আজকাল ওয়েবডেস্ক: রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালের পর বিপত্তি। নিজের আবেগ চেপে রাখতে পারেননি জুড বেলিংহ্যাম। গোটা বিশ্বকাপে যে ছন্দে ছিলেন, আর্জেন্টিনা ম্যাচে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি ইংলিশ মিডফিল্ডার। ৮০ মিনিট পর্যন্ত এক গোলে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু মাত্র ৭ মিনিটে ম্যাচের রং বদলে যায়। এনজো ফার্নান্দেজ এবং লউতারো মার্টিনেজের গোলে শেষ মিনিটে বাজিমাত আর্জেন্টিনার। দুই গোলের পেছনেই লিওনেল মেসি। সাত মিনিটের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ইংল্যান্ড। যা মেনে নিতে পারেননি বেলিংহ্যাম। ম্যাচ শেষে মেজাজ হারান। একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে আর্জেন্টিনার ভালেটিন বার্কোকে চড় মারতে দেখা যায় ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলারকে। আর্জেন্টিনার জয়ের সেলিব্রেশনের সময় তাঁর মাথায় মারেন বেলিংহ্যাম।
রেফারি ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাটি ঘটে। মাঠের মধ্যে একা দাঁড়িয়েছিলেন ইংল্যান্ডের তারকা। এই রেজাল্টের সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন হয়ত। তাঁকে সান্ত্বনা জানায় আর্জেন্টিনার এক প্লেয়ার। তারপর দলের সঙ্গে উৎসবে মাতেন বার্কো। এই সময় বেলিংহ্যামকে উদ্দেশ্য করে একটি মন্তব্য করেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার। যা শুনে চটে যান রিয়াল মাদ্রিদের তারকা। সটান গিয়ে বার্কোর মাথায় চড় কষান। উত্তরে তাঁকে ঠেলে দেন আর্জেন্টাইন। এই ঘটনা বাকি প্লেয়ারদের নজর এড়ায়নি। দুই দলের ফুটবলারদের হস্তক্ষেপে জল বেশিদূর গড়ায়নি।
ম্যাচের পর বেলিংহ্যাম মেনে নেন, এটা তাঁর এবং সতীর্থদের কাছে অন্যতম দুঃখের দিন। যেভাবে শুরু করেছিল ইংল্যান্ড, দেখে মনে হয়েছিল এবার হয়ত 'চোকার্স' তকমা কাটবে। কিন্তু আবার অতীতের পুনরাবৃত্তি। বেলিংহ্যাম বলেন, 'আমাদের জন্য খুবই দুঃখের দিন। আমরা ভাল খেলেছি। শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করেছি। কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না।' টমাস টুখেলের স্ট্র্যাটেজির সমালোচনা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। গোলের ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা না করে, পুরোপুরি রক্ষণাত্মক খোলসে ঢুকে পড়ে ইংল্যান্ড। যার খেসারত দিতে হয়। কিন্তু নিজের ভুল মানতে নারাজ জার্মান কোচ। দাবি, ইংল্যান্ড ম্যাচ হেরেছে বলে সমালোচনা করা হচ্ছে। টুখেল বলেন, 'আগের ম্যাচগুলোতে আমি আক্রমণাত্মক প্লেয়ারদের নামিয়েছিলাম। এখানে অনেক গ্যাপ তৈরি হচ্ছিল, তাই পাঁচ জনের ডিফেন্সে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের গোলের পর ওরা মরিয়া হয়ে ওঠে। বক্সে একাধিক ক্রস ভেসে আসে। আমি রক্ষণকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। সব দায় কোচের থাকে। রেজাল্ট পক্ষে না হলে, ভুল ধরিয়ে দেওয়া সহজ।' ইংল্যান্ডের কোচ যে দাবিই করুন না কেন, দ্বিতীয়ার্ধে ভুল স্ট্র্যাটেজিতেই হার হ্যারি কেনদের।
















