তামিলনাড়ুর ১৩তম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে থলপতি বিজয় শপথ নিয়েছেন রবিবার৷ শপথগ্রহণের পরদিন সোমবার ইনস্টাগ্রামে এক রহস্যময় পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান। 

তিনি লিখেছেন, 'ভালবাসা সবসময় সোচ্চার', (The love is always louder)। এর সঙ্গে তিনি লিখেছেন, "আমার প্রিয় মানুষদের ধন্যবাদ।” দীর্ঘদিন ধরেই থালাপতি বিজয়ের সঙ্গে তৃষার সম্পর্কের গুঞ্জন। এই পোস্ট সেই গুঞ্জনে যেন ঘৃতাহুতি দিল৷ 

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তৃষা পরেছিলেন আকাশী-সবুজ (seafoam-green) কঞ্জিভরম সিল্ক শাড়ি। সোনালি জরি-বর্ডার ও ক্রিম-রঙের ব্লাউজ় সঙ্গে। চুলে সাদা জুঁই ফুলের গজরা, লাল-পাথরের মিনিমাল গয়না— সম্পূর্ণ ঐতিহ্যবাহী লুক। 

১০ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণে মায়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিজয়ের প্রথম ভাষণের সময় তৃষাকে কাঁদতে দেখা গিয়েছে৷ বিজয়ের পরিবারের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বাইরে বেরোনোর সময় মিডিয়ার প্রশ্নের জবাবে মৃদু হেসে তিনি বলেছিলেন, “ধন্যবাদ। আগামীর অপেক্ষায়।”

তৃষা ও বিজয়ের ‘গোপন প্রেম’ নিয়ে চর্চা নতুন নয়। ‘ঘিল্লি’ (২০০৪), ‘থিরুপাচি’, ‘কুরুভি’, ‘আথি’, ‘লিও’ (২০২৩)— এই সব ছবিতে এই জুটি বহুদিন ধরেই দর্শকের ভালবাসা পেয়েছে৷  কিন্তু গুঞ্জন তীব্র হয় ২০২৪-এর জুনে— যখন বিজয়ের জন্মদিনে নিজের পোষ্য কুকুর ইজ়ির সঙ্গে বিজয়ের একটি অপ্রকাশিত ছবি তৃষা পোস্ট করেন, ক্যাপশনে লেখেন, শুভ জন্মদিন সবথেকে ভালমানুষ। “Happy Birthday bestest”। সঙ্গে ছিল ভালোবাসা, ইনফিনিটি ও ইভিল-আই ইমোজি।

এরপর জুন ২০২৫-এ আরেকটি ক্রিপ্টিক পোস্ট— “যখন তুমি ভালোবাসায় পূর্ণ, তখন অন্যদের কাছে তা বিভ্রান্তিকর মনে হয়।” ২০২৪-এর ডিসেম্বরে কীর্তি সুরেশের বিয়েতে দু’জনে একসঙ্গে গিয়েছিলেন৷ 

সাম্প্রতিক ‘থাগ লাইফ’ প্রেস মিটে বিয়ে সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ৪৩-বছরের তৃষা বলেছিলেন, “আমি বিয়েতে বিশ্বাস করি না। হলে ঠিক আছে, না হলেও ঠিক আছে।” বিজয়ের সঙ্গে সম্পর্কের কথা দু’জনের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার বা অস্বীকার করেননি।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিজয়ের স্ত্রী সঙ্গীতা সর্ণালিঙ্গম ও দুই সন্তান অনুপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি সঙ্গীতা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন বলেও জানা গিয়েছে৷ যেখানে তিনি বিজয়ের ‘এক অভিনেত্রী’-র সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলেছেন। তবে কোনো নাম উল্লেখ নেই। 

ত্রিশার রহস্যময় ক্যাপশনের পর সোশ্যাল মিডিয়া দ্বিধাবিভক্ত। একদল ভক্ত উচ্ছ্বসিত— “অবশেষে অপেক্ষার অবসান!” আরেক দল প্রশ্ন তুলছেন বৈবাহিক সম্পর্কের মর্যাদা নিয়ে।