আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেন যে তারা অপরাজিত, সেমিফাইনালে এসে দেখিয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। পর পর উইকেট হারিয়ে দল যখন বিপন্ন, ঠিক সেই সময়ে স্টাবস ও জ্যানসেন প্রোটিয়া ব্রিগেডকে পৌঁছে দিলেন ভদ্রস্থ জায়গায়। রাবাদা-এনগিডিদের হাতে ১৬৯ রানের পুঁজি তুলে দিলেন এই দুই তারকা প্রোটিয়া ব্যাটার। বিশেষ করে বলতে হয় জ্যানসেনের কথা। তাঁর কাউন্টার অ্যাটাকে নিউজিল্যান্ড কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে চলে গেল। আরও কম রানে প্রোটিয়াদের থামিয়ে রাখা যেত, কিন্তু জ্যানসেনের আগ্রাসী ব্যাটিং দক্ষিণ আফ্রিকাকে পৌঁছে দিল লড়াই করার মতো জায়গায়। বাকিটা এখন বোলাররা করবেন।
একসময়ে মনে হচ্ছিল নক আউটে খেলতে নামলেই দক্ষিণ আফ্রিকার 'চোক' করে যাওয়া দস্তুর হয়ে গিয়েছে। পুরনো রোগ সারেনি এখনও। সেই দিকেই এগোচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু স্টাবস ও জ্যানসেন অন্যকিছু ভেবে রেখেছিলেন। দুই প্রোটিয়া ব্যাটার ৭৩ রান জুড়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫ উইকেটে ৭৭ থেকে পৌঁছে দেন ৬ উইকেটে ১৫০ রানে।স্টাবসকে (২৯) বোল্ড করেন ফার্গুসন। তার পরে জ্যানসেনের ব্যাট চলতে থাকে। ২৭ বলে পঞ্চাশ করে ফেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জ্যানসেন টিকে থাকেন ৫৫ রানে। এই ৫৫ রানই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে অনেক। তাঁর জন্যই প্রোটিয়ারা ২০ ওভারে করে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান। একদিকে একের পর এক উইকেটের পতন দেখেও জ্যানসেন লড়াই থামাননি। দলকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য ছিল। আরেকটু বেশি রান করলে আরও কঠিন পরীক্ষায় ফেলা যেত নিউজিল্যান্ডকে, তবে এই রানও খারাপ নয় সেমি-যুদ্ধে।
এদিন টস জিতে নিউজিল্যান্ড প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডাররা
ক্যাচ ছেড়েছেন। তার সুযোগ নিতে পারেননি মার্করাম ও ডেভিড মিলার। প্রোটিয়া অধিনায়ক মার্করামের ক্যাচ ফেলেন রাচীন রবীন্দ্র। ডেভিড মিলারের ক্যাচ ফেলে দিলেন গ্লেন ফিলিপস। কিন্তু জীবন ফিরে পাওয়ার সদ্ব্যবহার তাঁরা করলেন কোথায়? গ্যালারিতে ছুড়ে ফেলার নেশা তাঁদের সামনে মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে হাজির হল।
ইডেন গার্ডেন্সের পিচে সঞ্জু স্যামসনের ব্যাট ভারতকে নিয়ে গিয়েছে সেমিফাইনালে। সেই বাইশ গজে এদিন ফাটল দেখা যায়। স্পিনাররা সাহায্য পাবেন এই পিচে। ম্যাচে সেই সুবিধাও পেলেন কিউয়িরা। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক স্যান্টনার টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট করতে নেমেই হারাকিরি শুরু করে। কোল ম্যাকনকি পরপর দুই বলে কুইন্টন ডি কক (১০) ও রায়ান রিকেলটনকে (০)ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিকের গন্ধ পেতে শুরু করেন। ১২ রানে ২ উইকেট খুইয়ে প্রোটিয়া ব্রিগেড চলে যায় ব্যাকফুটে।
এর মধ্যেই ফর্মে থাকা মার্করামের ক্যাচ ফেলেন রাচীন রবীন্দ্র। ধারাভাষ্যকাররা বলতে শুরু করেন, ''১৯৯৯ বিশ্বকাপে স্টিভ ওয়ার ক্যাচ ছেড়েছিলেন হার্শেল গিবস। তার পরে স্টিভ ওয়া ম্যাচ নিয়ে চলে যান অজি শিবিরে।''
মার্করাম যতক্ষণ ক্রিজে থাকতেন, ততক্ষণ চাপে থাকতেন রবীন্দ্র। কিন্তু সেই রবীন্দ্রই প্রায়শ্চিত্ত করেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক মার্করামকে (১৮) ফিরিয়ে দিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার রান তখন ৩ উইকেটে ৫৫। তবে মার্করামের ক্যাচ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। মার্করামের ক্যাচ কি ঠিকভাবে ধরেছিলেন মিচেল? ক্যাচ ধরার আগেই বল মাটিতে পড়ে গিয়েছিল মনে করছেন ক্রিকেটভক্তরা। সেই সময়ে টিভি আম্পায়ার ছিলেন ভারতের নীতীন মেনন।
ডেভিড মিলার 'কিলার' মিলার বলে পরিচিত ক্রিকেটবিশ্বে। যে কোনও মুহূর্তে ধুন্ধুমার ব্যাটিং করে তিনি ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন। সেই কিলার মিলারের ক্যাচ রবীন্দ্রর বলে ফেললেন গ্লেন ফিলিপস। সেই যাত্রায় বেঁচে গেলেও সেই ওভারের শেষ বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ড্যারিল মিচেলের হাতে ধরা পড়েন ডেভিড মিলার (৬)। পরপর উইকেট খুইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা তখন ৪ উইকেটে ৭৭। মারকুটে ব্রেভিসকে (৩৪) ফেরান নিশাম। প্রোটিয়া ব্যাটারদের এত তাড়াহুড়ো কেন, সেটা একমাত্র তাঁরাই বলতে পারবেন। কিন্তু স্টাবস-জ্যানসেন জুটি ভাঙনের মুখে খেলাটা ধরেন। জ্যানসেনের ব্যাটে ছক্কার বৃষ্টি শুরু হয়। শেষমেশ লড়াই করার মতো জায়গায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে পৌঁছে দেন দীর্ঘ চেহারার জ্যানসেন।
