সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে জমজমাট ক্রিকেটের নন্দনকানন। দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ প্রায় ২০ হাজার দর্শক। তিন ম্যাচে সর্বোচ্চ। অথচ ঘণ্টা খানেক আগেও এই ছবি ছিল না। ইডেনে তৃতীয় টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ। তাও আবার সপ্তাহান্তে। সর্বোপরি ভালবাসার দিন। কলকাতার সঙ্গে ব্রিটিশ যোগ দীর্ঘ বছরের। কিন্তু শুরুতে মনে হয়েছিল শনিবার ইডেন থেকে মুখ ফেরাবে কলকাতার ক্রিকেট ভক্তরা। দুপুর তিনটেয় ম্যাচ। তার এক ঘণ্টা আগে ক্রিকেটের নন্দনকাননের বাইরের চিত্র দেখলে অবাক হতে হবে। বিশ্বকাপের ম্যাচ হলেও পরিস্থিতি অন্যান্য ম্যাচের মতো না।

ম্যাচের দিন সাধারণত ইডেনের সামনের রাস্তা বন্ধ থাকে। দেওয়া থাকে গার্ডরেল। ম্যাচ শুরুর ঘণ্টা তিনেক আগে থেকেই এই পরিচিত ছবি দেখা যায়। কিন্তু শনিবাসরীয় ইডেন অনেক খোলামেলা। সামনের রাস্তা খোলা। বাস, গাড়ির অবাধ চলাফেরা। ভেতরে যে বিশ্বকাপের ম্যাচ, সেটা না বললে বোঝা যাবে না। যদিও খুব দ্রুত এই ছবি বদলে যায়। এক সপ্তাহ আগে, শনিবার ইডেনে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দিনের শেষে দর্শকসংখ্যা ছিল ১৮০০০। দ্বিতীয় ম্যাচে সেটা কমে দাঁড়ায় সাত হাজারে। এদিন দুপুরে প্রথমে দর্শকসংখ্যা আরও কম ছিল। মেরেকেটে পাঁচ হাজার হবে। মনে হয়েছিল স্কটল্যান্ড ব্যাট করায় প্রথম সেশনে সেই সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের আগে দর্শকসংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করেনি শহরের ক্রিকেটভক্তরা। ম্যাচ শুরু হওয়ার মিনিট কুড়ির মধ্যেই গ্যালারি প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ ভরে যায়। প্রায় ২৫ হাজার সমর্থক। ভালবাসার দিন‌‌ প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ইডেনের গ্যালারিকেই বেছে নেয় যুগলরা।

চেনা মাঠে আবার ফিরেছেন ফিল সল্ট। এবার ইংল্যান্ডের জার্সিতে। কিন্তু জার্সি বদলালেও, মনেপ্রাণে এখনও পুরোনো দলের হয়ে আবেগ অটুট। ম্যাচ শুরুর আগে ওয়ার্ম আপের সময় কলকাতা নাইট রাইডার্সের মোজা পরে দেখা যায় ফিল সল্টকে। সাধারণত টুর্নামেন্টের কিট পরেই প্র্যাকটিস করে ক্রিকেটাররা। কিন্তু শনিবার পুরোনো দলের প্রতি আবেগের দৃষ্টান্ত রাখলেন কেকেআরের প্রাক্তনী। শুধু ম্যাচের দিন নয়, আগের দিনও প্র্যাকটিসে কেকেআরের মোজায় দেখা যায় ইংল্যান্ডের মারকুটে ব্যাটারকে। 

ইডেনে নজরকাড়া সাফল্য নেই ইংল্যান্ডের। রেকর্ড আহামরি নয়। সেই ধারাই বদলাতে চান সল্ট। নিজের পয়া মাঠে ফেরাতে চান ভাগ্য। কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য তিনি পরিচিত মুখ। ক্রিকেটের নন্দনকাননে নৈশালোকের আলোয় ব্যাট হাতে একাধিকবার ইডেন মাতিয়েছেন। তাঁর জন্য উঠেছে মেক্সিকান ওয়েভ। পুরোনো হোম গ্রাউন্ডে তারই পুনরাবৃত্তি চান ইংলিশ ক্রিকেটার। ইডেনে তাঁর রেকর্ড ভাল। আট ইনিংসে রয়েছে পাঁচটি অর্ধশতরান। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৮৯। গড় ৫৮। স্ট্রাইক রেট ১৮৪.৫৪। সৌরভ গাঙ্গুলির ঘরের মাঠেই ভাঙেন তাঁর রেকর্ড। ২০২৪ সালে কেকেআরের জার্সিতে মাত্র ছয় ইনিংসে ৩৪৪ রান করে ভাঙেন মহারাজের ২০১০ সালের রেকর্ড। শনিবার স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে দেশের জার্সিতে আরও একবার জ্বলে ওঠার আশায় প্রাক্তন নাইট।