আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুভমন গিলের জায়গায় ঈশান কিষাণকে টি-২০ বিশ্বকাপের দলে নেওয়া হয়েছিল। তখন অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন। নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত আরও একবার সঠিক প্রমাণিত করলেন পকেট রকেট। এদিনও ভারতের সেরা ব্যাটার বাঁ হাতি। ভারতের ১৭৫ রানের মধ্যে ৭৭ ঈশান কিষাণের। ২৭ বলে অর্ধশতরানে পৌঁছে যান। ৪০ বলে ৭৭ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের উইকেটকিপার ব্যাটার যখন ব্যাট করছিলেন, মনে হয়েছিল অনায়াসেই ২০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যাবে টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু ঈশান আউট হতেই ফুটে উঠল রূঢ় বাস্তব। বেরিয়ে আসে পিচের চরিত্র। বোঝা যায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন ঈশান।
দুরন্ত ইনিংসে গৌতম গম্ভীরকে ছাপিয়ে গেলেন ঈশান। টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান ছিল ভারতের হেড কোচের। ২০০৭ বিশ্বকাপ ফাইনালে গম্ভীরের ৭৫ রান ভারতকে জিততে সাহায্য করে। প্রায় দুই দশকের রেকর্ড ভেঙে দিলেন ঈশান। তাঁর এই দাপুটে ইনিংসে তালিকায় পাঁচ নম্বরে নেমে গেলেন গম্ভীর। তবে একটুর জন্য ফস্কে যায় আরও একটি রেকর্ড। টপকাতে পারলেন না বিরাট কোহলিকে। ২০২২ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৮২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তারকা ক্রিকেটার। অনেকেই এটাকে টি-২০ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ইনিংস মানে। এদিন কাছাকাছি পৌঁছেও ভাঙতে পারলেন না কোহলির রেকর্ড। সাইম আইয়ুবের বলে বোল্ড হওয়ার আগে মনে হয়েছিল অনায়াসেই ৮০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যাবেন ঈশান। কিন্তু পারেননি।
মাত্র এক রানের জন্য ভাঙতে পারলেন না কোহলির আরও একটি রেকর্ড। ২০১২ সালে কলম্বোয় ৭৮ রান করেন বিরাট। যার ফলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তালিকায় চতুর্থ স্থানে ঈশান। তাঁর মারকুটে ইনিংসে ভর করে ওভার প্রতি ১০ রান রাখতে সক্ষম হয় ভারত। এদিন টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান সলমন আঘা। প্রথম ওভারেই আউট হন অভিষেক শর্মা। চার বল ক্রিজে টেকেন। খাতা খুলতে পারেননি। পেটের সংক্রমণের জন্য নামিবিয়া ম্যাচ খেলতে পারেনি। কিন্তু প্রত্যাবর্তনে শূন্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও খাতা খুলতে ব্যর্থ হন। তবে বাঁ হাতি ওপেনারের ব্যর্থতা ঢেকে দেন আরেক বাঁ হাতি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেরা ইনিংস ঈশান কিষাণের। কলম্বোর মন্থর পিচে এমন ইনিংস খেলা মোটেই সহজ নয়। মূলত দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেন পকেট রকেট।
