আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে হার্দিক পাণ্ডেয়াকেই চিহ্নিত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট কিংবদন্তি এবি ডিভিলিয়ার্স।
হার্দিককে ‘বিগ পিভটাল প্লেয়ার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বড় টুর্নামেন্টে ম্যাচ জেতানো ক্রিকেটারদের ভূমিকাই নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বিশ্বকাপের ভারতীয় দল নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ডি ভিলিয়ার্স দলের ভারসাম্য ও বহুমুখিতা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘দলে এমন অনেক ক্রিকেটার রয়েছে, যারা ব্যাট ও বল দু’দিকেই দক্ষ। এর ফলে স্কোয়াডের ভারসাম্য নিয়ে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায়,’ এই ধরনের স্কোয়াড পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলের সুযোগ করে দেয় বলে মনে করেন তিনি।
ভারতীয় দলের গঠন বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ডি ভিলিয়ার্স দলে থাকা ও বাদ পড়া একাধিক নামের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ওপেনিংয়ে অভিষেক শর্মা, উইকেটকিপার হিসেবে সঞ্জু স্যামসনকে দেখছি। তবে এখানে ঋষভ পন্থ নেই, শুভমন গিল নেই, যশস্বী জয়সওয়াল নেই, জিতেশ শর্মাও নেই। এরা সবাই দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাদ পড়েছে।’
ডিভিলিয়ার্সের মতে, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়ার জন্য এই ক্রিকেটারদের বাদ পড়ার অর্থ তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেয়। তবে এত কিছুর মাঝেও হার্দিক পাণ্ডেয়ার গুরুত্ব আলাদা করে তুলে ধরেন ডিভিলিয়ার্স।
তাঁর কথায়, ‘হার্দিকই হবে দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। ও এমন একজন খেলোয়াড় যে ব্যাট ও বল দু’দিক দিয়েই ম্যাচ জেতাতে পারে। যেকোনও পরিস্থিতিতে বোলিং করতে পারে এবং ব্যাটিং অর্ডারের যেকোনও জায়গায় খেলতে সক্ষম।’
সব মিলিয়ে, এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতে, অলরাউন্ড দক্ষতা ও নমনীয়তার কারণে হার্দিক পাণ্ডেয়াই হতে পারেন আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক রিকি পন্টিং অন্যদিকে জানিয়েছেন, গিল বাদ পড়ায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন। শুভমান গিলকে বাদ দিয়ে দল গড়ার পিছনে কেবল তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম নয়, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে ভারতীয় ক্রিকেটের গভীরতা।
পন্টিং বলেছেন, ‘আমি এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমি জানি সাদা বলের ফরম্যাটে গিলের সাম্প্রতিক ফর্ম ভাল নয়। শেষবার ওকে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলতেই দেখেছি। যেভাবে ব্যাট করেছিল সেভাবে কাউকেই ব্যাট করতে আমি দেখিনি।’
শুভমন গিলের মতো প্রতিভা যদি বিশ্বকাপের দলে সুযোগ না পান, তাহলে তা ভারতীয় ক্রিকেটের গভীরতাকেই পক্ষান্তরে প্রমাণ করে বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক।
পন্টিং বলেন, ‘শুভমান গিলের মতো ক্রিকেটার যদি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা না পায়, তাহলে প্রমাণ করে ভারতে দুর্দান্ত প্লেয়ারের অভাব নেই।’
এশিয়া কাপে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে জায়গা পান গিল। তার পর থেকে ১৫টি ইনিংস খেলেছেন গিল। ২৯১ রান করেছেন। এই সময়ে তিনি পঞ্চাশ বা একশো পাননি। সর্বোচ্চ রান ৪৭।
সেই শুভমান গিলের সময়টা ভাল যাচ্ছে না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খেলতে পারেননি। ইডেনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ঘাড়ে চোট পান গিল।
সেই চোটের লাল চোখ দেখে দ্বিতীয় টেস্টেও নামতে পারেননি গিল। প্রোটিয়া ব্রিগেডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দেখা যায়নি শুভমন গিলকে।
শনিবার নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য ওয়ানডে-র দল ঘোষণা হয়েছে। সেই দলে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে গিলের। দলের রিমোট কন্ট্রোল তাঁর হাতেই উঠেছে। এগিয়ে আসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
সেই মেগা টুর্নামেন্টে মাঠের বাইরে বসে দলের পারফরম্যান্স দেখতে হবে শুভমন গিলকে। বিশ্বকাপের দল থেকে গিলের বাদ পড়া দেখে বিস্মিত হয়ে পন্টিং বলছেন, ‘আমি বিশ্বাসই করে উঠতে পারছি না।’
