আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাত্র সপ্তাহখানেক হয়েছে রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তারমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন ইন্দ্রনীল খাঁ। দায়িত্ব নিয়েই জানিয়ে দেন, রাজনীতি মুক্ত হবে ময়দান। 'ভয় আউট, ভরসা ইন' নীতিতে বিশ্বাসী। ঘুঘুর বাসা সাফ করার আশ্বাস দেন। ময়দানকে দুর্নীতি মুক্ত করার আবেদন জানিয়ে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক ডালমিয়া। মঙ্গলবার চিঠির প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী। সিএবির প্রাক্তন সভাপতির সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান। শুধু অভিষেক নয়, প্রাক্তন ক্রীড়াবিদদের থেকে পরামর্শ নিয়ে এগোতে চান। ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, 'অভিষেক ডালমিয়ার চিঠি পেয়েছি। আমি ওনার সময় চেয়েছি। আমরা পদক্ষেপ নেব। সেটা সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। সৌরভ গাঙ্গুলি, অশোক দিন্দা, মনোজ তিওয়ারি, পৌলমী ঘটক, কল্যাণ চৌবে, লিয়েন্ডার পেজের মতো বাংলার তারকা প্লেয়ারদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করা হবে। সকলের থেকে পরামর্শ নিয়ে এগোতে চাই।'
আগের বছর জাতীয় গেমস নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়। ক্রীড়াবিদদের থাকা-খাওয়া নিয়ে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। রীতিমত সমস্যায় পড়ে ক্রীড়াবিদরা। যার প্রভাব পড়ে পারফরম্যান্সে। এই বিষয়ে আগের সরকারের সমালোচনা করেন বাংলার নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী। ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, 'ক্রীড়াবিদদের ওপর অত্যাচার চলেছে। থাকা, খাওয়া নিয়ে শুধু অপমান নয়, তাঁদের পারফরম্যান্স খারাপ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনও জায়গা থেকে দুর্নীতি বাকি রাখেনি। আর দুর্নীতির জায়গা নেই, নীতি আসছে।' আগের বছর কলকাতা লিগ চলার সময় ময়দানে বেটিং চক্র চলে। এই নিয়ে প্রাক্তন সরকারকে একহাত নেন ক্রীড়ামন্ত্রী। ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, 'অভিষেক দা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। ফুটবলের পাশাপাশি অন্যান্য ক্রীড়াক্ষেত্রেও বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন বেটিং হোক, অরাজকতা থাকুক। তবে ভয় আউট হয়ে গিয়েছে। ভরসা রাখুন। ম্যাচ ফিক্সিং, বেটিং আর হবে না।'
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথমবার কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবে পা রাখেন বাংলার নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী। 'মিট দ্যা প্রেস' অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মান জানানো হয় ইন্দ্রনীল খাঁকে। তাঁর আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। খেলার ময়দানকে আরও সবুজ-সতেজ এবং দুর্নীতিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ভবিষ্যতে বাংলায় জাতীয় গেমস করতে উদ্যোগী। তবে তার আগে পরিকাঠামোর উন্নতি চান। শুধু ফুটবল এবং ক্রিকেটে নয়, সব ক্ষেত্রেই। আগের সরকার খেলো ইন্ডিয়া বয়কট করেছিল। যার জন্য বঞ্চিত হয় বাংলার অ্যাথলিটরা। এবার গ্রাসরুট পর্যায় 'খেলো ইন্ডিয়া' চালু করার প্রস্তাব ক্রীড়ামন্ত্রীর। ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, 'আগের সরকার খেলো ইন্ডিয়া বয়কট করেছিল। তাই ক্রীড়াবিদরা এই প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এবার তৃণমূল স্তর থেকে খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্প চালু করার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেব। স্কলারশিপের ব্যবস্থা থাকবে। সরকার সবরকম সহযোগিতা করবে। শীঘ্রই বাংলার ক্রীড়াবিদরা খেলো ইন্ডিয়ার সুবিধা পাবে। এর পাশাপাশি বাংলায় জাতীয় গেমস আসবে। আমরা পরিকাঠামোর ওপর জোর দিচ্ছি। যথাযথ হোস্টেল, ডরমিটরি, টয়লেট দরকার। যাতে জাতীয় গেমস আয়োজনে আমাদের কোনও সমস্যা না হয়। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রও মেরামত করতে হবে।' কলকাতার পাশাপাশি জেলার পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস দেন ক্রীড়ামন্ত্রী। কলকাতার তিন প্রধানে বাঙালি ফুটবলারের অভাব। একই অবস্থা কলকাতা নাইট রাইডার্সে। কোথায় বাংলার ক্রীড়াবিদরা পিছিয়ে পড়ছে সেদিকে নজর নিতে চান। একইসঙ্গে জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন।















