আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২২ ফেব্রুয়ারি আহমেদাবাদে সুপার এইট পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে এবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।
দুই দলই এখনও পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ শুক্রি কনরাড মনে করেন, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতই বেশি চাপের মধ্যে থাকবে।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ম্যাচের আগে অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের কনরাড দাবি করেন, এটা তাঁর প্রথম বড় আন্তর্জাতিক সীমিত ওভারের প্রতিযোগিতা হলেও দক্ষিণ আফ্রিকা সেই চাপকে ভয় না পেয়ে তা কাজে লাগাতে চায়।
তাঁর মতে, দুই দলই চাপের মধ্যে থাকলেও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারতের ওপর প্রত্যাশা অনেক বেশি। কনরাড বলেন, ‘ভারতের মতো দলের ওপর সবসময়ই প্রচণ্ড নজর থাকে। সেমিফাইনালে ওঠা এবং ফাইনালে পৌঁছানোর জন্য তাদের ওপর বিরাট চাপ থাকবে। আশা করি আমরা সেই চাপকে কাজে লাগিয়ে ওদের আরও দুর্বল করে তুলতে পারব।’
ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হলেও তাঁকে একেবারেই হালকা ভাবে নিচ্ছেন না দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ।
তাঁর মতে, কোনও খেলোয়াড় সাময়িক ভাবে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে মানেই সে দুর্বল হয়ে পড়েছে, এমনটা একেবারেই নয়। তিনি বলেন, ‘চাপ বড় বিষয়, তবে চাপ আমাদের জন্য যেমন থাকবে, ওদের জন্যও থাকবে। আমরা প্রায়ই প্রথম সারির দলের বিরুদ্ধে খেলার চাপ নিয়ে কথা বলি। কিন্তু তারা নিজেরা কতটা চাপের মধ্যে থাকে, তা সবসময় বোঝা যায় না। আবার টানা তিন ম্যাচে শূন্য করলে কেউ দলে জায়গা হারানোর চাপে পড়ে, আমি সেটা একেবারেই মনে করি না।’
অন্যদিকে, ভারতীয় দল প্রকাশ্যেই অভিষেক শর্মার পাশে দাঁড়িয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দলের তারকা এই বাঁহাতি ওপেনার এখনও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কনরাডের মন্তব্যে তাঁকে খাটো করার বদলে বরং ভারতের ওপর থাকা সামগ্রিক প্রত্যাশার কথাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। সুপার এইটের আগে ভারতীয় দলে ফের চিন্তার কালো মেঘ।
অনুশীলনে চোট পেলেন মহম্মদ সিরাজ। শুক্রবার সন্ধেয় আমেদাবাদে অনুশীলনের সময় এই ঘটনা ঘটে। কাতরাতে কাতরাতে মাঠ থেকে বেরিয়ে যান হায়দরাবাদি পেসার।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই চোট সমস্যায় ভুগছে টিম ইন্ডিয়া। অভিষেক শর্মা একটি ম্যাচ খেলেই হাসপাতালে ছুটেছিলেন। সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরলেও রানে নেই। বুমরাও হালকা চোটের জন্য একটি ম্যাচ খেলেননি।
আমেরিকার বিরুদ্ধে ম্যাচে তিন উইকেটও নিয়েছিলেন সিরাজ। তারপর আর প্রথম এগারোয় জায়গা হয়নি। সেই সিরাজ শুক্রবার চোট পেয়ে গেলেন।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধেয় আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুশীলনের সময় হার্দিকের জোরালো একটি শট সিরাজের বাঁ হাঁটুতে লাগে। হার্দিকের শটে এতটাই জোর ছিল যে সিরাজ রীতিমতো কাতরাচ্ছিলেন। এরপর তিনি নেটের বাইরে চলে যান।
যদিও আমেরিকা ম্যাচের পর সিরাজ আর খেলেননি। পেস আক্রমণ সামলাচ্ছেন বুমরা ও অর্শদীপ। সঙ্গে হার্দিক ও দুবে রয়েছেন। তাই সিরাজের চোট অতটা প্রভাব হয়ত ফেলবে না টিম কম্বিনেশনে। তবে আর কোনও পেসার চোট পেলে কিন্তু সমস্যা হবে।
