আজকাল ওয়েবডেস্ক: না আইসিসি না পিসিবি না বিসিবি। কারোর হাতেই কিছু নেই। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বহু চর্চিত হাই-ভোল্টেজ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের হাতে।
জানা গিয়েছে, তাঁর সঙ্গে বৈঠকের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পিসিবি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশের ক্রিকেট বোর্ড ও ফেডারেল ক্যাবিনেটের সঙ্গে পরামর্শের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই জানা যাচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম নিউজ-১৮-এর একটি প্রতিবেদন মারফত জানা গিয়েছে, পাকিস্তান-ভারত ম্যাচের বিষয়টি এই সপ্তাহেই ফেডারেল ক্যাবিনেটের বৈঠকে আলোচনার জন্য তোলা হতে পারে।
যদিও পিসিবি আইসিসির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে শেষ কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আইসিসির অনুরোধ খতিয়ে দেখতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন পিসিবি চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।
সূত্রের বক্তব্য, ‘বিস্তারিত আলোচনা ও পরামর্শের পর প্রধানমন্ত্রীই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’ ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করার কথা পাকিস্তান ভাবছে, এমন খবরের মধ্যেই লাহোরে আইসিসি ও পিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়।
রবিবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পিসিবি।
ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। সূত্র আরও জানায়, ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে সম্মতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আইসিসির সামনে একাধিক শর্ত তুলে ধরেছে পিসিবি।
তারমধ্যে প্রথম শর্ত হল, পারিশ্রমিক বাড়াতে হবে বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবদানের জন্য আইসিসির থেকে আরও বেশি আর্থিক লভ্যাংশের দাবি জানানো হয়েছে।
পরিকাঠামো, প্রতিভা অন্বেষণ এবং জাতীয় দলের প্রতিযোগিতামূলক মান উন্নয়নে এই অর্থ প্রয়োজন। দ্বিতীয় শর্ত, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ না খেললেও অংশগ্রহণকারী ফি তাঁদের দিতে হবে।
এই বিষয়ে আইসিসিকে নিশ্চয়তা দিতে হবে। স্বেচ্ছায় বিশ্বকাপ থেকে সরে যায়নি বাংলাদেশ। শুধুমাত্র ভেন্যু বদলের আবেদন করেছিল। ভারতের বদলে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলতে চেয়েছিল।
দাবি করা হয়, প্রস্তুতিতে অনেক অর্ধ ব্যয় করে দলগুলো। সেই কারণে, বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স নির্বিশেষে ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়া প্রয়োজন।
তৃতীয় শর্ত হল, বাংলাদেশকে আইসিসি টুর্নামেন্টের আয়োজনের অনুমতি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ক্রিকেটকে আরও ছড়িয়ে দিতে চাইছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে বোর্ড।
তাঁদের বিশ্বাস, বর্তমানে বাংলাদেশের সেই পরিকাঠামো রয়েছে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ফ্যানদের সমর্থনও আছে। এই তিন শর্ত মেনে নেওয়া হলে, ভারত ম্যাচ বয়কট তুলতে পারে পাকিস্তান।
পিসিবির কিছু কর্মকর্তা শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে আগ্রহী হলেও চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এখনও ম্যাচ বয়কটের অবস্থানেই অনড় থাকতে চান বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান আইসিসির সঙ্গে করা চুক্তিতে থাকা ‘ফোর্স ম্যাজিওর’ ধারা কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনা করেছিল, যাতে বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ম্যাচ এড়ানো যায় এবং যাতে কোনও ক্ষতিপূরণের মুখেও না পড়তে হয়।
এই ধারা অনুযায়ী যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদী হুমকি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সরকারের বাধ্যতামূলক নির্দেশিকার মতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতিতে চুক্তির বাধ্যবাধকতা স্থগিত বা বাতিল করা যায়।
