আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএল শেষ হলেই বিশ্বকাপ জ্বরে আক্রান্ত হবে ভারতবাসী। ১১ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে শুরু হবে বিশ্বকাপ। কিন্তু এখনও একটি বড় সমস্যার সুরাহা মেলেনি। ভারতে কোন চ্যানেলে দেখা যাবে বিশ্বকাপ? এর উত্তর জানা নেই কারোর। ফুটবলপ্রেমী দেশ এখনও ফিফা বিশ্বকাপের ব্রডকাস্টার পায়নি। বিক্রি হয়নি সম্প্রচার স্বত্ব। আর মাত্র তিন সপ্তাহ পরে শুরু দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। রাত জেগে বিশ্বকাপ দেখে ভারতের ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু তার আগেই খারাপ খবর ফুটবল ভক্তদের জন্য। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, হাত তুলে নিয়েছে প্রসার ভারতী। দিল্লি হাইকোর্টে জানিয়ে দিয়েছে, ভারতে বিশ্বকাপের ব্রডকাস্টার খোঁজা তাঁদের দায়িত্ব নয়। যা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। 

এতদিন টিভি সম্প্রচার স্বত্বের দৌড়ে ছিল প্রসার ভারতী। কিন্তু তাঁরাও সরে গিয়েছে। আইপিএল শেষ হতে আর দিন দশেক বাকি। তার দশদিন পরই বিশ্বকাপের ঢাকে কাঠি পড়বে। কিন্তু ভারতে বিশ্বকাপ কোথায় দেখানো হবে, সেটা কেউ জানে না। ভারতে জনপ্রিয়তায় ক্রিকেটকে টেক্কা দিতে না পারলেও, বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা অন্য মাত্রায়। সাবেকি ফুটবলপ্রেমী থেকে জেন জি, বাদ যায় না কেউই। এই প্রথমবার তিন দেশের ১৬টি শহরে বসবে বিশ্বকাপের আসর। প্রায় দেড় মাস চলবে। ১১ জুন শুরু। ফাইনাল ১৯ জুলাই। ৩২ দলের বদলে এই প্রথমবার ৪৮টি দল বিশ্বকাপে অংশ নেবে। 

দশকের পর দশক টিভির পর্দায় বিশ্বকাপ দেখে এসেছে ভারতের ফুটবল ভক্তরা। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এখনও ভারতের জন্য ব্রডকাস্টার ঠিক করতে পারেনি ফিফা। বিষয়টি আরও আশ্চর্যের কারণ, ভারতে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে প্রায় ৭৪৫ মিলিয়ন দর্শক ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ দেখে। একমাত্র চীন এই বিষয়ে ভারতকে টেক্কা দেয়। ভিউয়ারশিপের ক্ষেত্রে প্রত্যেক বিশ্বকাপে প্রথম দশের মধ্যে থাকে ভারত। আগের বার ভারতে ডিজিটাল স্ট্রিমিং রাইটস ছিল জিও সিনেমার। ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে অনলাইন রাইটস কেনে তাঁরা। ভারতীয় মার্কেট থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় ৯৬৫ কোটি আয়ের প্রত্যাশা করেছিল ফিফা। তবে ভারতে ফুটবল স্ট্রিমিংয়ে খুব বেশি আয় নেই। এমনকী ভারতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে ১৫০০ কোটি আয় হয় না। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সম্প্রচার স্বত্ত্ব বিক্রি না হওয়ার অন্যতম কারণ ম্যাচের সময়। এবার তিন দেশে বিশ্বকাপ হওয়ায়, ম্যাচের সময়গুলো সমস্যার। বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৪টি ম্যাচ মধ্যরাতের আগে হবে। বাকি সব ম্যাচই মাঝরাত বা ভোর রাতে। কবে এবং কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে জানা নেই।