আজকাল ওয়েবডেস্ক: SA20 লিগে নিজেদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ। রবিবার টুর্নামেন্টের চতুর্থ মরশুমের ফাইনালে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয় করল তারা।

১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অধিনায়ক ট্রিস্টান স্টাবস ও ম্যাথিউ ব্রিটজকে পঞ্চম উইকেটে অপরাজিত ১১৪ রানের জুটি গড়ে দলকে ৬ উইকেটের জয় এনে দেন।

একসময় জয় অসম্ভব মনে হলেও হাতে চার বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে যায় সানরাইজার্স। এই জয়ের ফলে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পেয়েছে ৩২.৫ মিলিয়ন ব়্যান্ড (প্রায় ১৮.৪৮ কোটি টাকা), আর রানার্স-আপ প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের প্রাপ্তি ১৬.২৫ মিলিয়ন ব়্যান্ড (প্রায় ৯.২৩ কোটি টাকা)।

ফাইনালের শুরুতে অবশ্য দাপট দেখিয়েছিল প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস। নিউল্যান্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে টেবিল মাউন্টেনের পাদদেশে ডেভল্ড ব্রেভিস খেলেন অনবদ্য এক ইনিংস।

দল যখন মাত্র ৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছে সেই পরিস্থিতিতে ক্রিজে নেমেই পাল্টা আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। লিগের অকশনে রেকর্ড দামে কেনা এই ব্যাটার ৫৬ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন যার মধ্যে ছিল ৮টি চার ও ৭টি ছক্কা।

তাঁর এই শতরানের সৌজন্যে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস নির্ধারিত ২০ ওভারে তোলে ৭ উইকেটে ১৫৮ রান। সানরাইজার্স রান তাড়া করার সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচ ক্যাপিটালসের দিকেই ঝুঁকে রয়েছে।

তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ট্রিস্টান স্টাবস। গিডিয়ন পিটার্সের ১৮তম ওভারে ২১ রান তুলে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। এরপর লুঙ্গি এনগিডির পেনাল্টিমেট ওভার থেকে আসে ১২ রান।

উত্তেজনায় টগবগ করা নিউল্যান্ডসের দর্শকদের সামনে শেষ ওভারে ব্রাইস পার্সন্সের বলে টানা দু’টি ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের সিলমোহর বসান সানরাইজার্স অধিনায়ক।

তবে ফাইনালে দুর্দান্ত শতরানের সুবাদে ডেভল্ড ব্রেভিস নির্বাচিত হন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়। মরশুম জুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য কুইন্টন ডি কক পান মরশুমের সেরা ব্যাটার ও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

মরশুমের সেরা বোলার নির্বাচিত হন অটনিল বার্টম্যান এবং উদীয়মান তারকার সম্মান এসেছে জর্ডান হারম্যানের ঝুলিতে।

ম্যাচের পর সানরাইজার্স কোচ অ্যাড্রিয়ান বিরেল বলেন, ‘আমাদের জন্য এটা একেবারে স্মরণীয় ফাইনাল ছিল। ডেভল্ড ব্রেভিসের অসাধারণ ইনিংস, প্রতিপক্ষকে ১৫৮ রানে আটকে রাখা এবং শেষ কয়েক ওভারে ওভারপ্রতি ১৩ রান করে তাড়া করে জয়। সব মিলিয়ে দলের পারফরম্যান্সে আমি গর্বিত।’ টানা চারবার ফাইনালে ওঠা এবং তৃতীয়বার শিরোপা জয় দলের গভীরতা ও শক্তিরই প্রমাণ বলে জানান তিনি।