ইস্টবেঙ্গল - ৩ (বিপিন, এজেজ্জারি -২)

ওড়িশা - ০ 

আজকাল ওয়েবডেস্ক: এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। ইউসেফ এজেজ্জারির ক্ষেত্রে এই বাক্যটি প্রযোজ্য। স্প্যানিশ তারকার জোড়া গোলে জয়ে ফিরল ইস্টবেঙ্গল। ৯ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে চার নম্বরে উঠে এল অস্কার ব্রুজোর দল। সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা মোহনবাগানের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্টের পার্থক্য মাত্র দুই। প্রথমার্ধের শেষে এক গোলে এগিয়ে ছিল লাল হলুদ। দ্বিতীয়ার্ধে জয় নিশ্চিত করেন এজেজ্জারি। লাল হলুদ জার্সিতে শুরুটা দারুণ করেছিলেন। কিন্তু মাঝে গোলের খরা। অবশেষে সেটা কাটল। গোয়ায় করলেন জোড়া গোল। মোট গোল সংখ্যা ৯। মোহনবাগানের জেমি ম্যাকলারেনকে টপকে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় একনম্বরে ইস্টবেঙ্গলের ফরোয়ার্ড। এদিন মাঠে নামার তিন মিনিটের মধ্যে গোল। ৬৭ মিনিটে অ্যান্টন সোবার্গের পরিবর্তন নামেন। ৭০ মিনিটে প্রথম গোল। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ড্র-এর পর জয়ে ফিরল ইস্টবেঙ্গল। 

বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ধুন্ধুমার ম্যাচের পর এদিন প্রথম একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করেন অস্কার ব্রুজো। কার্ডের জন্য ছিলেন না মিগুয়েল। মাঝমাঠ সচল রাখার দায়িত্ব বর্তায় সল ক্রেসপোর ওপর। স্প্যানিশ তারকার সেই আগের গেম প্লে নেই। যার ফলে মিডল করিডোর দিয়ে খুব বেশি আক্রমণে যেতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। মূলত দুই উইং দিয়েই আক্রমণে উঠছিল অস্কারের দল। পিভি বিষ্ণু এবং বিপিন সিংয়ের কম্বিনেশনে বেশ কয়েকবার বিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়ে লাল হলুদ ব্রিগেড। কিন্তু নৈপুণ্যের অভাব। নয়ত বিরতিতে অন্তত তিন গোল এগিয়ে যেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। দুটো সিটার নষ্ট নন্দকুমারের। বিষ্ণুর ক্রস থেকে নিশ্চিত হেড মিস করেন। 

নির্বাচনের জন্য ইস্টবেঙ্গল-ওড়িশা ম্যাচ গোয়ায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন প্রথম একাদশে রশিদ, এজেজ্জারি, আনোয়ারকে রাখেননি অস্কার। কার্ড এবং চোটের জন্য ছিলেন না মিগুয়েল এবং নাওরেম মহেশ। প্রথম একাদশের পাঁচজন প্লেয়ার ছাড়াও শুরুটা খারাপ করেনি ইস্টবেঙ্গল। এবার ধারে, ভারে, ছন্দে অনেকটাই পিছিয়ে ওড়িশা। শেষ চার ম্যাচ জিততে পারেনি। তুলনায় কমজোরী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশের তিন-চারজন নিয়মিত প্লেয়ারকে বসানোর ঝুঁকি নেন ব্রুজো। রশিদ, আনোয়ারের হালকা চোট ছিল। তাই কোনও ঝুঁকির পথে হাঁটেননি অস্কার। ওপরে এডমুন্ড, সোবার্গ এবং নন্দকুমারকে রেখে শুরু করেন লাল হলুদের স্প্যানিশ কোচ। ম্যাচের প্রথমদিকে দুই উইং দিয়ে ঝড় তোলেন বিপিন এবং বিষ্ণু। ম্যাচের ১১ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেয় এই জুটি। বাঁ দিক থেকে পিভি বিষ্ণুর নিখুঁত ক্রসে পায়ের আলতো টোকায় গোল বিপিন সিংয়ের। একেবারে ঠিকানা লেখা পাস। নিজের ১৫০তম আইএসএল ম্যাচে স্কোরশিটে নাম তোলেন বিপিন। 

শেষ তিন ম্যাচে ১৩ গোল করে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু এদিন লকগেট খোলেনি। বিরতিতে মাত্র ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল লাল হলুদ। যদিও গোল সংখ্যা আরও বাড়তে পারত।প্রথমার্ধের শেষদিকে বিষ্ণুর শট সরাসরি তালুবন্দি করেন ওড়িশার গোলকিপার অনুজ। শুরুতেই এক গোলে এগিয়ে গেলেও, ম্যাচের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টেম্পো পড়ে যায়। গোয়ার গরম এবং আর্দ্রতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা কসরত করতে হয় ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের। বিরতির পর বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সৌভিকের পরিবর্তে রশিদকে নামান অস্কার। সোবার্গকে তুলে নামান এজেজ্জারিকে। নেমেই কাটান গোলের খরা। ৭০ এবং ৮৩ মিনিটে জোড়া গোল করেন স্প্যানিয়ার্ড। প্রথম গোল ফিরতি বলে। পরিবর্ত ফুটবলার জয় গুপ্তর শট বাঁচান ওড়িশা কিপার। বল জেরির নাগালের বাইরে গেলেও, ফিরতি শটে গোল এজেজ্জারির। ৮৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের হয়ে তৃতীয় গোল। বিপিনের ক্রস থেকে তেকাঠিতে বল রাখেন এজেজ্জারি। একেবারে সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকারের মতো সঠিক জায়গায় অপেক্ষা করছিলেন। মরশুমে দ্বিতীয়বার হ্যাটট্রিকের হাতছানি ছিল স্প্যানিশ মরক্কনের সামনে। কিন্তু সেটা না হলেও, দলকে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেন।