আজকাল ওয়েবডেস্ক: সেই কালজয়ী গানের লাইন মনে করিয়ে দিলেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। সূর্য বলল ইস! আমি উঠলাম ভাগ্যিস, তাই রাত্তির হলো ভোর। সূর্যের ব্যাটে নতুন এক ভোরের খোঁজে ওয়াংখেড়ে। থুড়ি, গোটা দেশ। 

মুম্বই নগরীতে যখন মনে হচ্ছিল অকালেই রাত নেমে আসছে, ঠিক তখনই সূর্যকুমার যাদবের ব্যাট গর্জে উঠল। অন্ধকার সরিয়ে তাঁর ব্যাট এনে দিল আলোর রোশনাই। 

৪৯ বলে ৮৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস উপহার দিলেন ভারত অধিনায়ক। তাঁর জন্যই ২০ ওভারের শেষে ভারতকে ভদ্রস্থ দেখাচ্ছে। ৯ উইকেটে ১৬১ রানও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাহাড়প্রমাণ দেখাচ্ছে। 

মুম্বই নগরী ফিরে আসতে জানে। জানে ঘুরে দাঁড়াতে। সূর্যকুমার যাদবও মুম্বইয়ের ছেলে। একসময়ে তাঁকে নিয়ে সংশয়-সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। কিন্তু মোক্ষম সময়ে সূর্যকুমার যাদব দেখালেন, তিনিই আসল বস। চার-ছক্কায় ওয়াংখেড়ে মাতালেন তিনি। শেষ ওভারে ২১ রান নিলেন সূর্য। ভারতের সাজঘরে এনে দিলেন স্বস্তি।  
মহম্মদ সিরাজ, অর্শদীপ সিংদের লড়াইয়ের অস্ত্র তুলে দিলেন ভারত অধিনায়ক। সপ্তরথী ব্যর্থ হওয়ার দিনে সূর্য একা কুম্ভ রক্ষা করে গেলেন। 

যে দলটা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাকিদের হারিয়ে মেঘের উপর দিয়ে হাঁটতে শুরু করেছিল, সেই তারাই ওয়াংখেড়েতে একসময়ে রীতিমতো ধুঁকছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধ্বনি উঠতে শুরু করেছিল, আজ কপালে দুর্ভোগ রয়েছে। 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ভারতের। তাও আবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। সেই স্মৃতিজড়িত স্টেডিয়ামেই ভারতের অতলান্তিক ব্যাটিংয়ের কঙ্কাল বেরিয়ে পড়েছিল। 

বিশ্বক্রিকেটের লিলিপুট দলগুলোর অন্যতম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একটা-দুটো ম্যাচে অঘটন ঘটিয়ে চমকে দেওয়া ছাড়া মার্কিন-ক্রিকেটের মহিমা আর কোথায়! সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটিং খোঁড়াতে শুরু করে দিল। উঠে গিয়েছিল নাভিশ্বাস। 

টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সৌরভ নেত্রাভালকারের পঞ্চম বলে মিড অনের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করেন ঈশান কিষান।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী মেজাজে ধরা দেওয়া  ঈশান কিষানের জন্য প্রথম একাদশের দরজা খুলে গিয়েছে। সঞ্জু স্যামসনের জায়গা হয়েছে বেঞ্চে। ঈশান কিষান যে ওপেন করবেন, তা আগেই জানিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষান বিস্ফোরক দুই ওপেনার ভারতকে দারুণ শুরু দিতে পারলেন না। 
প্রথম বলেই ফিরতে হল অভিষেক শর্মাকে। আলি খানের বল গ্যালারিতে ফেলতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনের কাছে ধরা পড়েন অভিষেক। খাতা না খুলেই ফেরেন তিনি।

অভিষেক শর্মার উইকেট খুইয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারতীয় ব্যাটিং। তিলক ভার্মা এবং ঈশান কিষান শুরুর ধাক্কা সামলে আগ্রাসী ক্রিকেট তুলে ধরার চেষ্টা করেন। 

কিন্তু এই জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। শালকউইকের বলে ১৬ বলে ২০ রানে ফেরেন ঈশান কিষান। শিবম দুবে স্লোয়ার ডেলিভারিটা বুঝতেই পারলেন না। প্রথম বলেই আউট হন তিনি। পাওয়ার প্লে-তেই ভারতের চার-চারটি উইকেট পড়ে। 

রিঙ্কু সিং ফেরেন শালকউইকের বলে। হ্যাটট্রিকের হাতছানি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোলারের সামনে।  ১৪ বলে ৬ রান করেন রিঙ্কু।

হার্দিক পাণ্ডিয়া যে কোনও সময়ে ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন। চার মেরে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিলেও পাণ্ডিয়ার ইনিংস থেমে যায় মাত্র ৫ রানে। অক্ষর প্যাটেলও ১৪ রানে ফেরেন। 

বিশ্বকাপের আগে সূর্যকুমারের ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে অনেকেই চিন্তিত ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে তিনি স্বস্তি ফেরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভারত অধিনায়ক কিন্তু একা কুম্ভ রক্ষা করে গেলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ মানেই সূর্যর জ্বলে ওঠা। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জেও তিনি অর্ধশতরান করে ভারতকে জয় এনে দিয়েছিলেন। এদিন ওয়াংখেড়েতে সূর্যের গনগনে তেজ দেখা গেল।