সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: রবিবাসরীয় ইডেন সঞ্জুময়। গৌতম গম্ভীর থেকে শীতাংশু কোটাক, সাই হোপ সবার মুখে একটাই নাম। যার খেলারই কথা নয়, সেই কি না ম্যাচ উইনার। তাও আবার নিখুঁত ইনিংস। টি-২০ ক্রিকেটে রান তাড়া করতে নেমে ভারতীয়দের মধ্যে সেরা পাঁচ ইনিংসের মধ্যে জায়গা পাবে সঞ্জু স্যামসনের এই ইনিংস। হোক না ব্যাটিং স্বর্গ, যতই ইডেনে পরে ব্যাট করা সহজ হোক না কেন, বিশ্বকাপের নক আউট মঞ্চে স্নায়ু ধরে রেখে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ার সাহস লাগে। যা করে দেখান ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটার। সঞ্জুর ভূয়সী প্রশংসা করেন টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ। শুধুমাত্র নিখুঁত ইনিংসের নয়, মানসিক দৃঢ়তার বিশেষ উল্লেখ করেন।
গম্ভীর বলেন, 'সঞ্জু ক্লাস প্লেয়ার। আমি সবসময় জানতাম ও কতটা ভাল, যখন দলের ওকে সবচেয়ে প্রয়োজন, নিজেকে মেলে ধরেছে। এই জায়গা থেকে এবার শুধু সামনের দিকে এগোনোর পালা। আমার মনে হয়নি কখনও গিয়ার পরিবর্তন করেছে। স্বাভাবিক ক্রিকেটীয় শট খেলে। ওর প্রতিভা এমনই। ইডেনের উইকেট এবং আউটফিল্ড ভাল। নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করেছে। ওর থেকে আমাদের প্রত্যাশা অনেক।' গৌতি মনে করেন, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ইনিংস সংক্ষিপ্ত হলেও, সেটাই সঞ্জুর মনোবল ফিরিয়েছে। হাই-প্রোফাইল সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের আগে ঈশান কিষাণের পাশাপাশি আরও একজন ছন্দে থাকা উইকেটকিপার ব্যাটারকে পেয়ে স্বস্তিতে টিম ম্যানেজমেন্ট। গম্ভীর বলেন, 'সঞ্জুর শেষ ইনিংস গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বেশ কয়েকদিন দলের বাইরে থেকে ফিরে এসে ঝোড়ো ২৩-২৪ রানের ইনিংস ওর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। নিউজিল্যান্ড সিরিজ ওর খারাপ গিয়েছে। কিন্তু টি-২০ তে তিনটে শতরান সবার থাকে না। আমি জানতাম ওকে চাপের পরিস্থিতি থেকে বের করতে হবে। জানতাম একদিন ভাল খেলবেই। জিম্বাবোয়ে ম্যাচে অল্প সময় ক্রিজে থাকলেও ওর জন্য আমাদের শুরুটা ভাল হয়েছে। এটাই আমরা সঞ্জুর থেকে আশা করি। এই ধরনের পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতা এবং মানসিক শক্তি পার্থক্য গড়ে দেয়। বিশেষ করে বিশ্বকাপে। দক্ষতা নয়, চাপ নেওয়ার মানসিক শক্তি দরকার। মরণ-বাঁচন ম্যাচে ১৯৫ রান তাড়া করা সহজ নয়। সেটা ও ঠাণ্ডা মাথায় করে দেখিয়েছে। এবার ওকে আরও ধারাবাহিক হতে হবে।'
শুধু সঞ্জু নয়, সাফল্যের কৃতিত্ব গোটা দলকে দেন গম্ভীর। জানান, এমন পরিস্থিতিতে শিবম দুবের দুটো বাউন্ডারিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গম্ভীর বলেন, 'ক্রিকেট দলগত খেলা। দুবের দুটো চারও সাহায্য করেছে। সঞ্জুর ইনিংস বিশেষ। বড় অবদান হেডলাইনে থাকে। ছোট অবদান দলকে জিততে সাহায্য করে।' জয়ের জন্য পাওয়ার প্লের পারফরম্যান্সের কৃতিত্ব দেন গম্ভীর। এক ওভারে জোড়া উইকেট নিয়ে পার্থক্য গড়েন বুমরা। কিন্তু অক্ষর এবং হার্দিকের বোলিংয়ের বিশেষ প্রশংসা করেন। তাঁদের বোলিংয়ে পাওয়ার হিটাররা হাত খুলতে পারেনি। জানান, পাওয়ার প্লে কখনই তাঁদের হাতের বাইরে বেরিয়ে যায়নি। নয়ত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আটকানো কঠিন হত। গম্ভীর জানান, ইডেনে রান তাড়া করে জেতার সম্ভাবনা সবসময় বেশি। তাই কখনই আশা ছাড়েননি। গম্ভীর বলেন, 'আমি ইডেনে প্রচুর ম্যাচ দেখেছি। এখানে আউটফিল্ড খুব দ্রুত। উইকেট হাতে থাকলে রান তাড়া করে জেতা অসম্ভব নয়। পার্টনারশিপ গুরুত্বপূর্ণ। সূর্য এবং সঞ্জু ম্যাচটা ধরে। তিলকের ক্যামিও গুরুত্বপূর্ণ। শেষ চারের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি ভারত। গম্ভীর জানান, ইংল্যান্ড বিশ্বমানের দল। তাঁদের হারাতে সেরা খেলা খেলতে হবে টিম ইন্ডিয়াকে।
