আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফুটবলবিশ্বে একটি কথা বহুদিন ধরেই প্রচলিত, "মেসিকে রাগিয়ে দিও না।"
কারণ, মাঠে রেগে যাওয়া মেসি অনেক সময় নিজের সেরাটাই বের করে আনেন। এল ক্লাসিকোয় বহুবার দেখা গিয়েছে এরকম ছবি। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা মেসিকে ফাউল করে রাগিয়ে দিয়েছেন, আর খর্বকায় আর্জেন্টাইনকে বলতে শোনা গিয়েছে, ''আমাকে মারছো তো, এর ফল পাবে।''
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সেই ভুলটাই কি করে বসলেন ইংল্যান্ডের তারকা জুড বেলিংহ্যাম? সেটাই কি ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়াল?
ম্যাচের তখন মাত্র তিন মিনিট। মুখোমুখি দাঁড়নো দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা। লিওনেল মেসি ও জুড বেলিংহাম। দু'জনের মধ্যে কথার লড়াই চলছে। মেসির তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর অবজ্ঞার ভঙ্গিতে মাথা নাড়ার দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
অনেকেই তখন ভেবেছিলেন ম্যাচের এটা একটা উত্তপ্ত মুহূর্ত। এর বেশি কিছু নয়।
কিন্তু খেলা যত এগিয়েছে, ততই যেন সেই মুহূর্তটাই বড় আকার ধারণ করেছে।
ঠিক কী কথা হয়েছিল বেলিংহ্যাম ও মেসির? ইংল্যান্ডের তারকা বলেছেন, মেসির সঙ্গে সেরকম কোনও কথাই হয়নি তাঁর। বেলিংহ্যাম বলছেন, ''আসলে আমরা একটা ফাউল নিয়ে কথা বলছিলাম। তবে তেমন খারাপ কিছু ছিল না। আমি নিশ্চিত, সবাই বিষয়টিকে বড় করে দেখাবে। কিন্তু সত্যি বলতে, তেমন কিছুই হয়নি।''
দুই তারকার মধ্যে কথোপকথনের সূত্রপাত কীভাবে? বেলিংহাম বলছেন, ''আমার মনে হয়েছিল, একটু আগে একটা ফাউল হয়েছে। মেসি বলল, তাহলে আমার ওপর করা ফাউলটার কী হবে? আমি তখন বলছিলাম, তুমি তো এসব সামলানোর মতো যথেষ্ট শক্তিশালী। ব্যস, এতটুকুই।''
মেসির প্রশংসা করে বেলিংহ্যাম বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের বিরুদ্ধে খেলতে পারাটাই তাঁর জন্য গর্বের ব্যাপার।
ফুটবলের মজাটাই এখানে। একটি ছোট্ট মুহূর্ত, কয়েক সেকেন্ডের একটি বাকবিনিময় কিংবা চোখাচোখিও ম্যাচের গল্পে বিশেষ প্রতীক হয়ে ওঠে।
আর্জেন্টিনা- ইংল্যান্ড ম্যাচের পর ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে সেই পুরোনো কথাটিই, মেসিকে রাগিয়ে দিও না। কারণ, রেগে যাওয়া মেসি সবথেকে ভয়ঙ্কর।
















