আজকাল ওয়েবডেস্ক: গ্লাসগোয় হচ্ছে ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস। আর সেই প্রতিযোগিতায় দু'টি নাম বিশেষভাবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ডেভিড বেকহ্যাম এবং রোনাল্ডো। নাম শুনে অনেকেই ভেবেছিলেন, প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম কিংবা ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি রোনাল্ডো বুঝি এবার সাইক্লিংয়ে নেমেছেন। তবে বাস্তবে তাঁরা দু’জনই ভারতের ট্র্যাক সাইক্লিস্ট।

স্যার ক্রিস হোয় ভেলোড্রোমে অনুষ্ঠিত পুরুষদের কেয়ারিন ইভেন্টে অংশ নেন রোনাল্ডো লাইতোনজাম সিং ও ডেভিড বেকহ্যাম এলকাটোহচুঙ্গো। উদ্বোধনী হিটে রোনাল্ডো সপ্তম এবং তৃতীয় হিটে এলকাটোহচুঙ্গো পঞ্চম স্থান অর্জন করেন। পরে রেপিশাজে একই হিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এলকাটোহচুঙ্গো চতুর্থ ও রোনাল্ডো পঞ্চম হয়ে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেন।

রোনাল্ডিনহো থেকেই ‘রোনাল্ডো’--অলিম্পিকস ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনাল্ডো জানান, তাঁর নামের অনুপ্রেরণা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বা ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনাল্ডো নয়, বরং ব্রাজিলিয়ান তারকা রোনাল্ডিনহো।

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে এই সাইক্লিস্টের জন্ম ২০০২ সালের ২২ জুন। তার একদিন আগে ২০০২ ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল ব্রাজিল। সেই ম্যাচে গোলরক্ষক ডেভিড সিম্যানকে অবাক করে দূরপাল্লার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করেছিলেন রোনাল্ডিনহো। 

রোনাল্ডো বলেন, “আমার বাবা রোনাল্ডিনহোর ভক্ত ছিলেন। তাই আমার নাম তাঁর থেকেই রাখা। ২০০৭ সালে নাম ছোট করার জন্য ‘রোনাল্ডো’ রাখা হয়। ভারতে সবাই বলে, ‘একজন সাইক্লিং রোনাল্ডো উঠে আসছে।’ তাই এই নামের মর্যাদা ধরে রাখতে এবং ট্র্যাক সাইক্লিংয়ে পরিচিতি এনে দিতে আমি অনুপ্রাণিত হই।”

বাবার প্রিয় তারকার নামেই ‘ডেভিড বেকহ্যাম’--ডেভিড বেকহ্যাম এলকাটোহচুঙ্গোর নামের পিছনের গল্পও কম আকর্ষণীয় নয়। তাঁর বাবা ছিলেন ভারতের জাতীয় পর্যায়ের একজন ফুটবলার এবং প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যামের একনিষ্ঠ ভক্ত। সেই ভালবাসা থেকেই ছেলের নাম রাখেন ডেভিড বেকহ্যাম।

অলিম্পিকস ডটকমকে এলকাটোহচুঙ্গো বলেন, “আমার বাবা ডেভিড বেকহ্যামের বিশাল ভক্ত ছিলেন। তাই আমার নামও ডেভিড বেকহ্যাম। তিনি ফুটবলার ছিলেন, আর এখন ডেভিড বেকহ্যাম ট্র্যাকে সাইক্লিং করছে।”

তিনি জানান, একদিন তাঁর বিখ্যাত নেমসেকের সঙ্গে দেখা করার স্বপ্ন দেখেন। এমনকি ভারত সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন বেকহ্যামকে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানস্পোর্ট-কে তিনি বলেন, “এখনও ডেভিড বেকহ্যামের সঙ্গে দেখা হয়নি। একদিন অবশ্যই দেখা করতে চাই। তখন আমার প্রয়াত বাবা গর্বিত হবেন। এখানে আসার পর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারাও আমার নাম দেখে অবাক হয়েছেন। তাঁরা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি, ভেবেছিলেন আমি হয়তো নিজের নাম পরিবর্তন করে ডেভিড বেকহ্যাম রেখেছি।”