আজকাল ওয়েবডেস্ক: সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের সাফল্য গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পাকিস্তান। তা মূলত আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের হারানো জৌলুস ফেরানোর লক্ষ্যেই।

অনুর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপ জয়ের পর এমনটাই মন্তব্য করলেন পাকিস্তানের সিনিয়র নির্বাচক ও ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির প্রধান আকিব জাভেদ।

২০২২ সালের পর থেকে পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট ভাটা পড়েছে। শেষ তিনটি আইসিসি টুর্নামেন্টেই গ্রুপ পর্বে বিদায় নিতে হয়েছে পাকিস্তানকে।

এই সময়ের মধ্যে জিম্বাবোয়ে, আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দলের কাছে লজ্জাজনক হারও হজম করতে হয়েছে পাকিস্তানকে। একাধিক ম্যাচে দলের পুরনো ধাঁচের ব্যাটিং করে বড় মূল্য চোকাতে হয়েছে।

সম্প্রতি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পডকাস্টে এক সাক্ষাৎকারে আকিব জাভেদ জোর দিয়ে বলেন, শক্তিশালী ঘরোয়া কাঠামো ও তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্পন্ন প্রতিভা তৈরি করাই যে কোনও সফল ক্রিকেট খেলিয়ে দেশের সাফল্যের মূল ভিত্তি।

আকিব বলেন, ‘আমি ভারতের সাফল্য লক্ষ্য করেছি এবং পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতির জন্য সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। যে কোনও দেশের ক্রিকেট সাফল্য নির্ভর করে তাদের প্রতিভার মানের ওপর। আমাদের সিস্টেমে একদম প্রাথমিক বিষয়গুলো ঠিকভাবে করা থেকে আমরা অনেকটাই সরে গিয়েছিলাম। আপনি যাকেই অধিনায়ক, কোচ বা নির্বাচক করুন না কেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিভা না থাকলে, উন্নতি না হলে কিছুই বদলাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ব্যতিক্রমী প্রতিভা তুলে আনার জন্য শক্ত পরিকাঠামোর কোনও বিকল্প নেই। বেঞ্চ স্ট্রেংথ বাড়ানো এবং দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি করলেই খেলার মান উন্নত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।

আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী আকিব জাভেদ। তাঁর কথায়, ‘পরিকাঠামো ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ে, তৈরি হয় বিকল্প। ইতিমধ্যেই তার ইঙ্গিত মিলছে। আমাদের দলে ভাল খেলোয়াড় আছে, তারা একসঙ্গে ভাল পারফর্ম করছে এবং সবচেয়ে বড় কথা, এখন নির্বাচনের জন্য হাতে বিকল্পও রয়েছে। বিশ্বকাপ যদি অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকায় হত, তাহলে হয়তো ভাবনা আলাদা হত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এটাই দলের ভাল করার সেরা সময়।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঘুরে দাঁড়াতে পাকিস্তানের সামনে যে কাঠামোগত সংস্কারই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তা আকিব জাভেদের বক্তব্যে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

উল্লেখ্য, অনুর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে সমীর মিনহাসের দুরন্ত ১৭২ রানের সুবাদে পাকিস্তান তোলে ৩৪৭ রান।

জবাবে বৈভব সূর্যবংশীর ঝোড়ো সূচনার পরও চাপের মুখে ভেঙে পড়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। ১৯১ রানে জিতে শিরোপা নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের ৩৪৭ রানের জবাবে ভারত শুরুটা ঝড়ের গতিতে করেছিল। বৈভব সূর্যবংশী প্রথম ওভারেই পাকিস্তানের প্রধান পেসার আলি রাজাকে ২১ রান মারেন।

পরে মহম্মদ সাইয়ামের বলে ক্যাচ পড়ে গেলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ১০ বলে ২৬ রান করে রাজাকেই উইকেট দিয়ে ফেরেন সূর্যবংশী।

অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে এদিনও রান পাননি। দু’ওভারে বিনা উইকেটে ৩২ রান তুললেও এরপরই ধস নামে ভারতের ইনিংসে। উইকেট পড়তে পড়তে এক সময় স্কোর দাঁড়ায় ৯৪ রানে ৭ উইকেট।

অ্যারন জর্জ ৯ বলে ১৪ রানের ছোট্ট লড়াই দেখালেও তা যথেষ্ট ছিল না। খিলান প্যাটেলের ১৯ রানও শুধুমাত্র ভারতের হারকে কিছুটা আটকেই রেখেছিল।

আলি রাজা ৪২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। মহম্মদ সাইয়াম, আব্দুল সুভান ও হুজাইফা আহসান প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

শেষ দিকে দেবেন্দ্রন ১৬ বলে ৩৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ভারতীয় সমর্থকদের সামান্য আনন্দ দিলেও শেষ পর্যন্ত রাজাই তাঁর উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন।