আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুরুতেই হয়েছিল ব্যাটিং বিপর্যয়। ২০৯ রান তাড়া করতে নেমে ছয় রানের মধ্যেই দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা ফিরে গিয়েছিলেন প্যাভিলিয়নে। এই পরিস্থিতি থেকে পাল্টা লড়াই শুরু করেন ঈশান কিষান ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। দু’জনে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ১২২ রান। ম্যাচ সেরা কিষান করেন ৩২ বলে ৭৬। আর সূর্য করেছেন ৩৭ বলে ৮২। শিবম দুবে করেন ৩৬।
মাত্র ১৫.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে রান তাড়া করে ফেলে ভারত। রায়পুরে কিউয়ি বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন সূর্যকুমার যাদব ও ঈশান কিষান। খেলা শেষে জয়ের রহস্য ফাঁস করেছেন ভারতের দুই নায়ক।
খেলা শেষে ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘আমি জানি না, মধ্যাহ্নভোজে ঈশান কী খেয়েছিল? কিন্তু ওকে যেভাবে মারতে দেখলাম, তা অনেকদিন দেখিনি। ৬ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেও যে ওভাবে আক্রমণ করা যায়, তা ভাবা যাচ্ছে না। ঈশান আমাদের কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছিল।’ তিনি নিজেও এই ম্যাচে রানে ফিরেছেন। ১৪ মাস পর অর্ধশতরান করেছেন সূর্য। সূর্যর কথায়,‘আমি আগেও বলেছি, নেটে খুব ভাল ব্যাট করছিলাম। গত দু–তিন সপ্তাহ পরিবারের সঙ্গে কাটিয়েছি। মন ভাল আছে। খেলা উপভোগ করছি। একটা বড় রান দরকার ছিল। সেটা এই ম্যাচে এল।’
নিউজিল্যান্ডকে ২০৮ রানে আটকে দেওয়ার জন্য বোলারদের কৃতিত্ব দিয়েছেন সূর্য। তিনি বলেন, ‘যা শিশির পড়ছিল, তাতে মনে হচ্ছিল ওরা ২২০–২৩০ রান করবে। কিন্তু কুলদীপ, বরুণ, শিবমেরা মাঝের ওভারে উইকেট নিল। ওদের ২০৮ রানে আটকে রাখার জন্য বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।’
এদিকে, দু’বছর পর জাতীয় দলে ফিরে ম্যাচের সেরা হয়েছেন ঈশান। তিনি জানালেন, ৬ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেও ভয় পাননি। ঈশান বলেন, ‘আমি শুধু বল দেখে খেলেছি। ঝুঁকি নিইনি। আড়া ব্যাটে খেলতে যাইনি। ঠিক করেছিলাম, মারার বল পেলে মারব। জানতাম, শিশির পড়ছে। নিজের উপর ভরসা রেখেছি। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে ভাল লাগছে।’
জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছিলেন ঈশান। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন। ঝাড়খণ্ডকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। এরপরই জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন। ঈশান বলেছেন, ‘আমি নিজের ইচ্ছায় ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছি। নিজেকে তৈরি রাখার চেষ্টা করেছি। রান করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সেটাই হয়েছে। নিজের রাজ্যকে চ্যাম্পিয়ন করেছি। ভাল খেলার পুরস্কারও পেয়েছি।’
