আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ তিনি অবাধ্য ছেলে। বেহিসাবি জীবনযাপন করবেন। আবার ছন্দেও ফিরবেন।

শিবরাত্রিতে জ্বলে উঠলেন ঈশান কিষান। ৪০ বলে ৭৭। একাই গুড়িয়ে দিলেন পাকিস্তানকে। এটা ঘটনা, কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামের ২২ গজ ব্যাট করার জন্য সহজ ছিল না। মন্থর পিচেই পাকিস্তানের বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করলেন ঈশান কিষান। প্রথম ওভারে অভিষেক শর্মার আউট হওয়ার ধাক্কা বুঝতেই দেননি তরুণ উইকেটরক্ষক–ব্যাটার। ৪০ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলা ঈশানই পেয়েছেন ম্যাচের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার। ম্যাচ শেষে পাকিস্তানকে হারানোর নায়কের মুখে দেশ।

পুরস্কার নেওয়ার পর ঈশান বললেন, ‘উইকেট সহজ ছিল না। কোনও কোনও সময়ে নিজের দক্ষতার উপর আস্থা রেখে ব্যাট করতে হয়। শুধু বলের উপর চোখ রেখে যতটা সম্ভব রান তোলার চেষ্টা করেছি। নিজের দক্ষতায় আস্থা রেখেছি। অফ সাইডের শট উন্নতি করার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করেছি। তারই সুফল পাচ্ছি।’

এটা ঘটনা, প্রেমদাসার বড় মাঠে ফিল্ডিংয়ের ফাঁক খুঁজে শট মারার চেষ্টা করেছেন ঈশান। ১০টি চার এবং ৩টি ছয় দিয়ে সাজানো ইনিংস নিয়ে বলেছেন, ‘খুচরো রান নেওয়ার উপরেও জোর দিয়েছি আমরা। এককে দুই বা দুইকে তিন করার চেষ্টা করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ১৬০–১৭০ রান তোলা। আমরা জানতাম এমন মন্থর পিচে এই রান বেশ ভাল।’ ভারত–পাক লড়াই নিয়ে ঈশানের বক্তব্য, ‘এই ম্যাচ সব সময় আলাদা। জয়টা শুধু আমাদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। দেশের জন্যও প্রয়োজন ছিল। ওদের দলে কয়েক জন ভাল স্পিনার রয়েছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই জয়টা আমাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করবে। পরের ম্যাচগুলোয় কাজে লাগবে।’

ঈশানের মুখে শোনা গিয়েছে সতীর্থদের প্রশংসাও। বিশেষ করে দুই জোরে বোলারের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, ‘জসপ্রীত বুমরা এবং হার্দিক পাণ্ডিয়া এই পিচে যেভাবে বল করল, সেটা দুর্দান্ত। ব্যাট করার সময় মনেই হয়নি, এই পিচে জোরে বোলাররা কিছু করতে পারবে। মনে হয়েছিল বুমরা ভাই কিছুটা ভাল করতে পারে। নতুন বল হোক বা ডেথ ওভারে ওর উপর ভরসা করতে হবে। তবে হার্দিক দারুণ বল করল। একদম পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করেছে। ঠিক জায়গায় বল রেখে গিয়েছে ধারাবাহিকভাবে।’