আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব নিশ্চিত করেছেন, পেটের অসুস্থতার কারণে অভিষেক শর্মা আপাতত দলের বাইরে থাকছেন।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নামিবিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে খেলছেন না অভিষেক। তাঁর জায়গায় দলে নেওয়া হয়েছে সঞ্জু স্যামসনকে। সূর্যকুমারের ইঙ্গিত অনুযায়ী, এক বা দুটি ম্যাচ মিস করতে পারেন বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার অভিষেক।
টস হেরে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ শুরুর আগে সূর্যকুমার বলেন, ‘অভিষেক এখনও পুরোপুরি সুস্থ নয়। সে একটি বা দুটি ম্যাচ খেলতে পারবে না। ঠিক কতদিন লাগবে, সেটাও এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’
ফলে নামিবিয়া ম্যাচ তো বটেই, রবিবার পাকিস্তান ম্যাচেও অভিষেকের খেলা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অভিষেকের মতো ফর্মে থাকা ব্যাটারের অনুপস্থিতি ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে দলের মেডিক্যাল টিম তার সুস্থতার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং দ্রুত মাঠে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। শোনা যাচ্ছে ডিহাইড্রেশন বা পেটের সংক্রমণের জন্য ওজন বেশ খানিকটা কমেছে অভিষেকের।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিষেকের ওজন বেশ খানিকটা কমেছে। দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অভিষেক।
জানা গিয়েছিল, আমেরিকা ম্যাচের আগেরদিনই নেট সেশনের সময় সমস্যা হচ্ছিল অভিষেকের। খুব বেশিক্ষণ অনুশীলন করেননি। আমেরিকা ম্যাচে প্রথম বলেই আউট হন। ফিল্ডিং করেননি সেই ম্যাচে।
ওই ম্যাচ চলাকালীনই জ্বর আসে অভিষেকের। হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় ওপেনার ব্যাটারকে। দু’দিন পর ছাড়া পেয়েছেন।এই পরিস্থিতিতে, টিম ইন্ডিয়ার অন্দর থেকে অভিষেক শর্মার অসুস্থতা নিয়ে বিস্ফোরক খবর প্রকাশ্যে এসেছে।
অভিষেকের পেটে সংক্রমণ হয়েছিল। আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের আগে থেকেই সমস্যায় ভুগছিলেন। ম্যাচের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। জ্বরের জন্য উচ্চ তাপমাত্রা ছিল এবং তাৎক্ষণিক উপশমের জন্য ওষুধ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু তাতে সমস্যা কমেনি। দলের সঙ্গে অনুশীলনও করতে পারেননি। এসবের মধ্যেই সোমবার রাতে কোচের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক।
আসলে এই মুহূর্তে টিম ইন্ডিয়া গম্ভীরের শহর দিল্লিতে। স্বাভাবিকভাবেই টিমকে আমন্ত্রণ জানান তিনি। কিন্তু প্রশ্ন হল, অসুস্থ অভিষেককেও কেন কোচের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যেতে হল?
জানা গিয়েছে, সোমবার গম্ভীরের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গেলেও পুরো সময়টা পার্টিতে ছিলেন না তিনি। কিছুক্ষণ পরই বেরিয়ে এসে টিম বাসে বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে।
সেসময় তাঁকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল বেশ অস্বস্তিতে রয়েছেন তিনি। অথচ গোটা টিম না আসায় হোটেলেও ফিরতে পারেননি। সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অনেকেই মনে করছেন, শারীরিকভাবে সুস্থ না হওয়া সত্ত্বেও একপ্রকার বাধ্য হয়েই কোচের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যেতে হয় অভিষেককে। কারণ, বর্তমানে টিম ইন্ডিয়ায় টিকে থাকতে হলে কোচের মন রাখা জরুরি।
তাছাড়া বিসিসিআই টিম বন্ডিংয়ের নামে রীতিমতো কড়া নির্দেশিকাও দিয়ে রেখেছে। এই ধরনের নিমন্ত্রণ রক্ষা বা কোনও পার্টিতে গোটা দলকে একসঙ্গে টিম বাসে যাতায়াত করতে হয়। তরুণ অভিষেক সেই নিয়ম ভাঙার সাহস দেখাননি। যার মূল্য তাঁকে চোকাতে হল অসুস্থতা দিয়ে।
