ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব - ৬
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ স্পোর্টস ক্লাব - ০
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছয়ে ছয়। লিগ টেবিলে শীর্ষস্থান অব্যাহত। ৫৫ গোল। ক্লিনশিট। কন্যাশ্রী কাপে ছুটছে ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাবের ঘোড়া। শুক্রবার জিডি ব্লকের মাঠে ৬-০ গোলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ স্পোর্টস ক্লাবকে হারাল ইউকেএসসি। জোড়া গোল নিতু লিন্ডা এবং তনুশ্রী রায়ের। অন্য দুই গোল কাই রুমি এবং তানিয়া কান্তির। ৬ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট ইউকেএসসির। আগের ম্যাচে চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডের ছাড়পত্র সংগ্রহ করলেও, লক্ষ্য গ্রুপের সব ম্যাচ জেতা। অন্যান্য ম্যাচে ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেয় প্রশান্ত ভট্টাচার্যের দল। কিন্তু এই গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে ওঠা পুলিশ কিছুটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে তারমধ্যেও আধিপত্য ছিল ইউকেএসসির। বিরতিতে তিন গোল এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিন। মোট হাফ ডজন। গোল সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। তিনবার বল ক্রসপিসে লাগে।
ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাবের ম্যাচ মানেই গোলের বন্যা। আগের ম্যাচে ১৭ গোলে মৈত্রী সংঘকে হারায়। সেদিন যেখানে শেষ করেছিল, সেখান থেকে শুরু করে ইউকেএসসি। ২০ এপ্রিল ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলা। তাই কার্ড সমস্যা এড়াতে এদিন দলে কয়েকটা পরিবর্তন করেন কোচ প্রশান্ত ভট্টাচার্য। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা অ্যানি তায়াংকে খেলাননি। বিশ্রাম দেন অনিতা কুমারিকেও। এই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখলে পরের ম্যাচ থেকে ছিটকে যেত দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। তাই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করেন কোচ। প্রথম পাঁচ ম্যাচের পর ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে পয়েন্ট সমান থাকলেও, গোল পার্থক্যে এগিয়ে ছিল ইউনাইটেড। তাই শুক্রবার জিডি ব্লকের মাঠে ইউকেএসসির খেলা দেখতে হাজির ছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অ্যান্টনি অ্যান্ড্রুজ। প্রতিপক্ষকে মেপে নেন।
এদিন দলে কয়েকটি পরিবর্তন হলেও, খেলার ছন্দে কোনও বদল নেই। ম্যাচের ১৩ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় ইউকেএসসি। কিন্তু সামনে গোলকিপারকে একা পেয়েও গোলে শট নিতে পারেনি তানিয়া। অবশ্য গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৩ মিনিটের মধ্যেই বলদায় স্কোরবোর্ড। ম্যাচের ১৬ মিনিটে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। দলকে এগিয়ে দেন কাই রুমি। গোলকিপারের হাত থেকে বল ফস্কে যায়। গোললাইন অতিক্রম করার পর বল ক্লিয়ার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিফেন্ডার। গোল দেন রেফারি। ম্যাচের ২০ মিনিটে বাঁ পায়ের শটে ব্যবধান বাড়ান নিতু লিন্ডা। তার এক মিনিট আগেও গোল হতে পারত। কিন্তু তানিয়া কান্তির হেড ক্রসপিসে লাগে। এদিনও দৃষ্টিনন্দন ফুটবল ইউনাইটেডের। দুই উইং কাজে লাগিয়ে নজরকাড়া পাসিং ফুটবল। নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলে এগিয়ে যায়। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে ৩-০। দুর্দান্ত গোল তানিয়ার। দূরপাল্লার শটে বল তেকাঠিতে রাখেন।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে পুলিশ। প্রতি আক্রমণে ওপরে উঠে আসার চেষ্টা চালায়। ইউকেএসসির রক্ষণকে বেশ কয়েকবার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। তবে রত্না হালদার, মিনি রায়দের রক্ষণ পেরোতে পারেনি। বিরতির পর আরও তিন গোল ইউনাইটেডের। ম্যাচের ৫২ মিনিটে ৪-০। গোল করেন তনুশ্রী রায়। ৮১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় তনুশ্রী। নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোল করেন। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ষষ্ঠ গোল ইউকেএসসির। পুলিশের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেন নিতু লিন্ডা। ছয় জয় এবং ক্লিনশিট রাখতে পেরে খুশি কোচ প্রশস্ত ভট্টাচার্য। যাবতীয় কৃতিত্ব দিলেন মেয়েদের। জানান, ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের আগে এই পারফরম্যান্স মনোবল দ্বিগুণ বাড়াবে। প্রশান্ত ভট্টাচার্য বলেন, 'মেয়েদের মোটিভেশন তুঙ্গে। সবাই চার্জড আপ। আমি ছেলেদের সঙ্গেও কাজ করেছি। কিন্তু মেয়েদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। ছেলেরা সুনীল ছেত্রী বা জাতীয় দলের প্লেয়ারদের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ঘাবড়ে যায়। কিন্তু মেয়েরা ভয় পায় না। জাতীয় দলের প্লেয়ারদের বিরুদ্ধে জয়ের মনোভাব নিয়েই মাঠে নামে। আমরা ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ থেকে পয়েন্ট পাওয়ার চেষ্টা করব।' মাঝে ১০ দিনের বিরতি। তবে কোনও ছুটি নেই। একমাত্র লক্ষ্য লাল হলুদ বধ।















