আজকাল ওয়েবডেস্ক: রিয়েল কাশ্মীর থেকে তিন বছরের চুক্তিতে ইস্টবেঙ্গলে সই করেছেন রামসাঙ্গা। মাঝমাঠের রক্তাল্পতা দূর করার জন্যই তাঁকে আনা হয়েছে। চলতি মরশুম প্রায় শেষের দিকে। রামসাঙ্গা কোথায়?  

রিয়াল কাশ্মীরে ইশফাক আহমেদের কোচিংয়ে খেলেছেন রামসাঙ্গা। বেশ সাড়া জাগিয়েছিলেন। রামসাঙ্গা ইস্টবেঙ্গলের পথে পা রাখার আগে ইশফাক বলেছিলেন, ''রামসাঙ্গা হল কোচের প্লেয়ার। অর্থাৎ কোচ যা বলবে, ও তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। আমার সিস্টেমে ও দারুণ ফিট। আমি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে ওকে খেলাতাম।'' 
কিন্তু সেই রামসাঙ্গা নেই কেন অস্কার ব্রুজোঁর দলে? প্রতিশ্রুতিমান ফুটবলার সম্পর্কে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন গোলকিপার কোচ সন্দীপ নন্দী। তিনি আজকাল ডট ইন-কে বলেন, ''মরশুমের শুরুতে এই অস্কার ব্রুজোঁই তো বলেছিলেন, আমার দল পুরোদস্তুর রেডি। একজনই কেবল তৈরি নয়। সে রামসাঙ্গা। আমার দলে ও ফিট করে না।'' প্রীতি ম্যাচ ছাড়া কোনও ম্যাচে নামানো হয়নি রামসাঙ্গাকে। 
বহু যুদ্ধের সাক্ষী সন্দীপ তখন ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপিং কোচ। তার পরে আইএফএ শিল্ড ফাইনালে টাইব্রেকারের সময়ে গোলকিপার পরিবর্তন নিয়ে কোচ অস্কার অসম্মান করেন সন্দীপকে। জাতীয় দলের প্রাক্তন গোলকিপার ইস্টবেঙ্গল শিবির ছেড়ে চলে আসেন। 

ড্রেসিং রুমের ভিতরে সেদিন অস্কারের কথা শুনে বিস্মিত হয়েছিলেন সন্দীপ। তিনি বলছেন, ''রামসাঙ্গা যথেষ্ট ভাল ফুটবলার। আই লিগে ওর খেলা আমি দেখেছি। ও ভাল খেলে বলেই ইস্টবেঙ্গল ওকে নিয়েছে অর্থ খরচ করে। কিন্তু ভরা ড্রেসিং রুমে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফদের সামনে কোনও কোচ তরুণ ফুটবলারের মন এভাবে ভেঙে দিতে পারেন না। আমি নিজের ফুটবল জীবনে এমন জিনিস কখনওই দেখিনি। সেদিনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম এই কোচ সাফল্য পাবেন না।'' 

নিজের ফুটবলজীবনের কথা ব্যাখ্যা করে সন্দীপ বলছেন, ''আমার দীর্ঘ ফুটবলজীবনে ডেভিড বুথ, সুভাষ ভৌমিক, বব হাউটন, ট্রেভর জেমস মরগ্যানের মতো কোচের অধীনে খেলেছি। কিবু ভিকুনার সঙ্গে কাজ করেছি। দেখেছি ম্যান ম্যানেজমেন্ট কাকে বলে। দেখেছি দশ থেকে একশো কী করে করা যায় একটা দলকে? কীভাবে ভাল থেকে আরও ভালতে পৌঁছায় একটা দল। রামসাঙ্গা এসেছে ইস্টবেঙ্গলের মতো এক মহাসাগরে। ওকে তো আগলে রাখতে হবে। আর সেই তরুণ প্রতিভা সম্পর্কে কোচ বলছেন রামসাঙ্গা আমার দলে ফিট করে না। এতে ওর মনোবল কি বাড়বে? নাকি ভাঙবে?'' প্রশ্ন সন্দীপের।

এবারের আইএসএলে ইস্টবেঙ্গল শুরুটা বেশ ভালই করেছিল। কিন্তু দুই ম্যাচ জেতার পরই ইস্টবেঙ্গল  পা হড়কাতে শুরু করে দিয়েছে। শনিবার কেরলের বিরুদ্ধেও এগিয়ে থেকে ম্যাচ ড্র করেছে লাল-হলুদ। চারদিকে চলছে গেল গেল রব। কোচ অস্কার ব্রুজোঁকে শুনতে হয়েছে 'গো ব্যাক' ধ্বনি। এই আবহেই সমর্থকদের জিজ্ঞাসা কোথায় গেলেন রামসাঙ্গা। সেই অন্ধকারেই আলো ফেললেন সন্দীপ। ইস্টবেঙ্গলের বিপর্যয় তাঁকে পীড়া দিচ্ছে। ভিতরে ভিতরে তিনি রক্তাক্ত-ক্ষতবিক্ষত হচ্ছেন। ঘুরে ফিরে পুরনো স্মৃতি তাঁকে করে তুলছে ব্যথিত। সন্দীপ নন্দীর দুঃখ আর কে বুঝবে!