আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে জল্পনা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এখনও সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

সোমবারের মধ্যেই পিসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বকাপ পুরোপুরি বয়কট করার পাশাপাশি টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত-পাকিস্তান গ্রুপ ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।

বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতেই এমন ভাবনা উঠে এসেছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি জানার পর পিসিবির কার্যত মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে।

সূত্রের খবর, পুরো বিশ্বকাপ বয়কট করলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কড়া নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে পাকিস্তান। অন্যদিকে, শুধুমাত্র ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে না খেললে পিসিবির বিরুদ্ধে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলারের মামলা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফলে দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সোমবার পাকিস্তানের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সম্পূর্ণ বয়কট ছাড়াও প্রতীকী প্রতিবাদের কয়েকটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

তার মধ্যে ছিল ভারতের বিরুদ্ধে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানো, প্রতিটি ম্যাচে কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামা বা টুর্নামেন্ট চলাকালীন এক একটি জয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সমর্থকদের উৎসর্গ করা।

অন্যদিকে, রেভস্পোর্টজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করা বা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ এড়িয়ে যাওয়া কোনওটাই ঘটবে না। কারণ, পিসিবি ইতিমধ্যেই ‘মেম্বার পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’-এ সই করেছে।

যাতে সই করলে টুর্নামেন্টে খেলতে বাধ্য পাকিস্তান। এই চুক্তি লঙ্ঘন করলে আইসিসির পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতির মধ্যে এবার বড় খবর এল প্রকাশ্যে।

এখনও নাকি বাংলাদেশের কাছে সুযোগ রয়েছে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার। যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নেয়, তাহলেই সুযোগ চলে আসবে বাংলাদেশের কাছে।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান নাম তুলে নিলেই বাংলাদেশকে আরও এক বার বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তাব দেবে আইসিসি।

এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নেয়, তাহলে গ্রুপ এ–তে পাকিস্তানের বদলে খেলার প্রস্তাব দেওয়া হবে বাংলাদেশকে। পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলত। বাংলাদেশেরও দাবি ছিল তারা শ্রীলঙ্কায় খেলবে। ফলে পাকিস্তান না খেললে সেই জায়গায় বাংলাদেশকে আনলে সূচিতেও বিশেষ পরিবর্তন করতে হবে না। খেলা আয়োজনেও কোনও সমস্যা হবে না।’ 

এটা ঘটনা, পাকিস্তান বিশ্বকাপ খেলবে কি না তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। সোমবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে।

শাহবাজকে সব কিছু জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার বা আগামী সোমবার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারে পাক ক্রিকেট বোর্ড। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বল গড়াবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। তাই হাতে আর বেশি সময় নেই।

পাকিস্তান যদি সোমবার জানায় যে তারা বিশ্বকাপ খেলবে না, সেক্ষেত্রে নতুন কোনও দলকে রাজি করানোর সময় পাওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে পুরো বিশ্বকাপের সূচি নিয়ে সমস্যা হতে পারে।

যেহেতু বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল, সেই কারণেই পাকিস্তান না খেললে প্রথম প্রস্তাব বাংলাদেশকে দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে রিপোর্টে।

তবে পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ না খেলতে চায় তাহলে বড় সমস্যায় পড়বে তারা। কারণ, সেক্ষেত্রে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড, আইসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল তা ভেঙে ফেলবে পাকিস্তান।

ওই কর্তা বলেছেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের দাবিতেই হাইব্রিড মডেলে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। দুই দেশের বোর্ড ও আইসিসির মধ্যে চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান যদি না খেলে তা হলে সেই চুক্তি ভাঙা হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে কড়া শাস্তি হতে পারে তাদের।’