আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটার অজিঙ্কে রাহানে। ৩০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর ঘোষণা করেন তিনি। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে পরিচিত রাহানে ২০২০-২১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি জয়ে স্ট্যান্ড-ইন অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নাম উজ্জ্বল করে রেখেছেন।
2
9
ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন রাহানে। তবে এই সময়েও আর্থিকভাবে বিসিসিআইয়ের সহায়তা পাবেন তিনি। ২০২২ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটারদের পেনশনের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, ৮৫টি টেস্ট খেলা রাহানে সর্বোচ্চ পেনশন ক্যাটাগরিতে পড়ছেন।
3
9
আগে এই শ্রেণির ক্রিকেটাররা মাসিক ৫০ হাজার টাকা পেনশন পেলেও, তা বাড়িয়ে ৭০ হাজার টাকা করা হয়। ফলে এখন থেকে রাহানে প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকা করে পেনশন পাবেন। তৎকালীন বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির আমলেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
4
9
সেই সময় সৌরভ গাঙ্গুলি বলেছিলেন, “আমাদের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেটাররাই ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাণ, তাই তাঁদের খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পরও পাশে থাকা বোর্ডের দায়িত্ব। একইভাবে আম্পায়ারদের অবদানও অত্যন্ত মূল্যবান।”
5
9
ভারতের হয়ে রাহানে ৮৫টি টেস্ট, ৯০টি একদিনের আন্তর্জাতিক (ওয়ানডে) এবং ২০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। অবসরের পর তিনি ঠিক কোন ভূমিকায় দেখা দেবেন, তা এখনও স্পষ্ট করেননি। তবে ভবিষ্যতে তরুণ ক্রিকেটারদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি।
6
9
তবে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য—রাহানের এই পেনশন তখনই বহাল থাকবে, যতদিন তিনি বিসিসিআইয়ের অধীনে কোনও আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন না করবেন। যদি ভবিষ্যতে তিনি বোর্ডের কোচ, প্রশাসক বা অন্য কোনো বেতনভুক্ত পদে যোগ দেন, তাহলে সেই সময়ের জন্য তাঁর পেনশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
7
9
ভারতের টেস্ট ইতিহাসে তিনি এমন এক বিরল কীর্তির মালিক, যা খুব কম অধিনায়কের ঝুলিতে রয়েছে। ভারতের হয়ে ছ'টি টেস্টে অধিনায়কত্ব করে রাহানে কখনও হারেননি। তাঁর নেতৃত্বে ভারত জিতেছে চারটি ম্যাচ এবং দু'টি ম্যাচ ড্র করেছে। ভারতের ৩৮ জন টেস্ট অধিনায়কের মধ্যে মাত্র চারজনই অপরাজিত থেকে নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ করেছেন। তবে তাঁদের মধ্যে একমাত্র রাহানেই বিদেশের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন।
8
9
রাহানের নেতৃত্বের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় ২০২০-২১ সালের বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি। অ্যাডিলেডে মাত্র ৩৬ রানে অলআউট হয়ে বড় পরাজয়ের পর সিরিজে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই সময় নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি পিতৃত্বকালীন ছুটিতে দেশে ফিরে গেলে নেতৃত্বের দায়িত্ব এসে পড়ে রাহানের কাঁধে।
9
9
দায়িত্ব পেয়েই মেলবোর্ন টেস্টে খেলেন দুর্দান্ত ১১২ রানের ইনিংস। তাঁর সেঞ্চুরির উপর ভর করে ভারত শুধু ম্যাচই জেতেনি, সিরিজেও সমতা ফিরিয়ে আনে। সেই ইনিংস দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এরপর একের পর এক চোটে ছিটকে যান ভারতের প্রথম সারির অনেক ক্রিকেটার। সুযোগ পান মহম্মদ সিরাজ, শুভমন গিল, ওয়াশিংটন সুন্দর, শার্দুল ঠাকুর ও টি নটরাজনের মতো তরুণরা। রাহানের নেতৃত্ব এবং তরুণদের প্রতি আস্থাই হয়ে ওঠে দলের সবচেয়ে বড় শক্তি।
সিরিজের শেষ টেস্টে গাব্বায় শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় ভারত। সেই জয়ের মাধ্যমে ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার ৩২ বছরের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়ে ভারত। ক্রিকেটবিশ্বে এটি আজও ভারতের অন্যতম সেরা টেস্ট সিরিজ জয় হিসেবে বিবেচিত হয়।