আজকাল ওয়েবডেস্ক: আবার একটি বিশ্বকাপ। আবার একটি সেমিফাইনাল। আবারও শেষ চারে থামল ইংল্যান্ড। সেই অতীতের পুনরাবৃত্তি। যা মেনে নিতে প্রচণ্ড কষ্ট হয় হ্যারি কেনের। সরাসরি না বললেও, দায় কোচের ওপরই চাপান। বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ইংল্যান্ডের। ম্যাচের পর গভীর হতাশা প্রকাশ করেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন। জানান, দল, স্টাফ এবং সমর্থকদের জন্যই সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে।
এই জয়ে আরও একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। রবিবার মেসিদের প্রতিপক্ষ স্পেন। অন্যদিকে, ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার হাতছানি ছিল ইংল্যান্ডের সামেন। কিন্তু অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হল। সরাসরি না বললেও, হারের জন্য হাবেভাবে কোচ টমাস টুখেলকেই দায়ী করেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। ম্যাচের পর সম্প্রচারকারী সংস্থাকে কেন বলেন, 'দলের জন্য, স্টাফদের জন্য, সমর্থকদের জন্য ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় আমরা ভাল খেলেছি। কিন্তু ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আমরা যেন শুধু লিড ধরে রাখার চেষ্টা করছিলাম। এই পর্যায়ে সেটা যথেষ্ট নয়। এখানে পৌঁছতে আমরা প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছি। দলের প্রত্যেক ফুটবলার রক্ত, ঘাম এবং চোখের জল দিয়ে লড়াই করেছে। এভাবে হেরে যাওয়া সত্যিই খুব কষ্টের।'
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বেশ কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও সাফল্যের শেষ ধাপটি পেরোতে এখনও কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন কেন। তিনি বলেন, 'এই টুর্নামেন্টে আমাদের অনেক ভাল মুহূর্ত ছিল। অনেক ভাল ম্যাচ খেলেছি। আবারও সেমিফাইনালে উঠেছি। আমরা বারবার বলি, আমরা দরজায় কড়া নাড়ছি। আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি। এখন শেষ ধাপে সাফল্য পেতে সেই মিসিং পিসটা খুঁজে বের করতে হবে।'
ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এরপর আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে সমতা ফেরান। এরপর অতিরিক্ত সময়ে লিওনেল মেসির অ্যাসিস্ট থেকে লাওতারো মার্তিনেজের গোলেই নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে দু'দলই বেশ সতর্কভাবে খেলায় বড় কোনও সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়ে এবং শেষপর্যন্ত আর্জেন্টিনার নাটকীয় প্রত্যাবর্তনেই ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।
















