আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের ঐতিহাসিক টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশজুড়ে উৎসবের আবহ। সমর্থকদের মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন, চ্যাম্পিয়ন দলকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ কি মিলবে?
আগের মতো কি এবারও হুড খোলা বাসে বিজয় মিছিল করবে ভারতীয় ক্রিকেট দল? ভারতীয় দল এর আগে একাধিকবার আইসিসি ট্রফি জয়ের পর হুড খোলা বাসে জয় উদযাপন করেছে।
ফলে এবারেও বিশ্বকাপ জয়ের পর তেমনই আয়োজন হতে পারে বলে আশা করছেন সমর্থকরা। ভারত শেষ আইসিসি ট্রফি জিতেছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে।
১৯৮৩ সালে কপিলদেবের নেতৃত্বে এবং ২০১১ সালে এমএস ধোনির নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। পাশাপাশি, ২০১৩ সালে এমএস ধোনির নেতৃত্বে এবং ২০২৫ সালে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছে টিম ইন্ডিয়া।
অন্যদিকে, ২০০৭ সালে এমএস ধোনি, ২০২৪ সালে রোহিত শর্মা এবং ২০২৬ সালে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ভারতীয় দল।
আইসিসি ট্রফি জয়ের পর ভারতের হুড খোলা বাসে জয় উদযাপনের ইতিহাসও বেশ স্মরণীয়। ২০০৭ সালে প্রথম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফেরার পর দলকে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
মুম্বইয়ের রাস্তায় হুড খোলা বাসে ট্রফি নিয়ে শহর পরিক্রমা করেন ধোনি ও তাঁর সতীর্থরা। হাজার হাজার সমর্থক সেই জয়যাত্রায় সামিল হন।
একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল ২০২৪ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পরেও। সেবারও মুম্বইয়ের রাস্তায় বাস প্যারেডের আয়োজন করা হয়েছিল এবং অনুষ্ঠানটি শেষ হয় ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে।
সেই সময় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা। তাঁদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হয় বিসিসিআইয়ের তরফে।
তবে এবারের বিজয় মিছিল কোথায় হবে বা আদৌ হবে কিনা তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। অতীতের নজির অনুযায়ী মুম্বইকেই বিজয় মিছিলের জন্য ফেভারিট হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
বাস প্যারেডের দিন বা সময়ও এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ২০২৪ সালের ধারা অনুসরণ করলে ক্রিকেটাররা প্রথমে দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন।
এরপরই ভক্তদের জন্য বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হতে পারে। অনুষ্ঠানটি হলে তা সরাসরি সম্প্রচার হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিকে উদযাপনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত বছর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে প্রথমবার শিরোপা জয়ের পর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর উদযাপনের সময় চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর বড় ধরনের জনসমাগমের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আয়োজকদের।
