আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপের শুরুতে জোড়া সাফল্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর নামিবিয়ার বিরুদ্ধে দাপুটে জয়। পাকিস্তান ম্যাচের আগে পারফেক্ট মহড়া। কলম্বোয় প্রস্তুতির জন্য মাত্র একদিন সময় পাবে ভারতীয় দল। তাই বৃহস্পতিবার ম্যাচ প্র্যাকটিস সেরে রাখাই লক্ষ্য ছিল সূর্যকুমার যাদবদের। তাতে একশো শতাংশ সফল টিম ইন্ডিয়া। নির্ধারিত ওভারের শেষে ৯ উইকেটের বিনিময়ে ২০৯ রান করে ভারত। জবাবে ১৮.১ ওভারে ১১৬ রানে শেষ নামিবিয়ার ইনিংস। ৯৩ রানে বড় জয় টিম ইন্ডিয়ার। পাকিস্তান ম্যাচের আগে যা সূর্যদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। তবে জিতলেও বেশ কিছু প্রশ্ন উঠে আসছে।
এক-দু'জনের ব্যাটে ভর করে উতরে যাচ্ছে ভারত। কিন্তু দেশের মাটিতে সার্বিকভাবে সাফল্য পাচ্ছে না ব্যাটাররা। প্রথম দুই ম্যাচ তার উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সূর্যকুমার, এদিন ঈশান এবং হার্দিক সফল। বাকি ব্যাটারদের ব্যাটে এখনও রান নেই। কলম্বোর মন্থর উইকেটে পাকিস্তানের বোলারদের মুখোমুখি হওয়ার আগে যা নিঃসন্দেহে চিন্তা বাড়াবে গৌতম গম্ভীরের। প্রথম দুই কমজোরী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বোলারদের সেইভাবে পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। তবে নামিবিয়া ম্যাচের বড় প্রাপ্তি অলরাউন্ডার হার্দিক। ব্যাট হাতে অর্ধশতরানের পর তুলে নেন জোড়া উইকেট। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সেরা।
টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠায় নামিবিয়ার অধিনায়ক। ঠিক সূর্যকুমার যেমন চেয়েছিলেন। কিন্তু ২০ ওভারের শেষে ব্যাটিং নিয়ে খুব খুশি কি হতে পারবেন গৌতম গম্ভীর? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচের পুনরাবৃত্তি না ঘটলেও, নামিবিয়ার মতো দলের বিরুদ্ধে ৯ উইকেট হারায় ভারত। তাও আবার একটা সময় পরপর উইকেট হারানোয় কিছুটা চাপের মুখে পড়ে টিম ইন্ডিয়া। আগাগোড়া আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার ফল। ম্যাচের আগে মনে হয়েছিল ২৫০ রান তো বটেই, এই ম্যাচে বিশ্বরেকর্ড করতে পারে সূর্যকুমাররা। পেরোতে পারে ৩০০ রানের গণ্ডি। কিন্তু ঈশান কিষাণ এবং হার্দিক পাণ্ডিয়া ছাড়া কোনও ব্যাটার ৫০ রান টপকাতে পারেনি। অভিষেক শর্মা সুস্থ না হওয়ায়, আচমকা কুড়িয়ে পাওয়া সুযোগ পান সঞ্জু স্যামসন। টি-২০ বিশ্বকাপে হাতেখড়ি। সুযোগের সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। ফিরোজ শাহ কোটলায় প্রথম ঝড় তোলেন সঞ্জু। ৭ বলে তিনটে ছক্কা, একটি চার। কিন্তু বড় রানে কনভার্ট করতে ব্যর্থ। ৮ বলে ২২ রান করে আউট হন স্যামসন।
শুরুটা একটু মন্থর ছিল ঈশান কিষাণের। কিন্তু সঞ্জু প্যাভিলিয়নে ফিরতেই ইনিংস ফোর্থ গিয়ারে নিয়ে যান পকেট রকেট। ফের একটি অনবদ্য ইনিংস। আবার ঈশান ঝড়। এক ওভারে পরপর চার ছক্কা, জোড়া চার। মাত্র ২০ বলে অর্ধশতরানে পৌঁছে যান। যেভাবে খেলছিলেন, মনে হয়েছিল শতরান নিশ্চিত। কিন্তু বড় শট মারতে গিয়ে ফেরেন। ২৪ বলে ৬১ রানে আউট হন। স্ট্রাইক রেট ২৫৪.১৬। বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৫টি ছয়, ৬টি চার। পাওয়ার প্লের শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ভারতের রান ছিল ৮৬। টি-২০ বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লেতে ভারতের সর্বোচ্চ রান। সংক্ষিপ্ত বিশ্বকাপে সার্বিকভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ। সপ্তম ওভারে একশোর গণ্ডি পার। টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম একশো রান। প্রথম ৭ ওভার রানের পাহাড়ের ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু ঈশান আউট হতেই রানের গতি কমে ভারতের। ১৯ রানে তিলক বর্মার ক্যাচ ফেলে নামিবিয়া।
কিন্তু তার ফায়দা তুলতে পারেনি বাঁ হাতি। ২১ বলে ২৫ রান করে আউট হন। রান পাননি সূর্যকুমারও (১২)। ১২৪ রানে ৪ উইকেট হারায় ভারত। মাঝের ওভারগুলোয় ভারতকে চেপে ধরে নামিবিয়া। রানের গতি কমে। এই সময় মনে হয়েছিল হয়তো দুশোর গণ্ডিও পেরোবে না। কিন্তু ১৫তম ওভারে আবার ম্যাচে ফেরে ভারত। ২৪ রান তোলে হার্দিক-শিবম জুটি। দুরন্ত জুনিয়র পাণ্ডিয়া। ৪টি ছয় এবং চারের সাহায্যে ২৮ বলে ৫২ রান করেন। সঙ্গত দেন শিবম (২৩)। শেষদিকে বিশেষ রান যোগ করতে পারেনি লোয়ার মিডল অর্ডার। রান পাননি রিঙ্কু সিং (১), অক্ষর প্যাটেল (০)। তবে ভারতীয় ইনিংসের মাঝে যেভাবে ম্যাচে ফেরে নামিবিয়া, এবং শেষটা করে, মিনোসদের প্রশংসা প্রাপ্য। একইসঙ্গে এই বিষয়টি গম্ভীরের কপালে ভাঁজ ফেলবে।
এদিন দলে ফিরলেও নতুন বলে শুরু করেননি বুমরা। অর্শদীপ সিংয়ের সঙ্গে বোলিং ওপেন করেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। পাওয়ার প্লের পর দলের একনম্বর বোলারকে বল দেন সূর্য। এক উইকেট পান। একটি দুর্ধর্ষ ক্যাচও নেন বুমরা। বুঝিয়ে দেন তিনি সম্পূর্ণ ফিট। পাকিস্তান ম্যাচের আগে যা বিরাট প্রাপ্তি। পাওয়ার প্লের শেষে ১ উইকেট হারিয়ে নামিবিয়ার রান ছিল ৫৭। শুরুটা ভালই করে। দুই ওপেনার লৌরেন স্টিনক্যাম্প (২৯) এবং জ্যান ফ্রাইলিংক (২২) রান পান। বাকি কেউ দাঁড়াতেই পারেনি। বরুণ চক্রবর্তীকে খেলতে হিমশিম খায় নামিবিয়ার ব্যাটাররা। তাঁর বিরুদ্ধে শট খেলতে গিয়েই বিপদ ডেকে আনে। তিন উইকেট তুলে নেন রহস্য স্পিনার। জোড়া উইকেট অক্ষর প্যাটেলের।
