আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি২০ বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান মহারণকে ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। রবিবার কলম্বোতে ম্যাচের আগে বিজ্ঞাপনের দর হু হু করে বেড়েছে। ১০ সেকেন্ডের টিভি বিজ্ঞাপনের স্লটের দাম পৌঁছেছে ৩০–৪০ লাখ টাকায়, যেখানে অন্য বড় বিশ্বকাপ ম্যাচে একই স্লটের রেট থাকে ২০–২৫ লাখ। সম্প্রচারকারী জিওস্টার এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন রাজস্ব আয়ের আশা করছে।


ক্রীড়া বিশ্লেষক নীরজ ঝা জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তের ইনভেন্টরি রেট কমপক্ষে ২০–২৫ শতাংশ বেড়েছে। এই ম্যাচে বিজ্ঞাপনের প্রতিটি সেকেন্ডের ইনভেন্টরি পূর্ণভাবে বিক্রি হয়ে যাবে বলেই ধারণা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫–২০ লাখ টাকায়, যা চাহিদার চাপই প্রমাণ করে।


সংস্থাগুলি যেকোনও মূল্যে বিজ্ঞাপনের জায়গা নিশ্চিত করতে চায় এবং প্রিমিয়াম দিতে প্রস্তুত। ম্যাচে বিপুল দর্শকসংখ্যা প্রত্যাশিত হওয়ায় ব্র্যান্ডগুলি এই সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ। অটো, এফএমসিজি, আর্থিক পরিষেবা ও রিয়েল এস্টেট খাতের সংস্থাগুলির আগ্রহ বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো।


শুধু বিজ্ঞাপন নয়, ম্যাচকে ঘিরে ভ্রমণ খরচেও বড় লাফ দেখা গেছে। বিপুল সংখ্যক ভারতীয় সমর্থক শ্রীলঙ্কায় উড়ে যাওয়ায় কলম্বোগামী বিমানভাড়া ৪৫–৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে খবর। স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কলম্বোর বুকিং দ্বিগুণ হয়েছে। ম্যাচকে ঘিরে কলম্বোগামী বুকিং প্রায় ৬৫ শতাংশ বেড়েছে; হোটেল সার্চ ও রুম বুকিংয়েও তীব্র হাহাকার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


সব মিলিয়ে ভারত–পাকিস্তান মহারণ শুধু ক্রিকেটীয় আবেগ নয়, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও ‘ব্লকবাস্টার’ হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞাপনদাতাদের তীব্র প্রতিযোগিতা, ডিজিটাল ও টিভি—দুই প্ল্যাটফর্মেই রেকর্ড দর, আর সমর্থকদের ভিড়ে ভ্রমণখাতে উল্লম্ফন—সবকিছু মিলিয়ে কলম্বোর এই ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয়েছে বহু কোটি টাকার অর্থনৈতিক স্রোত।


রবিবার মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান। সেখানে মাঠে বসে বেশিরভাগ মানুষই চাইছেন এই খেলাকে উপভোগ করতে। দেশের বাইরে বসে ভারত-পাক যুদ্ধ দেখার সুযোগ পেয়ে কেউ হাতছাড়া করতে চাইছেন না। ফলে সেখান থেকে সমস্ত দিক থেকেই এই ম্যাচ এখন হাইভোল্টেজ। 


ভারত এবং পাকিস্তান দুই দলই দুটি করে ম্যাচ জিতে একে অপরের মুখোমুখি হবে। সেখানে এই ম্যাচ জিতে দুই দলই পরের রাউন্ডে জায়গা করতে চাইবে। তবে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় ভারত পাকিস্তানের থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। ফলে সেখান থেকে সূর্যকুমার যাদবরা যে ফের একবার সেই ধারা ধরে রাখতে চাইবেন সেটা বলাই বাহুল্য।