আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রবল চাপ, যাবতীয় বিতর্ক এবং সমালোচনার মধ্যে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ ‘এ’-এর শেষ ম্যাচে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ের ফলেই তারা সুপার এইটে কোয়ালিফাই করেছে।
তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠলেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ তাঁর কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে পাকিস্তান আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ বিপরীত।
প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ এই সিদ্ধান্তের জন্য অধিনায়ক সলমন আলি আগাকে দোষ না দিয়ে সরাসরি কোচ হেসনের সমালোচনা করেন।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিওতে কাইফ বলেন, ‘সলমন আলি আগার কথা আমি ছেড়ে দিলাম, মাইক হেসন কী করছেন? তিনি আইপিএলে কোচিং করেছেন, সারা বিশ্বে কাজ করেছেন। তাহলে ভারতের বিরুদ্ধে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত কে দিল? বিনা পরিশ্রমে টাকা নিচ্ছেন নাকি?’
তিনি আরও বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে আগার প্রথম বিশ্বকাপ, সে দ্বিধায় থাকতে পারে, এটা বোঝা যায়। কিন্তু হেসন কি জানতেন না ধীরগতির পিচে কী করা উচিত?’
ম্যাচে দল নির্বাচন নিয়েও মাইক হেসনের কড়া সমালোচনা করেন কাইফ। বিশেষ করে স্পিনার আবরার আহমেদকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভুল বলে দাবি করেন তিনি।
কাইফের বক্তব্য, ‘পাওয়ারপ্লেতে বল করিয়ে পরে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা ভুল সিদ্ধান্ত। লেগ-স্পিনারকে পাওয়ারপ্লের পরে আনা উচিত ছিল।’
পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্ক উসকে দেন প্রাক্তন তারকা ব্যাটার ও নির্বাচক মহম্মদ ইউসুফ। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হতশ্রী পারফরম্যান্সের প্রেক্ষিতে তিনি প্রকাশ্যে সমালোচনা করলেন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক বাবর আজমকে।
ইউসুফের স্পষ্ট বক্তব্য, বাবরের মধ্যে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সফল হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় স্কিল সেটই নেই। চলতি বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে বাবরের সংগ্রহ মাত্র ৬৬ রান।
এই পারফরম্যান্সের পরই তাঁর দলে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইউসুফ দাবি করেন, নির্বাচক থাকার সময় তিনি বাবরকে দল থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
কিন্তু পুরো টিম ম্যানেজমেন্ট সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। সেই কারণেই তিনি নির্বাচকের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন বলে জানান।
একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ইউসুফ বলেন, ‘গত ২-৩ বছর ধরেই আমি বলে আসছি বাবরের টেকনিক একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। সবাই বলছে ও আউট অফ ফর্ম, কিন্তু বিষয়টা তা নয়। একজন ক্রিকেটার সর্বোচ্চ দু’-তিনটি সিরিজ খারাপ খেলতে পারে। কিন্তু বাবর গত দু’-তিন বছর ধরে রানই পাচ্ছে না। আমি যখন ওকে বিশ্রাম দেওয়ার কথা বললাম, সবাই আমার বিরুদ্ধে চলে গেল। সেই কারণেই আমাকে ইস্তফা দিতে হল। আবার কয়েকটা সিরিজ পরেই ওকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।’
শুধু ফর্ম নয়, মানসিক শক্তি নিয়েও প্রচলিত ধারণাকে কটাক্ষ করেন ইউসুফ। তাঁর মতে, স্কিল ছাড়া মানসিকতার কথা বলা অর্থহীন। তিনি বলেন, ‘মাইন্ডসেটের ওষুধ খুব ভুলভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। স্কিল না থাকলে মাইন্ডসেট দিয়ে হবেটা কী? কিছুই তো করতে পারবে না। স্কিলই যদি না থাকে, তাহলে মানসিক শক্তি দিয়ে কী হবে?’
নিজের সময়কার পাক কিংবদন্তিদের সঙ্গে তুলনা টেনে ইউসুফ আরও কড়া ভাবে আক্রমণ করেন বাবরকে। তাঁর দাবি, বাবর আজম পাকিস্তানের লেজেন্ড ক্রিকেটারদের স্তরের ধারেকাছেও নেই।
ইউসুফ বলেন, ‘ইনজামাম-উল-হক আর সাঈদ আনোয়ারের লেভেল কেউ ছুঁতে পারবে না। ওঁরা ছিলেন অসাধারণ ক্রিকেটার। জহির আব্বাস, ইউনিস খান এই চারজন আলাদা ক্যাটাগরির খেলোয়াড়। বাবর ওদের সামনে কিছুই নয়।’
ইউসুফের এই মন্তব্যের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে বাবর আজমের ভবিষ্যৎ ও টি-টোয়েন্টি দলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হল বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহলের একাংশ।
