আজকাল ওয়েবডেস্ক: পহেলগাঁওয়ের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে আরও। এমনকী, সেই সম্পর্কের রেশ পড়েছে ক্রিকেটেও।
গত বছর এশিয়া কাপে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে তিনবার। একটি ম্যাচেও আঘা সলমনের সঙ্গে হাত মেলাননি সূর্যকুমার যাদব। গোটা পাকিস্তান দলের কারোর সঙ্গেই হাত মেলাননি ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা।
এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ফের মাঠের বাইরে নতুন বিতর্কে জড়াল পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আসন্ন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড একটি নতুন প্রোমোশনাল ভিডিও প্রকাশ করে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ প্রচারের উদ্দেশ্যে তৈরি হালকা-চালের ওই ভিডিওতেই শেষ পর্যন্ত ভারতকে খোঁচা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটিতে পাকিস্তানকে এক অতিথিপরায়ণ দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সেখানে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ান সমর্থকদের পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গা ঘুরিয়ে দেখানো হচ্ছে। এমনকী, পাকিস্তান দলের অধিনায়ক সলমন আলি আঘাও সংক্ষিপ্তভাবে ভিডিওতে উপস্থিত থেকে আতিথেয়তার বার্তা দেন।
কিন্তু ভিডিওর শেষ দৃশ্যেই শুরু হয় বিতর্ক। শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, এক পর্যটক ট্যাক্সি থেকে নেমে চালকের সঙ্গে হাত না মিলিয়েই চলে যাচ্ছেন। তখন গাড়ি চালক তাঁকে ডেকে এমন একটি কথা বলেন, যা অনেকের মতে ভারতের প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ খোঁচা।
চালক বলেন, ‘হাত মেলাতে ভুলে গেলেন আপনি, হয়তো আমাদের প্রতিবেশীদের ওখানে ছিলেন।’ এই সংলাপকে ঘিরেই বিতর্ক দানা বাঁধে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ থেকে ভারতের ‘নো-হ্যান্ডশেক’ নীতির সূচনা হয়। সেই টুর্নামেন্টে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আলি আঘার সঙ্গে তিনটি ম্যাচেই হাত মেলাননি।
পরে কলম্বোতে অনুষ্ঠিত মহিলা বিশ্বকাপের ম্যাচেও ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানার সঙ্গে হাত মেলাননি।
এছাড়াও রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ ও অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ম্যাচগুলোতেও একই নীতি বজায় রাখে ভারতীয় দল। ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ভারতীয় সেনা ও পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের প্রতি সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে।
এখানেই শেষ নয়, এশিয়া কাপ জিতে ভারত এসিসি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতেও অস্বীকার করে। পরে, পিসিবি এবং এসিসি চেয়ারম্যান সেই ট্রফি দুবাইয়ের অফিসে রেখে দেন।
যা এখনও পর্যন্ত ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফের মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই মহারণ।
