আজকাল ওয়েবডেস্ক: বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করার কথা ছিল পর্তুগালের। কিন্তু পরিকল্পনামাফিক যায়নি। ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ১-১ গোল ড্র হওয়ার পর, সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং তাঁর সতীর্থরা। তারমধ্যে অনেকে আবার সিআরসেভেনের পক্ষে সওয়াল করেন। ভক্তদের একাংশের দাবি, ম্যাচে ইচ্ছাকৃতভাবে রোনাল্ডোকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিতর্ক আরও বেড়ে যায় পর্তুগিজ তারকার বোন কাতিয়া আভেইরোর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পর। কী লিখেছিলেন তিনি?
পোস্টে পর্তুগালের খেলার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কাতিয়া লেখেন, 'আশ্চর্যজনকভাবে ওরা বল পাস করতে ভুলে যায়। বল উইন করা, কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়া, সব ভুলে যায়। গোটা ম্যাচে শুধু মাঝমাঠে পাসিং এবং ব্যাকপাস করা হয়। অদ্ভুত বিশ্বকাপ। খুবই অদ্ভুত।' বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট পর্তুগাল তাঁদের থেকে অনেকটাই দুর্বল কঙ্গোর রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে সবচেয়ে বর্ষীয়ান প্লেয়ার হিসেবে রেকর্ড করেন রোনাল্ডো। তবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারেননি। পুরো ৯০ মিনিট খেলে মাত্র ২৫টি টাচ। তারমধ্যে গোল লক্ষ্য করে কোনও শট নেই।
ম্যাচের পর কোচ রবার্তো মার্টিনেজ এবং কয়েকজন পর্তুগিজ প্লেয়ারকে নিয়ে সমালোচনা চলছে। রোনাল্ডো ভক্তরা দাবি করছে, দলের অধিনায়ককে আক্রমণে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। ম্যাচ শেষে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিটিনহা, জোয়াও নেভেস এবং পেদ্রো নেটোকে টার্গেট করা হয়। তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া বিরূপ বার্তায় ভেসে যায়। সবচেয়ে বেশি টার্গেট করা হয় নেভেসকে। তিনি বলেছিলেন, 'রোনাল্ডোকে পর্তুগালের আরও একজন প্লেয়ার হিসেবে ধরা উচিত।' এই মন্তব্য মেনে নিতে পারেনি ভক্তরা। পর্তুগিজ মিডিয়া রিপোর্টে ড্রেসিংরুমে ঝামেলার আগাম সতর্কবার্তা দেয়। তবে রোনাল্ডোকে ইচ্ছাকৃতভাবে বল দেওয়া হয়নি, এই তথ্যে সায় দেয়নি কেউ। তারকা ফুটবলারের পারফরমেন্স নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ড বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোল করলেও, স্কোরবোর্ডে নাম লেখাতে পারেননি পর্তুগালের অধিনায়ক। তাই বিষয়টি আরও বেশি চোখে পড়ছে।
ম্যাচের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনও বাক্যালাপ করেননি রোনাল্ডো। তবে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'এমন শুরু আমরা চাইনি। তবে এটাই শেষ নয়। আমরা পরের ম্যাচে ফোকাস করব।' তাঁকে কেন ৯০ মিনিট খেলানো হল, সেই নিয়ে পর্তুগাল কোচকে প্রশ্ন করা হয়। তবে তারকা ফুটবলারের পাশেই দাঁড়ান মার্টিনেজ। বলেন, 'গোল দরকার ছিল। সেই সময় বিশ্বের সেরা স্কোরারকে বসিয়ে দেওয়ার মানে হয় না। বক্সে ক্রিশ্চিয়ানোর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।' কঙ্গোর বিরুদ্ধে নিজের ২২৯তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেলেন সিআরসেভেন। যা যেকোনও প্লেয়ারের দেশের জার্সিতে সর্বোচ্চ। ছয় বিশ্বকাপের মধ্যে সেরা ২০০৬ সালে। সেমিফাইনালে ওঠে পর্তুগাল। ফুটবল জীবনের শেষ বিশ্বকাপে দলকে কতদূর নিয়ে যেতে পারবেন? বলবে সময়।















