আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রায় এক মাস লন্ডনে কাটানোর পর বৃহস্পতিবার ভারতে ফিরেছেন বিরাট কোহলি। ভারতীয় দলের সুপারস্টার বিমানবন্দরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
প্রিয় তারকাকে এক নজর দেখতে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ককে ঘিরে বিমানবন্দর চত্বরে দেখা যায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও হাসিখুশি ও স্বচ্ছন্দ মেজাজে ছিলেন কোহলি।
ভক্তদের অনুরোধে একাধিক সেলফিতেও পোজ দেন তিনি এবং সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন। কোহলির সঙ্গে তোলা ছবি ও ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অনেক ভক্তই তার বিনয়ী ও সাধারণ স্বভাবের প্রশংসা করেন। তবে সবথেকে আলোচনার বিষয় যেটা হয়ে উঠেছে সেটা হল কোহলি এমন এক সময়ে দেশে ফিরেছেন যখন ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলছে।
যদিও এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন না কোহলি। তবে তিনি দেশে ফেরায় স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা বাড়ছে তবে কী টিম ইন্ডিয়ার ম্যাচ দেখতে যাবেন বিরাট?
২০২৪ সালের জুনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন তিনি। সেই ফাইনালে ৫৯ বলে ম্যাচজয়ী ৭৬ রান করে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’-এর পুরস্কারও জিতেছিলেন তারকা ব্যাটার।
https://www.instagram.com/reels/DUpijWHCEzq/
গত কয়েক মাসে দুর্দান্ত ফর্মে দেখা গিয়েছে কোহলিকে। শেষ সাতটি ওয়ানডে ইনিংসে তার সংগ্রহ ৬১৬ রান। গড় ১২৩.২ এবং স্ট্রাইক রেট ১০৮.৬৪—পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট তার দুরন্ত ধারাবাহিকতা।
এই সময়ে তার ঝুলিতে রয়েছে তিনটি শতরান ও তিনটি অর্ধশতরান। আগামী জুলাই মাসে ইংল্যান্ড সফরের ওয়ানডে সিরিজে জাতীয় দলের জার্সিতে আবার দেখা যাবে কোহলিকে।
তবে তার আগে আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে মাঠে নামবেন তিনি। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আসন্ন আসরে খেলতে নামবে আরসিবি। গত মরশুমের ফাইনালে পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বেঙ্গালুরু।
উল্লেখ্য, এদিন বিশ্বকাপে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ রয়েছে ভারতের। ঈশান কিষাণ এবং হার্দিক পাণ্ডেয়ার বিস্ফোরক ইনিংসের পরেও নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ২০৯ রান করল ভারত। এদিন মিডল অর্ডারদের অফ ফর্ম ভোগাল ভারতকে।
প্রথম সাত-আট ওভারে খারাপ বোলিংয়ের পরেও দারুণ ভাবে ম্যাচে ফিরল নামিবিয়া। স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং হাত খুলতে দিল না সূর্যকুমার যাদব, শিবম দুবে, রিঙ্কু সিংকে।
শুধু ডট বল করাই নয়, মিডল ওভারে উইকেটও নিলেন নামিবিয়ার বোলাররা। এদিন অসুস্থতার কারণে দলে ছিলেন অভিষেক। তাঁর জায়গায় এসেছেন সঞ্জু স্যামসন।
স্কাই টসে বলছিলেন, অভিষেকের মতো মানসিকতা নিয়েই নামবেন সঞ্জু। শুরুটাও সেভাবেই করলেন। কিন্তু অভিষেকের মতো বড় রানে কনভার্ট করতে পারলেন না ইনিংসটাকে। তিনি ফিরলেন 8 বলে ২২ রান করে।
কিন্তু তাঁর সঙ্গে নামা ঈশান কিষাণ ২৪ বলে ৬১ রান করে একসময় বড় রানের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন ভারতকে। তাঁর মারকুটে ইনিংসের সৌজন্য ভারত শতরানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় সপ্তম ওভারেই।
কিন্তু ঈশান ফেরার পরেই রান তোলার গতি কমে যায় টিম ইন্ডিয়ার। স্কাই, তিলক এবং শিবম দুবেকে বেঁধে রেখে দেন নামিবিয়ার বোলাররা। তার ফলও মেলে হাতেনাতেই। স্কটজের বলে স্টাম্প আউট হন স্কাই(১২)।
তিলক ২৫ রান করলেও তা আসে ২১ বলে। দুবে গিয়ার বদলনোর চেষ্টা করলেও তিনি ফেরেন ১৬ বলে ২৩ রান করে। একদিক থেকে ইনিংস ধরে রেখে দিয়েছিলেন হার্দিক।
পাকিস্তান ম্যাচের আগে তারকা অলরাউন্ডারের ফর্ম স্বস্তি জোগাবে ভারতকে। এদিন হার্দিক ২৮ বল খেলে করলেন ৫২ রান। শুরুতে ধীরে সুস্থে খেললেও সময় মতো গিয়ার বদলালেন।
টি-টোয়েন্টির আদর্শ ইনিংস দেখা গেল তাঁর ব্যাট থেকে। অর্ধশতরানের ইনিংসে ছিল ১০৯ মিটারের একটি বিশাল ছক্কা। শেষের দিকে পরপর তিন-চার উইকেট পড়ায় আর বড় রান ওঠেনি ভারতের।
অন্যদিকে, নামিবিয়ার হয়ে চার উইকেট নিলেন অধিনায়ক ইরাসমাস। একটি করে উইকেট নেন শিকোঙ্গো, স্মিট এবং স্কটজ।
