আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় ফুটবলে বড় ধাক্কা। ২০২৬-২৭ মরশুমের ইন্ডিয়ান সুপার লিগ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামশেদপুর এফসি। টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন ক্লাবের এই ঘোষণার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের কিংবদন্তি ফুটবলার সুনীল ছেত্রী। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে তিনি টাটা গ্রুপের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।

গত শুক্রবার জামশেদপুর এফসি জানিয়ে দেয়, চলতি ডুরান্ড কাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই তাদের সিনিয়র দল বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং আগামী আইএসএল মরশুমে তারা আর অংশ নেবে না। আইএসএলে অংশগ্রহণের ফি জমা দেওয়ার বর্ধিত সময়সীমা পার হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই ঘোষণা আসে।

ফলে ভারতের প্রথম সারির ফুটবল লিগে টানা ন’বছরের যাত্রা শেষ হতে চলেছে জামশেদপুর এফসির। এই সিদ্ধান্তে ক্লাবের ফুটবলার ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ডুরান্ড কাপে অংশগ্রহণরত দলের ডিফেন্ডার প্রতীক চৌধুরী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, এই সিদ্ধান্তে গোটা দলই হতবাক। ভিডিওতে ফুটবলাররা টাটা গোষ্ঠীর কাছে ক্লাবকে আইএসএলে ধরে রাখার আবেদনও জানান।

যদিও ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তৃণমূল স্তরে ফুটবল সহ অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় ফুটবলের পাশে থাকবে। তবুও আইএসএল থেকে তাদের সরে দাঁড়ানো দেশের ক্লাব ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে সুনীল ছেত্রী তাঁর বার্তায় লেখেন, টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি থেকে শুরু করে জামশেদপুর এফসি, ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ ছিল টাটা গোষ্ঠী।

তিনি লেখেন, ‘ভারতীয় ফুটবলের অংশীদার হয়ে থাকা সহজ নয়। কিন্তু চারপাশে যখন সবকিছু ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তখন পরিবারের বড়দের ওপরেই সবাই ভরসা রাখে। টাটা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের সেই ভরসার জায়গা।’

জামশেদপুর এফসির ফার্স্ট টিম বন্ধ হয়ে যাওয়াকে ‘পেটে ঘুষি মারার মতো আঘাত’ বলে বর্ণনা করেন ভারতীয় অধিনায়ক। তাঁর মতে, ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফরা হয়তো অন্য ক্লাব খুঁজে নেবেন, লিগও চলবে। কিন্তু ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে টাটা গোষ্ঠীর অনুপস্থিতি এক অপূরণীয় ক্ষতি।

ছেত্রী আরও বলেন, ‘আমি বুঝি, পেশাদার ক্ষেত্রে অনেক সিদ্ধান্ত বোর্ডরুমে ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি শুধু এটুকুই অনুরোধ করতে পারি। টাটা গোষ্ঠী যেন ব্যবসায়িক লাভ-লোকসানের চেয়ে হৃদয়ের কথাটাকে গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে। ব্যবসার দিক থেকে হয়তো একটু কঠিন সিদ্ধান্ত হবে, কিন্তু ভারতীয় ফুটবলের জন্য এই মুহূর্তে সেটাই সবচেয়ে জরুরি।’

উল্লেখ্য, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা আইএসএল। তার আগেই জামশেদপুর এফসির সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ভারতীয় ফুটবলের জন্য বড় ধাক্কা। দেশের অন্যতম বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থার বিদায়ের ঘটনা ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।