আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বড় ঘোষণা করল পাকিস্তান সরকার। এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে পাকিস্তান সরকার রবিবার ঘোষণা করেছে, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। কিন্তু গ্রুপ পর্বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করা হবে। বাংলাদেশের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের পর আইসিসি টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে দেওয়ায় তারই প্রতিবাদ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। 

সম্প্রতি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতের মাটিতে খেলা নিয়ে নিরাপত্তা আশঙ্কা প্রকাশ ছিল। তারা গ্রুপ পর্বের সমস্ত শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের দাবি জানালে বিষয়টি নিয়ে আইসিসি সদস্য দেশগুলির মধ্যে ভোটাভুটি হয়। সেই ভোটে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় শুধু পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। তবে বাকি ১৪টি দেশ বিসিবির দাবি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেনি। আইসিসি বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তারপরই জল্পনা শুরু হয় বিশ্বকাপে আদৌ পাকিস্তান অংশ নেবে কিনা। এমনকী, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে।

রবিবার পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে জানিয়েছে, 'পাকিস্তান ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সরকার আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে অনুমোদন দিচ্ছে।' তবে একই পোস্টে স্পষ্ট করে বলা হয়, ' আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দল মাঠে নামবে না।'

এর আগে আইসিসি-র তরফ থেকে সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ বয়কটের দাবিতে অনড় থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরোপ হতে পারে নিষেধাজ্ঞাও।

পাকিস্তান একপ্রকার বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। আইসিসি পাল্টা দিল পাকিস্তানকে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির এহেন বার্তার পরে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার অতুল ওয়াসনও গর্জে উঠেছিলেন।

তিনি বলেছেন, সমগ্র ক্রিকেটবিশ্বকে ব্ল্যাকমেল করছে। ওয়াসন মনে করেন, ক্রিকেটের মধ্যে রাজনীতি ডেকে আনা খেলাটারই ক্ষতি করছে।''

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অতুল ওয়াসন বলেছেন, ''এটা আমার মনে হয় কেবল বাহাদুরি কেনার চেষ্টা। আইসিসির চোখে ফাঁকি দিয়ে পুরো ক্রিকেটবিশ্বকে ব্ল্যাকমেল করা একটা বোকামি বাহাদুরি ছাড়া আর কিছু নয়। আমার মনে হয় পিসিবি এখন যা করছে, তা কেবল ক্রিকেট এবং ক্রিকেটারদেরই ক্ষতি করছে।

এই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে খেলোয়াড়রাই। পিসিবি ক্রিকেটকে ইস্যু করে গোঁফে তা দিচ্ছে। দুনিয়াকে দেখাচ্ছে দেখো বাংলাদেশকে সমর্থন করে আমরা নিজেদের ক্ষতিসাধন করছি।''

সব মিলিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে এখন অস্থিরতা। বাংলাদেশ নেই বিশ্বকাপে। পাকিস্তান চোখ রাঙাচ্ছে। পালটা দিচ্ছে আইসিসিও। বিশ্বকাপের বল গড়ানোর আগে থেকেই কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়ে গিয়েছে। পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে না নামলে কোনও ক্ষতিপূরণের মুখে পড়বে কিনা তা নিয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।