অফিসে ৩০ মিনিটের 'হস্তমৈথুন বিরতি'! কোম্পানির নতুন সিদ্ধান্তে এই অফিসে বাড়ছে কাজের প্রতি উৎসাহ...
নিজস্ব সংবাদদাতা
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ : ২৯
শেয়ার করুন
1
7
কফি ব্রেক, সিগারেট ব্রেক বা হঠাৎ বাথরুমে যাওয়া—ব্যস্ত কর্মদিবসে এমন ছোট ছোট বিরতিই এতদিন কর্মীদের “রিচার্জ” হওয়ার সুযোগ দিত। কিন্তু এবার সেই বিরতির ধারণাকেই একেবারে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন এক কর্পোরেট বস। বার্সেলোনার প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন সংস্থার কর্ণধার এরিকা লাস্ট তাঁর কর্মীদের জন্য চালু করেছেন প্রতিদিনের ৩০ মিনিটের ‘মাস্টারবেশন ব্রেক’—যা পুরোপুরি আত্ম-যৌনসুখ বা ‘সেল্ফ-প্লেজার’-এর জন্য নির্দিষ্ট।
2
7
এই ধারণার জন্ম কোভিড-১৯ লকডাউনের সময়। ঘরে বসে কাজ করতে গিয়ে কর্মীদের মধ্যে বাড়তে থাকা মানসিক চাপ, উদ্বেগ আর ক্লান্তি লাস্টের চোখ এড়ায়নি। তাই পরীক্ষামূলকভাবে ২০২১ সালে তিনি এই বিরতি চালু করেন। এক বছরের মধ্যেই ফল চোখে পড়ার মতো—কর্মীদের বক্তব্য, এই বিরতির পর তারা আগের তুলনায় কম আক্রমণাত্মক অনুভব করেন, মন থাকে হালকা এবং কাজেও মনোযোগ বাড়ে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নীতিটিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
3
7
লাস্ট অফিসে একটি আলাদা ঘরও তৈরি করেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাস্টারবেশন স্টেশন’। সেখানে কর্মীরা সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার সঙ্গে এই বিরতি কাটাতে পারেন। এমনকি কিছু সেক্স-টয় নির্মাতা সংস্থা ওই অফিসে বিভিন্ন সামগ্রীও সরবরাহ করেছে।
4
7
কেন এমন সিদ্ধান্ত? ‘দ্য নিউজ মুভমেন্ট’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এরিকা লাস্ট বলেন, “আমি আমার কর্মীদের গুরুত্ব দিই। তারা যদি ভালো থাকে, তাহলে কাজও ভালো হয়। স্ট্রেসের মতো ক্ষতিকর জিনিস সফল কর্মপরিবেশের জন্য আর কিছু হতে পারে না।” তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু লকডাউনের মানসিক চাপ মোকাবিলা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি চান আত্ম-যৌনসুখকে সামাজিকভাবে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হোক। লাস্টের কথায়, “যৌন সুস্থতা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একে অবহেলা করার কোনো কারণ নেই।” অফিসে মজা করেই নাকি কর্মীরা বলেন, ‘An apple a day keeps the doctor away’—এর বদলে ‘An orgasm a day…’।
5
7
মাস্টারবেশনের স্বাস্থ্যগুণ কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান? চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের বড় অংশই মনে করেন, পরিমিত মাত্রায় মাস্টারবেশন স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, আত্ম-যৌনসুখের সময় ডোপামিন, অক্সিটোসিন, প্রোল্যাক্টিন ও এন্ডোরফিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মন ভালো রাখতে, স্ট্রেস কমাতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।
6
7
সেক্স থেরাপিস্ট ইয়ান কার্নারের ভাষায়, “মাস্টারবেশন স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর। কখনও আনন্দের জন্য, কখনও মানসিক চাপ কমাতে, কখনও কঠিন আবেগ সামলাতে মানুষ এটা করে।” চিকিৎসা গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি প্রোস্টেটের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে পেলভিক ফ্লোর পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে, যা প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যার ঝুঁকি কমাতে পারে। পাশাপাশি নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতনতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও মাস্টারবেশনের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
7
7
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—অফিসে কি এর জায়গা আছে? স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তেমন দ্বিমত না থাকলেও, কর্মক্ষেত্রে এমন নীতি চালু করা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। সমর্থকদের মতে, মানসিক সুস্থতা বাড়লে উৎপাদনশীলতাও বাড়ে। আবার সমালোচকদের প্রশ্ন, সব ধরনের কর্মক্ষেত্রে কি এমন উদ্যোগ বাস্তবসম্মত বা সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য?