আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্যাটে ঝড় তুলে ফের শিরোনামে উঠে এলেন ভারতের বিস্ফোরক ওপেনার অভিষেক শর্মা। পাঞ্জাব স্টেট ইন্টার ডিস্ট্রিক্ট সিনিয়র ওয়ান ডে লিমিটেড ওভার্স টুর্নামেন্ট ২০২৬-২৭-এ নিজের শহরের দল অমৃতসর মেন’স সিনিয়রের হয়ে তরন তারনের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য ২৩৩ রানের ইনিংস খেললেন এই বাঁ হাতি ব্যাটার।

রবিবার অভিষেক মাত্র ৯১ বলে ২৩৩ রান করেন। তাঁর বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও ২৫টি ছক্কা। তাঁর এই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৫৩৩ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে অমৃতসর। দলের হয়ে অভয় চৌধুরীও গুরুত্বপূর্ণ ৯১ রান করেন। ২৫-তম ওভারে আশিস লোরেন্স অভিষেককে ফিরিয়ে দিলেও, ততক্ষণে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল অমৃতসর।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ততা না থাকলেও নিজেকে ম্যাচ ফিট রাখতে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন অভিষেক। তাঁর উপস্থিতি স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও বড় আকর্ষণ। অমৃতসরের হয়ে এদিন খেলেছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের আরেক ক্রিকেটার তথা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সলিল অরোরা। তিনি চার নম্বরে নেমে ১৮ বলে দ্রুত ২৯ রান করেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়টা মোটেও ভাল যাচ্ছে না অভিষেকের। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকেই ব্যাট হাতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন তিনি। বিশ্বকাপে টানা তিনটি শূন্য রানের ইনিংসের পাশাপাশি মাত্র ১৮ গড়ে রান করেন। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি অর্ধশতরানই ছিল তাঁর একমাত্র উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

এরপর আয়ারল্যান্ড সফরে একটি অর্ধশতরান করলেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। ইংল্যান্ড সিরিজেও ব্যর্থতার ধারা অব্যাহত থাকে। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচে তাঁর স্কোর ছিল যথাক্রমে ১, ৮ ও ২।

এই পারফরম্যান্স গত বছরের সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০২৫ সালে ২১টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৪২.৯৫ গড় এবং ১৯৩-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার হয়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু চলতি বছরে ২৩ ইনিংসে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর তিনি সেই শীর্ষস্থান হারান। তাঁর পরিবর্তে এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটারের আসনে উঠে আসেন সতীর্থ ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ক্রিকেটার ঈশান কিষাণ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আগামী ৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলা পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজের পুরনো ছন্দ ফিরে পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন অভিষেক শর্মা। ঘরোয়া ক্রিকেটে এই দুরন্ত দ্বিশতরান নিঃসন্দেহে সেই আত্মবিশ্বাস ফেরানোর বড় মঞ্চ হয়ে উঠল।