সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: শুক্রবার সন্ধেয় ইডেনের মিডিয়া সেন্টারে বসে ড্যারেন স্যামি জানিয়েছিলেন, শিমরন হেটমেয়ার এবার পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক বলেন, 'দারুণ ফর্মে আছেন হেটমেয়ার। ওকে একা ছেড়ে দিন।' কথা ফলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচের। ইডেনে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিলেন শিমরন হেটমেয়ার। ভাঙলেন ক্রিস গেইলের রেকর্ড। ২৩ বলে অর্ধশতরান করেছিলেন 'দ্য ইউনিভার্স বস'। এদিন ২২ বলে অর্ধশতরান করেন আরেক বাঁ হাতি। শুধু ব্যাট হাতে নয়, নেন দুর্ধর্ষ ক্যাচও। বাউন্ডারিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচ নিয়ে ফেরান জর্জ মুনসেকে। শুরুটা যদি হেটমেয়ারের হয়, শেষটা রোমারিও শেফার্ডের। ৫ বলে ৪ উইকেট। মোট পাঁচ। ৩ ওভার বল করে ২০ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন। শেফার্ডের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। টি-২০ বিশ্বকাপে মোট দশম হ্যাটট্রিক। 

পয়া মাঠে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ১০ বছর আগে এই ইডেন গার্ডেন্সে ড্যারেন স্যামির হাতে বিশ্বকাপ উঠেছিল। আজও ডাগআউটে আছেন তিনি। শুধু ভূমিকা বদলেছে। সাই হোপদের কোচ দু'বারের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। শনিবার ৩৫ রানে জেতে ক্যারিবিয়ানরা। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারের শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ১৮.৩ ওভারে ১৪৭ রানে শেষ স্কটল্যান্ডের ইনিংস। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি আনকোরা স্কটল্যান্ড। তাও আবার বাংলাদেশ বাদ পড়ার পর সুযোগ পায়। নয়ত বিশ্বকাপ খেলার সুযোগই হত না। দু'বারের টি-২০ বিশ্বকাপজয়ীদের যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে, সেটা বোধহয় অতি বড় স্কটিশ সমর্থকও ভাবতে পারেনি। কিন্তু চমক স্কটল্যান্ডের। একটা সময় পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে। খেলা জমিয়ে দেওয়ার মতো জায়গায় নিয়ে যাচ্ছিলেন রিচি বেরিংটন। কিন্তু ২৪ বলে ৪২ রান করে স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক আউট হতেই ম্যাচ বেরিয়ে যায়। টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠান বেরিংটোন। কিন্তু একমাত্র হেটমেয়ার ছাড়া উল্লেখযোগ্য রান নেই। শুরুটা ভাল করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম উইকেটে ৫৪ রান যোগ করেন ব্র্যান্ডন কিং এবং সাই হোপ। ২২ বলে ১৯ রান করে আউট হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক। ৩৫ রানে ফেরেন কিং। 

ওয়ান ডাউনে নেমে দলকে একাই টানেন হেটমেয়ার। ৩৬ বলে করেন ৬৪ রান। মারকুটে ইনিংসে ৬টি ছয়, ২টি চার। স্ট্রাইক রেট ১৭৭.৭৭। একটা সময় মনে হয়েছিল, ২০০ রানের গণ্ডি পার করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু হেটমেয়ার আউট হওয়ার পর রানের গতি কিছুটা কমে যায়। তবে শেষদিকে গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন রোভমান পাওয়েল (২৪) এবং শেরফেন রুদারফোর্ড (২৬)। রান তাড়া করতে নেমে নিয়মিত উইকেট হারায় স্কটল্যান্ড। হ্যাটট্রিক রোমারিও শেফার্ডের। ১৭তম ওভারে পরপর ফেরান ম্যাথিউ ক্রস, মাইকেল লিস্ক এবং অলিভার ডেভিডসনকে। মাঝে শুধু একটা বল। ওভারের শেষে বলে আউট করেন সাফইয়ান শরিফকে। ৫ বলে ৪ উইকেট। হ্যাটট্রিক সহ চার উইকেট। মোট পাঁচ। রিচি বেরিংটন (৪২) এবং টম ব্রুস (৩৫) ছাড়া কেউ রান পায়নি। ম্যাচের সেরা শিমরন হেটমেয়ার।