আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি–২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত। সেমিফাইনালে নজর কেড়েছেন অক্ষর প্যাটেল। ভারতীয় দলের সহ–অধিনায়ক বল হাতে সাফল্য না পেলেও হ্যারি ব্রুক এবং উইল জ্যাকসের আউটের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকাই প্রধান। ইংল্যান্ড অধিনায়কের ক্যাচ ধরার পাশাপাশি জ্যাকসের কঠিন ক্যাচ সহজ করে দেন অক্ষর। প্রতিপক্ষের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেওয়া অক্ষর দু’টি ক্যাচের মধ্যে সেরা বেছে নিয়েছেন একটিকে।
ইংল্যান্ডের ইনিংসের পঞ্চম ওভারে পয়েন্টে ফিল্ডিং করছিলেন অক্ষর। জসপ্রীত বুমরার কম গতির বল তুলে মেরেছিলেন ব্রুক। বলের গতি কম থাকায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের শট বাউন্ডারি পর্যন্ত পৌঁছোয়নি। পয়েন্ট থেকে বাউন্ডারির দিকে মুখ করে প্রায় ২০ মিটার দৌড়ে খানিকটা সামনে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ ধরেন অক্ষর। ব্রুকের শট মারা থেকে অক্ষরের ক্যাচ ধরা পর্যন্ত সময় ছিল ৫.৪ সেকেন্ড।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ইংল্যান্ডের ইনিংসের ১৪ তম ওভারে। অর্শদীপ সিংয়ের ওয়াইড ফুলটসে ছয় মারার চেষ্টা করেছিলেন জ্যাকস। প্রায় মেরেও দিয়েছিলেন। সে সময় ডিপ কভারে ফিল্ডার ছিলেন অক্ষর। বাঁদিকে বেশ খানিকটা দৌড়ে বাউন্ডারি লাইনের একদম ধারে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ ধরেন তিনি। গতি নিয়ন্ত্রণ করার মতো পরিস্থিতি না থাকায় বাউন্ডারি লাইনের বাইরে চলে যাওয়ার ঠিক আগে অক্ষর বল ছুড়ে দেন কাছে পৌঁছে যাওয়া শিবম দুবেকে। জ্যাকসের ক্যাচ সম্পূর্ণ করেন শিবম। ইংরেজ ব্যাটারকে আউট করা ফিল্ডার হিসাবে পরিসংখ্যানে শিবমের নাম লেখা থাকলেও ক্যাচটির আসল কৃতিত্ব অক্ষরেরই।
এই দুই ক্যাচের মধ্যে ব্রুকের ক্যাচটিকে সেরা বেছে নিয়েছেন ভারতীয় দলের সহ–অধিনায়ক। জ্যাকসের ক্যাচের সঙ্গে সরকারিভাবে তাঁর নাম না থাকার জন্য নয়। ম্যাচের পর পার্থিব প্যাটেলের প্রশ্নের উত্তরে অক্ষর বলেন, ‘ব্রুকের ক্যাচটা আমার বেশি প্রিয়। কারণ ওই ক্ষেত্রে আমাকে বলের গতির দিকে মুখ করে দৌড়োতে হয়েছে। বলের উপর ভাল ভাবে চোখ রাখা কঠিন হয়। এই ধরনের ক্যাচ ধরা সবচেয়ে কঠিন। আপনারা রিপ্লে দেখলে বুঝতে পারবেন, ক্যাচটা ধরার ঠিক আগে আমি একটু থমকেও গিয়েছিলাম। বলটা দেখার জন্যই থেমেছিলাম। যাতে না বলের আগে চলে যাই। তাছাড়া সে সময় বেশ চাপ ছিল। সব মিলিয়ে ওই ক্যাচটাই আমার বেশি প্রিয়।’
জ্যাকসের ক্যাচ নিয়ে অক্ষর বলেছেন, ‘দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আমি পাশের দিকে দৌড়োচ্ছিলাম। প্রথমটার মতো বলের দিকে পিছন করে নয়। দ্বিতীয় ক্যাচটাও নিঃসন্দেহে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথমে মনে হয়েছিল পৌঁছোতে পারব না। পরে মনে হল, চেষ্টা করলে পৌঁছোতেও পারি। ওই ক্যাচটার জন্য শিবমকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। ও সময় মতো একদম কাছে চলে এসেছিল। অথচ আমার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়নি। ক্যাচটা ধরার পর দেখলাম, আমি বাউন্ডারি লাইনের বাইরে চলে যাচ্ছি। সেকেন্ডের ভগ্নাংশে সিদ্ধান্ত নিতে হয়ে তখন। শিবম কাছে থাকায় সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে গিয়েছিল।’
সেমিতে অবশ্য ৩ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন অক্ষর। তবে ফিল্ডিং দিয়ে বিষয়টি পুষিয়ে দিয়েছেন।
