আজকাল ওয়েবডেস্ক: জিম্বাবোয়ে ম্যাচ ভারতের কাছে মরণবাঁচনের। সেই ম্যাচের বল গড়ানোর আগে ভারতকে স্বস্তি এনে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৩ বল বাকি থাকতে ৯ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ জিতে নিল হাসতে হাসতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এদিন হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনালের টিকিট প্রায় পেয়েই গেল বলে দেওয়াই যায়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে করেছিল ৮ উইকেটে ১৭৬ রান। রান তাড়া করতে নেমে ১৬.১ ওভারে এক উইকেটে ১৭৭ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয়। ঝড় তুলে মার্করাম ৪৬ বলে ৮২ রান করেন। মাত্র ২৪ বলে কুইন্টন ডি কক ৪৭ রান করেন। রায়ান রিকেলটন ২৮ বলে ৪৫ রান করে অপরাজিত থেকে যান।
সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবোয়েকে বড় রানের ব্যবধানে হারানোর ফলে ক্যারিবিয়ানরা পয়েন্ট টেবিলে সবার উপরে চলে গিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা এদিন জিতে যাওয়ায় পয়েন্টের নিরিখে তারা এক নম্বরে উঠে গেল। মার্করামরা এদিন ম্যাচ জিতে ভারতের সাজঘরে অক্সিজেন ছড়িয়ে দিয়ে গেল।
সূর্যকুমার যাদবের দলে গুমোট পরিবেশটাও কিছুটা কাটল জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে নামার আগে। শেষ চারে ভারতের ছাড়পত্র জোগাড় করার সহজ সরল সমীকরণ এখন একটাই। আর তা হল দক্ষিণ আফ্রিকা সুপার এইটের তিনটি ম্যাচই জিতুক। আর ভারত বাকি দুটো ম্যাচ জিতে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চারের টিকিট জোগাড় করবে।
জিম্বাবোয়ে ম্যাচের ফলাফল হওয়ার আগেই বলে দেওয়া যায় সূর্যকুমার যাদবরা অ্যাডভান্টেজে।
বৃহস্পতিবার টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট করতে পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। শুরু থেকেই ক্যারিবিয়ানরা উইকেট হারাতে থাকে। মাইকেল হোল্ডিং ধারাভাষ্য দিলে নিশ্চয়ই বলতেন, ''ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারাকিরি করছে।'' ব্র্যান্ডন কিং, শাই হোপরা এলেন আর গেলেন। গত ম্যাচে শিমরন হেটমায়ার ঝড় তুলেছিলেন। এদিন তিনিও ব্যর্থ। রভম্যান পাওয়েলও ব্যর্থ। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তিনিও জ্বলে উঠেছিলেন।
একটা সময়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিং। ৭ উইকেটে ৮৩ রান। এমন অবস্থায় অতি বড় ওয়েস্ট ইন্ডিজ সমর্থকও বিশ্বাস করেননি ক্যারিবিয়ানরা শেষমেশ ৮ উইকেটে ১৭৬ রান করবে।
হোল্ডার ও শেফার্ড জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোরকে হৃষ্টপুষ্ট জায়গায় পৌঁছে দিল। হোল্ডার এক রানের জন্য পঞ্চাশ করতে পারেননি। অন্যদিকে শেফার্ড ৩৭ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থেকে যান।
অষ্টম উইকেটে শেফার্ডকে সঙ্গে নিয়ে ৫৭ বলে ৮৯ রানের পার্টনারশিপ গড়েন হোল্ডার। শেষের দিকে ঝড় তোলেন দুই ক্যারাবিয়ান ব্যাটার। ১৬ নম্বর ওভারে ১১ রান, ১৭-তম ওভারেও ১১ রানের পাশাপাশি ১৮ নম্বর ওভারে ২৩ রান তোলেন দুই ক্যারিবিয়ান ব্যাটার। আরও বেশি রান করতেই পারত ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ ২ ওভারে এনগিডি ও বশ কেবল ১৩ রান দেন।
১০০ রানের নীচে ৭ উইকেট চলে যাওয়ার পরে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা বিদ্যুতের বেগে রান তুলতে থাকে। ৪ ওভারে প্রোটিয়ারা তোলে ৪২ রান। ১৬ বলে ৩৩ রানে তখন ব্যাট করছেন মার্করাম। কুইন্টন ডি কক তখন ৮ বলে ৮ রানে ক্রিজে।
দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার মার্করাম ও ডি কক ঝড় তুলতে শুরু করে দেন। পাওয়ারপ্লেতে দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৯ রান তুলে ফেলে। ডি কক ২৪ বলে ৪৭ রান করে রোস্টন চেজের শিকার হন। ৯৫ রানে প্রথম উইকেট যায় দক্ষিণ আফ্রিকার। উইকেট পড়লেও প্রোটিয়া ব্রিগেডের রানের গতি থামেনি। মার্করামের সঙ্গে যোগ দেন রায়ান রিকেলটন। বাকি কাজটা সেরে ফেলেন এই দুই প্রোটিয়া তারকা।
