আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন আচমকাই ঝাঁকে ঝাঁকে আক্রমণ করল মৌমাছি। পালাতে না পেরে মৌমাছির আক্রমণে প্রাণ হারালেন আম্পায়ার। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে।

জানা গিয়েছে, রাজ্যের উন্নাও জেলার সপ্রু স্টেডিয়ামে নির্বিঘ্নেই চলছিল ক্রিকেট ম্যাচ। কিন্তু ম্যাচ চলাকালীন আচমকাই ঝাঁকে ঝাঁকে আক্রমণ করে মৌমাছি। তারই আক্রমণে প্রাণ হারালেন প্রবীণ ক্রিকেট আম্পায়ার মানিক গুপ্তা।

জানা গিয়েছে, তিনি কানপুরের ক্রিকেট মহলে অত্যন্ত সম্মানিত আম্পায়ার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি, কানপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন মানিক।

ওই আম্পায়ারের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিজের ম্যাচ শেষ করার পর ড্রিঙ্কস ব্রেকে অন্য একটি ম্যাচে দায়িত্বে থাকা এক সহকর্মী আম্পায়ারের সঙ্গে দেখা করতে যান মানিক।

সেই সময় আচমকাই একঝাঁক মৌমাছি উপস্থিত সবাইকে আক্রমণ করে। মানিকের ভাই অমিত কুমার গুপ্তা জানান, ‘দাদা ম্যাচ শেষ করে অন্য একজন আম্পায়ারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাঁরা চা খাচ্ছিলেন, হঠাৎ পিছন দিক থেকে মৌমাছির ঝাঁক এসে সবাইকে আক্রমণ করে। পালানোর সময় দাদা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান এবং মৌমাছিরা পুরোপুরি তাঁকে ঘিরে ধরে। অন্যরাও আক্রান্ত হন।’

তিনি আরও জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে আম্পায়ারিং করছিলেন মানিক গুপ্তা। এমনকী, রাজ্যের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের আম্পায়ার প্যানেলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

সহকর্মী আম্পায়ার জগদীশ শর্মা বলেন, ‘ড্রিঙ্কস ব্রেকের সময় মৌমাছির ঝাঁক আমাদের আচমকা আক্রমণ করে। আমরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করি, কিন্তু মানিক ভাই বয়সে বড় হওয়ায় দ্রুত দৌড়তে পারেননি। সবাই মাটিতে শুয়ে পড়লেও মৌমাছিরা তাঁকে মারাত্মকভাবে আক্রমণ করে।’

প্রতিবেশী ভারতেন্দু পুরী জানান, মানিক গুপ্তা সারাজীবন আম্পায়ারিং করে পরিবারকে সমর্থন করে গিয়েছেন। ক্রিকেটের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ছিল অসাধারণ।

তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। তিনি কানপুরের একজন বিশিষ্ট আম্পায়ার ছিলেন এবং কানপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যও ছিলেন।’ এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় ক্রিকেট মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।