আজকাল ওয়েবডেস্ক: নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাস এবং নেদারল্যান্ডসের অলরাউন্ডার কলিন অ্যাকারম্যান সোমবার দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে একই সুরে কথা বললেন।

তাঁদের দাবি, সহযোগী দেশগুলির ক্রিকেটের উন্নতির জন্য শীর্ষস্থানীয় দলগুলির বিরুদ্ধে আরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করা উচিত আইসিসির।

ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা নামিবিয়া ও নেদারল্যান্ডস টুর্নামেন্টের আগে পর্যাপ্ত ম্যাচ অনুশীলনের সুযোগ পায়নি। নেদারল্যান্ডস শেষবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছিল গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে, বাংলাদেশ সফরে।

অন্যদিকে নামিবিয়া ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মাত্র একটি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ খেলেছে।

এই সময়ের মধ্যে ভারত গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে মোট ২৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেলেছে। বিশ্বকাপে দেখা গিয়েছে, সহযোগী দেশগুলি ক্রমশ পূর্ণ সদস্য দেশগুলিকে চাপে ফেলছে।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নেপালের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের লড়াকু প্রদর্শন তার উদাহরণ। তবু ছোট দলগুলির জন্য পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ না থাকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে।

ইরাসমাসের মতে, অভিজ্ঞতার অভাবে তাদের মতো দলগুলি প্রায়ই ইনিংসের ১৪ বা ১৫ ওভারের পর থেকে গতি হারায়। চাপের মুহূর্তে কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হয়, সেই অভিজ্ঞতার অভাবই এর প্রধান কারণ বলে মনে করেন তিনি।

একই মত প্রকাশ করেন অ্যাকারম্যানও। তিনি জানান, নেদারল্যান্ডসের শেষ পূর্ণ সদস্য দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে হয়েছিল বেশ কয়েক মাস আগে।

নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে তিনি বলেন, ‘বড় দলের বিরুদ্ধে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগটাই সবচেয়ে বড় অভাব। এই টুর্নামেন্টে নামার আগে আমাদের শেষ পূর্ণ সদস্য দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল গত বছর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। আমরা কঠোর পরিশ্রম করি ঠিকই, কিন্তু শীর্ষ দলগুলির বিরুদ্ধে আরও বেশি ম্যাচ খেললে আমাদের প্রস্তুতি অনেক ভাল হত।’

বিশ্বকাপের আগে ম্যাচ অনুশীলনের অভাব আইসিসির আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। তবে নামিবিয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন ইরাসমাস।

তাঁর কথায়, ‘গত দুই বছরে আইসিসি আমাদের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। ২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ও ২০২৭ সালের পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পেয়েছি আমরা। নিজেদের প্রথম ক্রিকেট মাঠ তৈরি হয়েছে। এখন আর রাগবির সঙ্গে মাঠ ভাগ করতে হয় না।’

তিনি আরও জানান, নামিবিয়ায় এখন আধুনিক জিম, রিকভারি রুম, পর্যাপ্ত টার্ফ নেট ও পিচ রয়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘সমাধান একটাই, আরও বেশি ম্যাচ খেলা এবং আরও বেশি সংস্থান ও পরিকাঠামো।’ যোগ করেন নামিবিয়ার অধিনায়ক।

নেদারল্যান্ডসের পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। দলের একাধিক খেলোয়াড় ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে নিয়মিত খেলেন, ফলে উচ্চমানের প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা তাঁদের রয়েছে।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে অল্প ব্যবধানে হেরে গেলেও অ্যাকারম্যান মনে করেন, গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরোনোর লক্ষ্য নিয়েই ভাবা উচিত ডাচদের। টুর্নামেন্টের আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মুম্বইয়ে প্রস্তুতি শিবির করেছিল নেদারল্যান্ডস, যার প্রভাব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পারফরম্যান্সে দেখা গেছে।

অ্যাকারম্যান বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে আমাদের লক্ষ্য সেমিফাইনালে পৌঁছনো। দলের মধ্যে সেই ক্ষমতা ও দক্ষতা রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি। শুরুটা সেরা হয়নি, তবে সামনে এখনও তিনটি বড় ম্যাচ আছে।’

নামিবিয়া ও ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, নেদারল্যান্ডস আগেও টেস্ট খেলিয়ে দেশগুলিকে হারিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে আত্মবিশ্বাস প্রবল। নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য গত ছ’মাস ধরে আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। পরের তিন ম্যাচেই তার প্রতিফলন দেখা যাবে।’