আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএল থেকে নিয়মিতভাবে উঠে আসা তরুণ প্রতিভার ঢল এখন ভারতীয় ক্রিকেটকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।
আন্তর্জাতিক সূচির চাপ ও একাধিক সিরিজ একসঙ্গে চলবে। দু'টি সমান্তরাল টি-টোয়েন্টি দল গঠনের পরিকল্পনায় এগোচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে একই সময়ে একাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা সিরিজ চলতে পারে। বিশেষ করে এশিয়ান গেমস ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ একসঙ্গে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণে এখন থেকেই ৩০-৩৫ জন ক্রিকেটারের একটি বিস্তৃত পুল তৈরি করার উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে।
বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, ''একই সময়ে এশিয়ান গেমস ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থাকায় আমাদের দু'টি আলাদা টি-টোয়েন্টি দল মাঠে নামানোর মতো প্রস্তুতি রাখতে হবে। তাই এখন থেকেই ৩০-৩৫ জন ক্রিকেটারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য তৈরি করা জরুরি।''
প্রথম বড় পরীক্ষা হতে চলেছে আসন্ন আয়ারল্যান্ড সফরে। এই সফরে নতুনদের সুযোগ দেওয়া হলেও এবার বড় স্কোয়াড নিয়ে একাধিক বিকল্প ক্রিকেটারকে দেখে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টগুলোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ রয়েছে, যদিও পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিসিসিআই চাইছে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে নতুন খেলোয়াড়দের প্রস্তুত রাখতে।
আইপিএল ইতিমধ্যেই নির্বাচকদের সামনে এক বিশাল প্রতিভার দরজা খুলে দিয়েছে। ব্যাটিং বিভাগে নজর কাড়ছেন বৈভব সূর্যবংশী, যশস্বী জয়সওয়াল, প্রিয়াংশ আরিয়া, অংকৃশ রঘুবংশীর মতো আগ্রাসী ব্যাটাররা। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন রজত পাতিদার ও আয়ুষ বাদোনির মতো নির্ভরযোগ্য নাম।
অলরাউন্ডার বিভাগে শশাঙ্ক সিং ও অনুকূল রায় দলের ভারসাম্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন। অন্যদিকে বোলিং আক্রমণে রবি বিষ্ণোইয়ের মতো প্রতিষ্ঠিত স্পিনারের সঙ্গে খলিল আহমেদ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, অশোক শর্মা ও কার্তিক ত্যাগীর মতো পেসাররা দলের ভারসাম্য বাড়াতে পারে।
উইকেটকিপিং বিভাগে ধ্রুব জুড়েল এগিয়ে রয়েছেন অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে। আর এই সম্ভাব্য নতুন যুগের টি-টোয়েন্টি সেটআপের নেতৃত্বে দেখা যেতে পারে শ্রেয়স আইয়ারকে।
সব মিলিয়ে বিসিসিআইয়ের লক্ষ্য এখন স্পষ্ট। সেরা ১৫ নয়, বরং এমন একটি শক্তিশালী ৩৫ জনের দল তৈরি করা, যারা প্রয়োজনে দু'টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে সমান দক্ষতায় দেশের হয়ে খেলতে পারেন। আইপিএলের উত্থান সেই লক্ষ্য পূরণের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।
















