আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৈভব সূর্যবংশী জ্বরে কাবু ছিল আয়ারল্যান্ড। আইপিএলে পর সদ্য ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা এ দলের বিরুদ্ধে ২৯ বলে ৯৪ রান করেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রিকেট ভক্তরা তাঁর অভিষেক দেখার অপেক্ষায় ছিল। তাঁকে দেখতে আয়ারল্যান্ডেও উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছিল। যা সামলাতে যথেষ্ট চাপে পড়ে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট। মার্চে যখন ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে সিরিজ নিয়ে কথা হয়েছিল, তখন বৈভবের খেলার প্রসঙ্গই ওঠেনি। তখনও শুরু হয়নি আইপিএল। কোটিপতি লিগে ১৫ বছরের ক্রিকেটারের দাপটের পরই তাঁকে খেলানোর দাবি ওঠে। 

আগের পরিস্থিতি অনুযায়ী, ডাবলিন মালাহাইড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে খেলা রাখেনি ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড। সেই মাঠের দর্শক সংখ্যা ১২,০০০। তার পরিবর্তে ম্যাচ রাখা হয় বেলফাস্টের সিভিল সার্ভিস ক্রিকেট ক্লাবে। যা আয়তনে অনেকটাই ছোট। ফলে বেলফাস্টে টিকিট দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। এই নিয়ে পরে ক্ষোভ প্রকাশ করে আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেট ভক্তরা। ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের চেয়ারম্যান ব্রায়ান ম্যাক নিস বলেন, 'সারাক্ষণ আমার ফোন বেজে চলেছে। সবাই টিকিট চাইছে। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা মাত্র ৪৫০০ থেকে ৫০০০ ফ্যানের খেলা দেখার ব্যবস্থা করতে পারব। জায়গা থাকলে আমরা তিনগুণ বেশি টিকিট বিক্রি করতে পারতাম। মুহূর্তের মধ্যে টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। এখনও লোকে টিকিট চাইছে। সবাই ওর কথা বলছে। খুবই প্রতিভাবান ক্রিকেটার। ওর অভিষেকের মুহূর্তে সবাই উপস্থিত থাকতে চায়। ও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।' বৈভবের ভারতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি এই সাদামাটা সিরিজের উৎসাহ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে আইরিশ ফ্যানদের মধ্যে। যারা তরুণ সেনসেশনকে ভারতের জার্সিতে দেখতে উদগ্রীব।

কিন্তু যে ১৫ বছরের বালককে ঘিরে এত উৎসাহ, উদ্দীপনা, তাঁকে কিনা প্রথম একাদশেই রাখা হল না? এইটুকু ঝুঁকি কি নিতে পারত না ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট? জানা গিয়েছে, আয়ারল্যান্ড সিরিজ শুরুর আগের দিন প্র্যাকটিসে বৈভবের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় গৌতম গম্ভীরকে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নেটে ব্যাট করে ফেরার সময়, ভারতের হেড কোচ তাঁকে অভিনন্দন জানান। কথোপকথনের আগে দু'জন ফিস্ট বাম্পও করে। তাঁদের আলোচনায় যোগ দেন ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক। জানা যায়, গম্ভীর খুব খতিয়ে বৈভবের নেট সেশন দেখেছেন। তারপর গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দেন। তখনই কি জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বৈভবকে অপেক্ষা করতে হবে?

টসের পর শ্রেয়স আইয়ার যা বললেন, তাতে বোঝাই গেল, টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী ওপেনিং কম্বিনেশন ভাঙার পক্ষপাতী নয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সেটা যদি হয়, সেক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে অভিষেকই হবে না বৈভবের। বোর্ডের নির্বাচকরা যখন তাঁকে এই সিরিজের জন্য নির্বাচিত করেছেন, নিশ্চয়ই কিছু ভেবে-চিন্তেই করেছেন। শ্রেয়স-গম্ভীরদের সিদ্ধান্তে কি হস্তক্ষেপ করবেন অজিত আগরকর? ইংল্যান্ডের মাটিতে কঠিন সিরিজের আগে কি কমজোরী আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাতেখড়ির সুযোগ পাবেন সূর্যবংশী? বলবে সময়।