাকে। মেয়েদের মাঝে পপুলার হব। সেই স্বপ্ন তখন না পূরণ হলেও এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে হচ্ছে।” ঈশানির কলেজ লাইফ কেমন কেটেছে? একটু লজ্জা পেয়ে অভিনেত্রী বলেন, “এখনও চলছে। তবে একটাই দুঃখ গার্লস কলেজে পড়ি। কিন্তু পারুলের মতো আমায়ও সেইভাবে কেউ কোনওদিন প্রেম নিবেদন করেনি। অনেককে আমার ভাল লেগেছে, বলতে পারিনি। কিন্তু ওই যে কথায় আছে না, ‘কলেজের প্রেম’, সেটা হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।”
সেরা জুটির লড়াইয়ে
টিআরপির লড়াইয়ের মতো সেরা জুটির লড়াইও চলে। কতটা জোড়ালো প্রতিযোগিতা? “আমরা নিজেদের সেরাটা দর্শকের সামনে তুলে ধরতে চাই। সবাই মিলে খুব চেষ্টা করছি, যাতে দর্শকের ভালবাসা পাই। কিন্তু দিনশেষে বিচারের মাপকাঠিটা দর্শকের হাতেই থাকে। তাই আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব, বাকিটা ভাগ্য”- বললেন উদয়। প্রথম ধারাবাহিকে নায়িকার চরিত্রে অভিনয়, কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন? ঈশানির কথায়, “প্রথমে খুব ভয় পেতাম। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় আমি অ্যাক্টিভ নই। তারপর যখন ফ্যানপেজ তৈরি হল, ফলোয়ার্স বাড়তে থাকল রোজ, তখন মনে হল স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।”
সন্ধে হয়ে এসেছে। আউটডোর শুট বন্ধ করে ফ্লোরের ভিতরে চলছে পরবর্তী দৃশ্যের আয়োজন। ফ্লোর ম্যানেজার এসে নায়ক-নায়িকাকে দিয়ে গেলেন স্ক্রিপ্ট। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে চলল পরবর্তী দৃশ্য ঝালিয়ে নেওয়া।
















