আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলম্বোতে রবিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ভারতীয় দলকে ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

ম্যাচটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় বিসিসিআই এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন একাধিক বিরোধী দলের নেতা। তাঁদের অভিযোগ, পাকিস্তানকে প্রায়শই ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও, একইসঙ্গে এমন একটি হাই-প্রোফাইল ম্যাচে অনুমতি দিয়ে দ্বিচারিতা করছে কেন্দ্র।

শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত সরাসরি আর্থিক স্বার্থের অভিযোগ তুলে বিজেপিকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, ‘এটা ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ নয়, এটা জয় শাহ বনাম পাকিস্তান ম্যাচ। ভারতের মানুষ এই ম্যাচ চায় না। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি বেটিং ও জুয়ার টাকা ওড়ে। আর সেই টাকার একটা অংশ পাকিস্তানেও যায়। বিজেপির অনেক রাজনীতিবিদসহ দালালরাও এতে লাভবান হন।’

তিনি আরও দাবি করেন, গুজরাট ও রাজস্থান থেকে পরিচালিত বেটিং সিন্ডিকেটের একটি বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে, যার অর্থ নাকি সীমান্ত পেরিয়ে যায়।

তাঁর দাবি, ‘শেষ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা পাকিস্তানে গেছে। সেই টাকা পরে সন্ত্রাসবাদে ব্যবহৃত হয়েছে। কোথাও পহেলগাঁওয়ে, কোথাও পুলওয়ামায়, উরিতে বা পাঠানকোটে।’

অন্যদিকে, আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা রাউতের সুরেই বলেন, ‘আমরা এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি করেছি। যদি উদ্বেগ থাকে, তাহলে হয় খেলুক, নয়তো খেলার দরকার নেই। কিন্তু ম্যাচ খেললেও মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে থাকে হাত মেলানো হবে কি না, এটা কি হাস্যকর নয়? এটা কি ভারতের মতো বড় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা নয়?’

কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভিও সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর এমন ম্যাচের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘যারা আমাদের দেশে এসে সন্ত্রাস চালায়, মানুষ হত্যা করে, তাদের সঙ্গে আমরা কীভাবে ক্রিকেট খেলতে পারি? খেলা বন্ধুদের সঙ্গে হয়, শত্রুদের সঙ্গে নয়। কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকলে এই ম্যাচ হত না।’

উল্লেখ্য, এই বিতর্কের পিছনে রয়েছে পহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসী হামলা এবং তার পরবর্তী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ঘটনা। যার জেরে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

পাশাপাশি, ম্যাচের আগে এবং পরে হ্যান্ডশেক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তান প্রথমে এই ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

বাংলাদেশ দল ভারত সফরে এসে গ্রুপ ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করায় তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে অবশ্য ম্যাচে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত বদলায় পাকিস্তান। সব রাজনৈতিক ঝড় সত্ত্বেও আইসিসি ম্যাচটির ক্রীড়া ও বাণিজ্যিক গুরুত্বের দিকটিই সামনে আনছে।