আজকাল ওয়েবডেস্ক: উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে ইতিহাস গড়ল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ২০৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে দু’বল এবং ছ’উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় আরসিবি।
টপ অর্ডারে স্মৃতি মান্ধানা ও জর্জিয়া ভল অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেন। তাঁদের ১৬৫ রানের জুটিতেই ফের একবার উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে হার মানতে হল দিল্লিকে।
ম্যাচের পর আরসিবি অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা জানান, দলের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের নেপথ্যে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম ও পরিকল্পনা। তিনি বলেন, 'দলের প্রস্তুতিতে ফিটনেসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় জিমে কাটিয়ে নিজেদের টুর্নামেন্টের অন্যতম ফিট দল হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল লক্ষ্য।'
মান্ধানা মজা করে এই জয়ের রাস্তাকে ‘বিরাট কোহলি রুট’ বলতেই চেয়েছিলেন। এই প্রস্তুতির ফলে মরশুমের শুরুতেই ছন্দ পায় আরসিবি। সেই গতি ধরে রেখেই ফাইনালে পৌঁছে যায় দল।
ফাইনালেও সেই ছন্দ হারাননি স্মৃতি মান্ধানারা। বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে দলের আত্মবিশ্বাস নিয়েও কথা বলেন মান্ধানা। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে একটি মাত্র ম্যাচে বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও ভদোদরার ব্যাটিং উইকেটে বড় রান তাড়া করতে দল আত্মবিশ্বাসী ছিল বলেই জানান তিনি।
মান্ধানা বলেন, ‘মেয়েরা ভীষণ পরিশ্রম করছে, এই একটা জিনিসই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। জিমে কঠোর পরিশ্রম করলে বিশ্বাস তৈরি হয় যে যে কোনও রান তাড়া করা সম্ভব। গোটা দলটাই পরিশ্রমী ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত। তাই ২০০ রান বোর্ডে থাকা সত্ত্বেও আমরা সবাই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। তবে ভল যে ইনিংসটা খেলেছে, সেটা সত্যিই স্পেশাল।’
বৃহস্পতিবার স্মৃতিরা চ্যাম্পিয়ন হতেই আবেগঘন বার্তা লিখে ফেলেছেন বিরাট কোহলি। বৃহস্পতিবার ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইনস্টাগ্রামে বিরাট লেখেন, ‘আবারও চ্যাম্পিয়ন। আরসিবির পতাকা সকলের উপরে উড়ছে। এটা নিয়ে তোমরা সকলেই গর্ব করতে পারো। স্মৃতি, পুরো টিম, সকলকে এই দুরন্ত জয়ের জন্য অনেক অভিনন্দন জানাই। এই জয়টা তোমাদের প্রাপ্য। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মুহূর্তটা উপভোগ করো। ভক্তরাও খুবই ভালবাসেন আমাদের, সেটাও গ্রহণ করো।’
দ্বিতীয়বার ডব্লিউপিএল ট্রফি জিতেও ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্মৃতি। তিনি বলেন, ‘আরসিবি ভক্তরা বিশ্বের সেরা। আমরা যেখানেই খেলি না কেন, প্রচুর সমর্থন পেয়েছি।’
আরসিবি অধিনায়ক মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই নিয়ে পরপর তিনবার চ্যাম্পিয়ন হল আরসিবি। সেটাও অসামান্য অনুভূতি। বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্যও অভিনন্দন জানিয়েছেন আরসিবিকে।
নেটিজেনরাও আরসিবির মহিলা ব্রিগেডকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন। ম্যাচ জিতে স্মৃতি আরও জানিয়েছেন, ‘গোটা মরসুমে আমরা যেভাবে খেলেছি তাতে প্রত্যেকের অবদান রয়েছে। আমি হয়তো দু’তিন জনের নাম আলাদা করে নেব। তার মধ্যে রয়েছে প্রত্যুষা কুমার। গোটা মরশুমে একটা ম্যাচেও সুযোগ পায়নি। কিন্তু প্রত্যেকটা অনুশীলনে নিজের সেরাটা দিয়েছে। ম্যাচের দিন জল বয়েছে। অনেকেই হয়তো এই জিনিসগুলো খেয়াল করবেন না। কিন্তু আমরা খেয়াল রেখেছি। এছাড়া গৌতমী এবং প্রেরণা রয়েছে। দু`জনই তরুণ ক্রিকেটার। যেভাবে গোটা দলের সঙ্গে কাজ করেছে তাতে আমি খুশি। আরও এক বার সমর্থকদের ধন্যবাদ দেব মাঠে এসে আমাদের হয়ে গলা ফাটানোর জন্য।’
