আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্যানসাস সিটিতে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের পর একই রাতে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার পার্থক্যে চূড়ান্ত ব্যর্থ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। বুধবার ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে নাস্তানাবুদ পর্তুগিজ তারকা। বয়সের ভারে ফর্ম খুঁজে পেতে হিমশিম খেলেন। টেক্সাসের হাউস্টন স্টেডিয়ামে নতুন ভূমিকায় মানিয়ে নিতে পারেননি। ২৫টি টাচের মধ্যে গোল লক্ষ্য করে একটিও শট নেই। যেকোনও স্ট্রাইকারের জন্য এই পরিসংখ্যান লজ্জার। কিন্তু আমরা আলোচনা করছি আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরাকে নিয়ে। তাতেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি শেষের পথে সিআরসেভেন? 

জোয়াও নেভেসের গোলে দারুণ শুরু করে পর্তুগাল। মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্ড সিলভা, ভিটিনহার উপস্থিতিতে মাঝমাঠে ক্রিয়েটিভিটির খামতি ছিল না। মাত্র ২৫ মিনিটের খেলার পর, প্রতিপক্ষের থেকে ২০০ পাস বেশি খেলে পর্তুগাল। কিন্তু সমস্যা ফিনিশিংয়ে। গোল করার মতো জায়গায় পৌঁছতে পারেনি। স্ট্রাইকার হিসেবে রোনাল্ডোর মধ্যে ক্রিয়েটিভিটি ছিল না। পাশাপাশি নৈপুণ্যের অভাব। নেভেসের গোলের পর গোটা ম্যাচে গোল লক্ষ্য করে মাত্র ৬টি শট নিয়েছে পর্তুগাল। ফলে তুলনায় অনেক কমজোরী কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোল ম্যাচ ড্র হয়। তবে সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল, পর্তুগালের থেকে তাঁদের শট বেশি ছিল।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বর্ষীয়ান প্লেয়ার হিসেবে ম্যাচ শুরু করার রেকর্ড করেন রোনাল্ডো। পর্তুগিজ তারকার বয়স ৪১ বছর ১৩২ দিন। কানাডার আতিবা হাচকিনসনের রেকর্ড ভাঙেন। সবাই বলে, বয়স সংখ্যামাত্র। কিন্তু সব ক্ষেত্রে সেটা কার্যকরী হয় না। কেরিয়ারের শুরুতে উইঙ্গার ছিলেন সিআরসেভেন। গতি এবং শারীরিক ক্ষমতা দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন। তবে গত কয়েক বছরে মূলত সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ডের ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। বর্তমান পর্তুগাল দলে, মাঝমাঠে নেমে দলকে বিল্ড আপে সাহায্য করেন না। একমাত্র লক্ষ্য গোল করা। কিন্তু বিশ্বকাপ এবং ইউরোর শেষ ১০টি ম্যাচে গোল পাননি রোনাল্ডো। এর থেকেই স্পষ্ট, কতটা হিমশিম খাচ্ছেন। 

পরের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নেই। সৌদি প্রো লিগে ৩০ ম্যাচে ২৮ গোল করেন পর্তুগিজ তারকা। পরিসংখ্যান তাঁর তৈরি থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি দেশের জার্সিতে তাঁর পরিসংখ্যান দেখলে আঁতকে উঠতে হবে। মেজর প্রতিযোগিতার শেষ চার ম্যাচে ৪২০ মিনিটের মধ্যে ৩৯৬ মিনিট খেলেন সিআরসেভেন। এই ম্যাচগুলোতে পর্তুগাল মাত্র একবার গোল করেছে। রোনাল্ডো শুরু করলে ম্যাচ প্রতি দলের গোলের গড় ১.৯। কিন্তু তারকা ফুটবলার প্রথম একাদশে না থাকলে সেটা বেড়ে হয় ২.৮। মেসির সঙ্গে তুলনা নতুন নয়। তবে আর্জেন্টাইন তারকার গতি কমলেও, পায়ের কাজে বাজিমাত করেন। পাশাপাশি দলকে গোল করতেও সাহায্য করেন। বা লং রেঞ্জার শট নেন।

এদিকে পর্তুগালে ব্রুনো, ভিটিনহাদের মতো সুযোগ তৈরি করার ফুটবলার রয়েছে। কিন্তু রোনাল্ডোর গোল মিসের প্রভাব পড়ে দলের খেলায়। কঙ্গোর বিরুদ্ধেও ম্যাচের রাশ ছিল পর্তুগালের হাতে। কিন্তু গোলের মুহূর্ত আসেনি। অথচ রোনাল্ডোকে ৯০ মিনিট খেলানো হয়। বিশ্বফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোল মেশিনকে তুলে নেওয়ার সাহস দেখাতে পারেননি পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। তবে ভুললে চলবে না, সম্প্রতি বিশ্বমঞ্চে ডাহা ব্যর্থ রোনাল্ডো। মনের জোর থাকলেও, নিজের স্বাভাবিক খেলা উপহার দেওয়ার মতো জায়গায় নেই। গোল করা, গোল করানো, কোনও কিছুতেই আর কাজে লাগেন না। বর্তমানে পুরোনো রোনাল্ডোর ছায়া হয়ে থেকে গিয়েছেন। সুপারস্টার পর্তুগাল দলের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা। যা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে।