সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: ইংল্যান্ড-স্কটল্যান্ড ম্যাচের টস হতে তখন মিনিট পাঁচেক বাকি। লন্ডনের 'দ্য গার্ডিয়ান' থেকে বিশ্বকাপ কভার করতে আসা ইংল্যান্ডের সাংবাদিক সাইমন বার্নটন বলেন, 'আমার মনে হয়, টসে জিতলে ইংল্যান্ড ফিল্ডিং নেবে।' এটা শুনে কিছুটা অবাকই লাগল। সাধারণত দুর্বল দলের বিরুদ্ধে ব্যাটিং ঝালিয়ে নিতে চায় শক্তিশালী দলগুলো। ঠিক যেমন আগের দিন নামিবিয়ার বিরুদ্ধে করে ভারত। পাল্টা প্রশ্ন করতেই, ইংল্যান্ডের সাংবাদিক বলেন, 'ইংল্যান্ড সাধারণত রান তাড়া করতে পছন্দ করে। তবে জানি না আগের দিনের ম্যাচের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত বদলাবে কিনা।' সাইমনের কথাই সত্যি হয়। স্কটল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান হ্যারি ব্রুক। তবে জয়ের পথ মসৃণ হয়নি ইংল্যান্ডের। নেপাল ম্যাচের পর আরও একটি কষ্টার্জিত জয়। শনিবার ইডেনে ১০ বল বাকি থাকতে স্কটল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারাল ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করে ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রানে শেষ হয়ে যায় স্কটিশদের ইনিংস। জবাবে ১৮.২ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে জয়সূচক রানে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। জোড়া জয়ে সুপার এইটের দিকে আরও একধাপ এগোলেন জস বাটলাররা। অন্যদিকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল স্কটল্যান্ড।
নেপাল ম্যাচে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স দেখে এতটাই হতাশ লন্ডন থেকে আসা ব্রিটিশ সাংবাদিকরা, তাঁদের ধারণা সুপার এইটের গণ্ডি পেরোবে না ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে উঠলে সেটা হবে বাড়তি পাওনা। সাইমন মনে করেন, সুপার এইটে দুটো ম্যাচ জিততে পারলেই যথেষ্ট। কিন্তু যে দেশে ক্রিকেটের উৎস, সেই দেশের সাংবাদিকরা কেন ইংল্যান্ডে বাজি ধরছে না? এর উত্তরে সরল স্বীকারোক্তি সাইমনের। স্পষ্ট জানান, টি-২০ ক্রিকেটে এই ভারতীয় দলের কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না। এমনকী ধারেকাছেও কেউ নেই। এই ইংল্যান্ড দলের ক্ষমতা নেই ভারতকে আটকানোর। তাও আবার ঘরের মাঠে। প্রথম দুই ম্যাচ কোনওক্রমে জেতায়, দলের ওপর থেকে আরও আশ্বাস হারাচ্ছেন ব্রিটিশ সাংবাদিকরা।
সাংবাদিক, টেকনিক্যাল লোক মিলিয়ে ইংল্যান্ড থেকে প্রায় ১৫ জনের একটি দল এসেছে। তারমধ্যে এদিন ইডেনে চার-পাঁচজন ছিল। কলকাতায় বসে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে আলোচনা তাঁদের মধ্যেও। একজন বললেন, 'এই পাকিস্তান দলের ক্ষমতাই নেই ভারতকে হারানোর। খেলা যেখানেই হোক না কেন।' স্কটল্যান্ডের ইনিংসের পর হাসিখুশি মেজাজে দেখা যায় ইংল্যান্ড থেকে আসা সাংবাদিকদের। কিন্তু তাঁদের ইনিংসের একটা সময় যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি হয়। শুরুতে মনে হয়েছিল, দেড়শোর গণ্ডি পার করতে পারবে না স্কটল্যান্ড। যে হারে উইকেট পড়ছিল। কিন্তু রিচি বেরিংটন (৪৯) এবং মাইকেল জোনসের (৩৩) ব্যাটে ভর করে ১৫২ রান তোলে স্কটল্যান্ড। মনে হয়েছিল রান তাড়া করতে নেমে অনায়াসেই জিতবে ইংল্যান্ড। কিন্তু শুরুতেই ফিল সল্ট (২) এবং জস বাটলার (৩) ফিরে যাওয়ায় চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। ইডেন সল্টের পয়া মাঠ। কিন্তু শনি সন্ধেয় ডাহা ব্যর্থ। ভারতে সবচেয়ে বেশি খেলা বাটলারও রান পায়নি। ফ্লপ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও (৪)। ইংল্যান্ডকে বৈতরণী পার করান টম ব্যান্টন। ৪১ বলে ৬৩ রানে অপরাজিত। ইনিংসে ছিল ৩টি ছয়, ৪টি চার। গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন জেকব বেথেল (৩২) এবং স্যাম করন (২৮)। ইংল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের মধ্যে লড়াই শুধুমাত্র বাইশ গজে আটকে নেই। ফুটবল এবং রাগবিতে চিরকালীন। এছাড়াও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। ২০১৮ সালে নিজেদের ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল স্কটল্যান্ড। এদিন যেন তারই বদলা নিল ব্রিটিশরা। তবে রেজাল্ট যাই হোক না কেন, জয় ক্রিকেটের। ইডেনে ভারত নেই, ইংল্যান্ডের সঙ্গে মিনোসদের লড়াই। কিন্তু ভালোবাসার রাতে ইডেন ভরায় ৪১,২৭১ দর্শক।
