আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের কাছে ৬১ রানের দাপুটে জয়ের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রাক্তন পেসার শোয়েব আখতার।

তিনি বলেন, একদিকে সূর্যকুমার যাদবের ভারত যেমন শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে খেলছে অন্যদিকে পাকিস্তান কার্যত আত্মসমর্পণ করেছে। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে জয়ের ফলে ভারত-পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টিতে হেড টু হেড বর্তমানে ৮–১।

একটি মাত্র ম্যাচ পাকিস্তান জেতে ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ আখতার বলেন, ‘আমরা একবারের জন্যও ম্যাচে ছিলাম না। শাহিন খেলেছে ঠিকই, কিন্তু সে ১২৫ কিমি গতিতে বল করছিল। আধুনিক ক্রিকেটে এটা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের প্রতিভা চাপ সামলাতে পারবে না। গত ১৫-২০ বছরে কোনও বিনিয়োগই হয়নি। এক সময় মাঠে আমরা ভারতের সঙ্গে লড়াই করতাম, আর আজ তাদের হারানোর স্বপ্নও দেখতে পারি না।’

তিনি এই মন্তব্য করেন সংবাদমাধ্যম এবিপি নিউজে। এখানেই থামেননি আখতার। তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি-র কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘যিনি কিছুই জানেন না, তাঁকেই বোর্ডের চেয়ারম্যান বানানো হয়েছে। তাহলে দল চলবে কীভাবে?’

নাম না করে বাবর আজমকে আক্রমণ করে শোয়েব বলেন, ‘এমন একজন খেলোয়াড়কে সুপারস্টার বানানো হয়েছে, যার ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা তো দূর, বড় ইনিংস চাপের মুখে খেলতে পারে না। অযোগ্য মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়াই সবচেয়ে বড় অপরাধ।’

পরবর্তীতে আখতার নকভিকে ‘অযোগ্য’ ও অশিক্ষিত’ বলেও কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন, নকভি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্য নন।

কলম্বোতে রবিবার ভারতের কাছে ৬১ রানে বিধ্বস্ত হার বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে পাকিস্তানকে। ক্রিকেটাররা তো বটেই, দেশজুড়ে সমর্থকরা এই হার মেনে নিতে পারেননি।

বিশ্বকাপ অভিযানে এই হার শুধু যে বড় ধাক্কা দিয়েছে তাইই নয়, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। প্রাক্তন স্পিনার দানি‌শ কানেরিয়া এই সুযোগে পাকিস্তান দলের তীব্র সমালোচনা করেন এবং সলমন আলি আঘা নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্সকে কটাক্ষ করেন।

বড় ব্যবধানে হারের ফলে সুপার এইটে ওঠার আশা বড় ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তানের। পাশাপাশি দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র হতাশা। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে পাকিস্তানের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে লেখা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম পাঞ্জাবের দেরা গাজি খান জেলার সব তহসিলে বড় পর্দায় ম্যাচটি দেখানো হচ্ছে।