আজকাল ওয়েবডেস্ক: শীতকালীন অলিম্পিক্স ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু পুরুষ স্কি জাম্পার নাকি সাময়িকভাবে তাঁদের যৌনাঙ্গের আকার বাড়িয়ে প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এই পদ্ধতিকে কার্যত নতুন ধরনের ‘ডোপিং’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা ওয়াডাও কড়া নজর রাখছে বলে জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, কোনওরকম প্রমাণ সামনে এলে তদন্ত করা হবে। জার্মান সংবাদপত্র বিল্ড প্রথম এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, মরশুম শুরুর আগে বাধ্যতামূলক থ্রিডি বডি স্ক্যানের সময় পোশাকের মাপ নিজেদের মতো করে বদল করতে কিছু স্কি জাম্পার এই কৌশল অবলম্বন করছেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ইনজেকশন দিয়ে সাময়িকভাবে যৌনাঙ্গের আকার বাড়ানো হচ্ছে, যাতে শরীরের টিস্যুতে জল ধরে রাখা যায় এবং স্ক্যানের সময় শরীরের মাপ বদলে যায়।
স্কি জাম্পিংয়ে প্রতিযোগীদের জন্য শরীরের সঙ্গে ফিট থাকা স্যুট পরা বাধ্যতামূলক। নিয়ম অনুযায়ী, স্যুট অতিরিক্ত ঢিলা হলে তা বাতিল হয়ে যায়। কারণ শরীরের থেকে বড় স্যুট বাতাসে অতিরিক্ত লিফট তৈরি করতে পারে।
তবে স্যুটের ক্রচ অংশটি খেলোয়াড়ের যৌনাঙ্গের নিচ পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি রয়েছে। সেই অংশে মাপ সামান্য বাড়লে, তুলনামূলক বড় বা ঢিলা স্যুট পরার সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা পুরো মরশুমে অ্যারোডাইনামিক সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিল্ড দাবি করেছে, কিছু অ্যাথলিট আইনের এই ‘ফাঁক’ কাজে লাগিয়ে স্ক্যানের আগে কৃত্রিমভাবে শরীরের মাপ পরিবর্তন করছেন, যাতে তুলনামূলক সহনশীল স্যুট-ফিট পাওয়া যায়।
এদিকে সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, সাময়িকভাবে শরীরের মাপ বাড়ানো হলে তা তাত্ত্বিকভাবে অন্যায্য সুবিধা দিতে পারে। সামান্য বড় বা ঢিলা স্যুট পালকের মতো কাজ করে বেশি বাতাস ধরতে পারে, ফলে জাম্পার আরও উঁচুতে উড়তে পারেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত অক্টোবর ফ্রন্টিয়ার্স বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, স্যুটের মাপে মাত্র ২ সেন্টিমিটার পরিবর্তন হলে জাম্পের দূরত্ব প্রায় ৫.৮ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট অ্যাথলিটের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ওঠেনি, ওয়াডা জানিয়েছে, প্রমাণ মিললে তারা পদক্ষেপ নেবে। সংস্থার আওতায় এমন কোনও পদার্থ বা পদ্ধতি নিষিদ্ধ করা যেতে পারে, যা সরাসরি পারফরম্যান্স-বর্ধক না হলেও ‘খেলার চেতনা’র পরিপন্থী।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে শীতকালীন অলিম্পিক্সের অ্যান্টি-ডোপিং আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিক্সের আগে মিলানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়াডার ডিরেক্টর জেনারেল অলিভিয়ার নিগলি বলেন, আপাতত এই ধরনের কোনও কার্যকলাপের প্রমাণ তাদের হাতে নেই।
নিগলি বলেন, ‘স্কি জাম্পিংয়ের খুঁটিনাটি নিয়ম এবং এতে কীভাবে পারফরম্যান্স বাড়তে পারে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে যদি কোনও প্রমাণ বা ঘটনা সামনে আসে, আমরা অবশ্যই তা খতিয়ে দেখব। যদি বিষয়টি ডোপিংয়ের আওতায় পড়ে, আমাদের কমিটি তা খতিয়ে দেখবে।’ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্কি ও স্নোবোর্ড ফেডারেশন এই অভিযোগ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
